• ঢাকা
  • শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে থেকে নারীপাচারকারী চক্রের ৪ সদস্য আটক


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩, ২০২১, ১২:৪৩ অপরাহ্ন / ৮৬
রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে থেকে নারীপাচারকারী চক্রের ৪ সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ডেমরা, কেরানীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ এলাকা থেকে নারীপাচারকারী চক্রের ০৪ সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাব-৩

গতকাল সোমবার ( ২ আগস্ট ) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত র‍্যাব-৩ এর গোপন সংবাদের প্রেক্ষিতে ভিক্টিমের মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব ৩ এর আভিযানিক দল রাজধানীর ডেমরা, কেরানীগজ্ঞ ও মানিকগজ্ঞ এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারীপাচারকারী মোছাঃ শামীমা আক্তার (২১), শংকর বিশ্বাস (২৫),শেখ হানিফ মিয়া (২৮) ও মোঃ জুয়েল হোসাইন (২৯) নামের চারজন কে আটক করে। এসময় তাদের কাছে থেকে মোবাইলসহ কম্পিউটার জব্দ করা হয়।

র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) বীণা রাণী দাস জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায় শামীমা ভিক্টিমের বান্ধবী। শামীমার সাথে দুবাই প্রবাসি অপুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্ব ছিল। অপু ফেব্রুয়ারি /২০২১ মাসে দেশে বেড়াতে আসলে ভিক্টিম ও শামীমার সাথে সাইনবোর্ড নারায়ণগঞ্জ এলাকায় দেখা করে। অপু তখন ভিক্টিমকে দুবাই শপিংমলে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা বেতনে চাকুরির প্রলোভন দেখায়। অপুর প্রস্তাবে ভিক্টিম রাজী হলে, অপু ভিক্টিমকে তার পরিবারের সদ্যদের নিকট বিষয়টি গোপন রাখতে বলে। শামীমা গোপনে ভিক্টিমের পাসপোর্ট তৈরী করে দেয়। এরপর অপু দুবাই প্রবাসী উক্ত চক্রের মূলহোতা মোঃ কামাল হোসাইন (৩৮), পিতা- মৃত আব্দুল লতিফ, সাং- নরপাটি ডমবাড়ীয়া, থানা- লাকসাম, জেলা- কুমিল্লা এর মোবাইল নম্বর ভিক্টিমকে দেয়। কামাল ভিক্টিমকে মেসার্স মেহরাব এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল্স এজেন্ট, পল্টন ঢাকার টিকেট ম্যানেজার শেখ হানিফ মিয়া (২৮) এর কাছে পাসপোর্ট জমা দিতে বলে। মোঃ জুয়েল হোসাইন (২৯) দুবাই প্রবাসী। সে শেখ হানিফ মিয়ার ঘনিষ্ট বন্ধু। দুবাই প্রবাসী কামাল জুয়েলের ঘনিষ্ট বন্ধু। ঘটনার সময় জুয়েল দুবাই ছিল। সে ঈদের ছুটিতে বাড়ীতে আসে। কামাল দুবাই থেকে জুয়েলের মাধ্যমে ভিক্টিমের দুবাই যাওয়ার খরচ বাবদ ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হানিফের নিকট প্রেরণ করে। হানিফ ও তার কর্মচারী শংকর ভিক্টিমের তিন মাস মেয়াদী দুবাইয়ের টুরিস্ট ভিসা এবং বিমানের টিকিট করে দেয়। এরপর কামাল ভিক্টিমকে জানায় যে, তার ভিসা এবং টিকিট তৈরি হয়ে গেছে এবং ২৮/৪/২০২১খ্রিঃ দুপুরে হানিফের সাথে যোগাযোগ করতে বলে। ভিক্টিম তার মা ও বোনকে কিছু না জানিয়ে গত ৩০/০৪/২০২১ তারিখ রাতে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। দুবাই বিমান বন্দরে পৌঁছলে কামাল ভিক্টিমকে তার বাসায় নিয়ে যায় এবং ভিক্টিমের নিকট থেকে তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে যায়। তারপর কামাল ভিক্টিমকে জোড় পূর্বক অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করে। উক্ত কাজে ভিক্টিম রাজী না হলে সে ভিক্টিমের উপর শারীরিক নির্যাতন করে। ভিক্টিম শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার মায়ের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে তাকে উদ্ধার করার আকুতি জানায়। এরপর ভিক্টিমের মাতা র‌্যাব ৩ এ তার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য অভিযোগ জানান। ভিক্টিম জানায় উক্ত চক্রের মূলহোতা কামাল ২২ বছর ধরে দুবাই বসবাস করে। তার সুমাইয়া নামে দুবাইয়ে এক নারী সহযোগী রয়েছে । অপু প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়ের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গড়ে তোলে, এরপর তাদেরকে উচ্চ বেতনে দুবাইয়ে চাকুরীর প্রলোভন দেখায়। উক্ত প্রলোভনে রাজী হলে কামাল নিজ খরচে বিভিন্ন মেয়েদের টুরিস্ট ভিসায় দুবাই নিয়ে অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করে। বর্তমানে ভিক্টিমের সাথে তার মা যোগাযোগ করতে পারছেন না।

আসামীদের নামে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।