• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ১২:২৬ অপরাহ্ন

লক্ষীপুরের রায়পুরে বিরোধ থামাতে গিয়ে বিপাকে পৌর কাউন্সিলর


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৮, ২০২৩, ৪:১১ অপরাহ্ন / ১৪
লক্ষীপুরের রায়পুরে বিরোধ থামাতে গিয়ে বিপাকে পৌর কাউন্সিলর

নিজস্ব প্রতিবেদক,রায়পুর,লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিস্পত্তি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন পৌর কাউন্সিলর মেহেদী হাসান শিশির পাঠান। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নিজেই হয়েছেন আসামী। মামলার জড়িয়ে হয়রানি ও অপপ্রচার চালিয়ে তাঁকেই এখন ভ‚ক্তভোগী বানানো হচ্ছে। এ ধরণের পরিস্থিতিতে তিনি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।

এ ঘটনা নিয়ে বুধবাব দুপুরে শহরের মীরগঞ্জ সড়কস্থ ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। সম্মেলনে তিনি নিজের আক্ষেপ ও ক্যান্সার আক্রান্ত ভ‚ক্তভোগী পরিবারের করুণ কাহিনী তুলে ধরেন। ওই সময় জমির মালিক রেনু পারভিন ও তাঁর স্বামী মুসলিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেনু পারভিন বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সর্দার বাড়িতে সাড়ে ৩ শতাংশ জমি কিনে আমি বাসা ভাড়া দিয়ে আসছি। ওই জমি আমি শাহাদাত হোসেন নামের একজনের কাছ থেকে কিনেছি। শাহাদাত ওই এলাকার কামাল হোসেন সর্দার নামের এক ব্যক্তির থেকে ২০ বছর আগে জমিটি কেনেন।

জমাখারিজ খতিয়ান করে পৌর কর, বিদ্যুৎ, পানিসহ অন্যান্য সুবিধাদি ভোগ করছি। কিন্তু হঠাৎ করে কামাল হোসেন আমার কাছে এক দাগে জমি ভোগ-দখল করায় বিশ লক্ষ টাকা দাবি করেন। ওই টাকা না দিলে তিনি দফায় দফায় আমার বসত বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালান। গত ৪ জানুয়ারি আবারো তিনি হামলা করলে খবর পেয়ে পুলিশ ও পৌর কাউন্সিলর মেহেদী হাসান শিশির পাঠান ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে থানার বৈঠকে কামাল হোসেন মালিকানা স্বত্ত দেখাতে ব্যর্থ হন।

তিনি আরো বলেন, আমার ক্যান্সার আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসার জন্য আমরা জমিটি বেচার উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই কামাল ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তাঁর কারণেই অর্থাভাবে আমি স্বামীর চিকিৎসাও করাতে পারছিনা। স্বামীকে যদি চিকিৎসা করিয়ে ভালো করতে না পারি, তবে এ সম্পত্তি থেকে আমার লাভটা কী!

কাউন্সিলর মেহেদী হাসান শিশির পাঠান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি সেখানে যাই। আমি যাওয়ার আগেই সেখানে পুলিশ পৌঁছে। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। জনপ্রতিনিধি ছাড়া সেখানে আমার কোনো স্বার্থ নেই। কিন্তু কামাল সর্দার এখন উল্টো আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার করছেন। আমাকে মামলার আসামী করেছেন। গত নির্বাচনে তিনি আমার সঙ্গে ভোটে হেরে যাওয়ার পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও ষড়যন্ত্র করে চলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতি, দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কামাল হোসেন সর্দার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তাঁরা তিন দাগে জমি কিনে এক দাগে জমাখারিজ করে ভোগ করতে চাওয়ায় এ বিরোধ।