• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ মার্চ ২০২৩, ০৪:১০ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে ইমদাদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২৩, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন / ১৬
রাজশাহীতে ইমদাদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীতে ইমদাদ ও তার সহোযোগীদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ আইনে দুজন নারী ভুক্তভোগী রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা ও মতিহার থানায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার দুটি যথাক্রমে (১৯/৪৬) মতিহার ও (১৬/৩৮) চন্দ্রিমা। মামলার ধারা -১০ নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০ (সংশোধীত ২০২০) তৎসহ ৩২৩/৫০৬ ; পেনাল কোড ১৮৬০ ও ধারা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইন সংশোধনী (২০০৩, ২০২০) এর ১০ সহ পেনাল কোড ১৪৩, ৪৪৮, ৫০৬ তংসহ পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর ৮ (০১), ৮(০২), ৮(০৩) ।

মামলা সূত্রে জানা যায় যে আসামী ইমদাদ সংবাদ চলমান ও সংবাদ চলমান টিভি নামীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালের মালিক। ইমদাদ তার সহকর্মী রাফিকুর রহমান ওরফে লালু, সোহাগ আলীসহ আরোও অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিন জন ব্যক্তিকে নিয়ে একজন নারী ভুক্তভোগীর শয়ন কক্ষে জোর পূর্বক দরজা ধাক্কা দিয়ে অনুমতি ছাড়ায় তার শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে ক্যামেরা এবং মোবাইল দিয়ে ভুক্তভোগীর শরীর অপ্রস্তুত থাকা অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ভিডিওটি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে।

পরবর্তীতে এ ধারণকৃত ভিডিওটি সংবাদ চলমান টিভি নামক পোর্টাল, আরডিটিভি ২৪, এবং পল্লী টিভি অনলাইন টিভি পোর্টাল এ ভুক্তভোগীর শরীরে ভিডিওসহ কথা এডিট করে মানহানিকর সংবাদ ভুক্তভোগী দূর্জয় ও জুলেখার নামে প্রচার করে। সংবাদটি প্রচার হওয়ার পর ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন রকম ব্লাকমেইল, জান ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেনবিধায় ভুক্তভোগী নিরাপত্তাহীনতায় ও মানহানিকর পরিস্থিতিতে ভুগিতেছেন।

আরও একটি মামলা সুত্রে জানা যায় যে, ২য় নারী ভুক্তভোগীকে ইমদাদ তার সংবাদ চলমান টিভি নামক অনলাইন পোর্টালে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে ২য় ভুক্তভোগী কিছু দিন কাজ করার পরে বুঝতে পারেন যে ইমদাদ সাংবাদিকতার আড়ালে একজন চাঁদাবাজ এবং অফিসে মেয়েদের কুপ্রস্তাব দেয় সেই ধারাবাহিকতায় ইমদাদ ভুক্তভোগীর দিকে কুু-নজরসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজের কু-প্রস্তাব দেয়। তার এই কুকর্মের সহযোগী পাটনার ছিলেন রাফিকুর রহমান ওরফে লালু, সোহাগ আলীসহ অজ্ঞাত নামা তিন থেকে চারজন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মামলার আসামিগন ভুক্তভোগীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের কুৎসা রটনা শুরু করে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তার গত ২ ফেব্রুয়ারী দুপুর ১২.০০ ঘটিকার সময় ইমদাদের অফিসে আইডি কার্ড জমা দিতে গেলে ইমদাদ তাকে অসৎ উদ্দেশ্যে জড়িয়ে ধরে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে। ঔ সময় ভুক্তভোগীর সহকর্মী উক্ত অফিসে আসিলে ইমদাদ তাহাকে ভয়ভীতি দেখাইয়া ভুক্তভোগীর সাথে দূর্জয় খানের অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলে স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য বলে।এরপর দূর্জয় খানকে ইমদাদ লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ছিলাফোলা জখম করে তাদের ধারণকৃত ভিডিও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় একে অপরের নামে আজে বাজে স্বীকারোক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়,। যাতে ভুক্তভোগীরা সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করতে না পারে।

মামলার বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব এস এম মাসুদ পারভেজ মহোদয় এবং মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান মহোদয় গন সত্যতা নিশ্চিত করেন। থানা সুত্রে জানা যায় যে, মামলা খবর জেনে ইমদাদ সহ তার সহকর্মীরা অফিস তালাবন্ধ করে পালিয়ে গা ঢাকা দেয়। মামলার আসামীদের গ্রেফতারের প্রকৃয়া অব্যহত আছে বলে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।