• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন

রাজধানীর রাজপথে দাদা-ভাইদের ভিজিটিং কার্ড : রহস্য কী?


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২৪, ৪:৫৬ অপরাহ্ন / ৯০
রাজধানীর রাজপথে দাদা-ভাইদের ভিজিটিং কার্ড : রহস্য কী?

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ রাজধানীর রাজপথে যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে রহস্যময় ভিজিটিং কার্ড। আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউজের নাম ঠিকানা ব্যবহার করে এসব ভিজিটিং কার্ড সড়কের ফুটপাত ও গণপরিবহনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আর কার্ডে দেওয়া থাকছে হরেক নামের দাদা-ভাইদের ফোন নম্বর। যা নিয়ে পথচারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

গত কয়েক দিন সরজমিনে মগবাজার, বাংলামোটর, সাত রাস্তা, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, গাবতলী, মাজার রোড ঘুরে এ সব চিত্র দেখা গেছে। সর্বত্রই মেইন রোডসহ ফুটপাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রহস্যময় দাদা-ভাইদের ভিজিটিং কার্ড। কার্ড গুলোর উপরে লেখা থাকছে প্রদীপ দাদা, অরুণ দাদা, মাটি ভাই, ইমরান ভাই, হাসান ভাইসহ আরও অনেকে নাম ও ফোন নম্বর। তবে কারা এই দাদা-ভাইয়েরা? কী তাদের কাজ, কেনই বা এমন অফার?

রহস্য খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, দেহ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্র হঠাৎ করে ভিন্ন কৌশলে সরব হয়ে উঠেছে। এ সব ভিজিটিং কার্ড ফেলে আকৃষ্ট করা হয় এবং কৌশলে করা হয় দেহ ব্যবসা। সব ভিজিটিং কার্ডেই রয়েছে চক্রের সদস্যদের নাম ও ফোন নম্বর।এর আগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস ও গণপরিবহনে ভিজিটিং কার্ড বিলি করছে দেখা গেলেও এবার নতুন করে পথে পথে ছিটিয়ে রাখার কৌশলে নেমেছে চক্রটি। এরা মূলত যৌনকর্মীদের দালাল হিসেবে পরিচিত। দ্রুত যৌন ব্যবসা প্রচারের লক্ষ্যে সম্প্রতি তারা এ কৌশল বেছে নিয়েছে।

উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী, অভাবগ্রস্থ কর্মহীন নারী এবং স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে অভিনব কায়দায় প্রচারে নেমেছে চক্রটি। এরা রাতের আঁধারে কিংবা নিরিবিলি সময়ে নতুন রঙিন ভিজিটিং কার্ড রাস্তায় এমন ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে যাতে সহজেই পথচারীদের নজরে পড়ে। অনেকে এদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন। আর ফাঁদে পড়ে ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি হতে হচ্ছে।

কেউ যদি এদের ফোন দেয় দাদা-ভাইয়েরা সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের প্রস্তাব দেওয়া শুরু করেন। চলে আসতে বলেন ঠিকানায়। জানানো হয়, শতভাগ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। এরপর কথার প্যাচে প্রশ্ন করা হয়- ইনজয় করতে চান? যত ধরনের ফ্যাসিলিটি আছে দেব। ৫০০ থেকে শুরু করে ঘণ্টায় ১৫০০, ২০০০, ২৫০০ থেকে পুরো নাইটেরও ব্যবস্থা আছে বলে জানায় তারা।

সাত রাস্তা সড়কে জিহাদ নামের এক পথচারী বলেন, আমিও ভাই অনেক দিন ধরেই ফুটপাতে এমন ভিজিটিং কার্ড পড়ে থাকতে দেখছি। আমারও আগ্রহ জাগে কার্ড গুলো কারা এখানে ফেলে রেখে যায় তা দেখতে। একদিন খেয়াল করলাম বোরকা পরা এক মেয়ে এমন বেশ কিছু কার্ড ফুটপাতে ফেলে দ্রুত হাঁটা শুরু করল। পেছন থেকে ডাক দিলে ওই মহিলা হাঁটার গতি বাড়িয়ে কেটে পড়ল। তিনি আরো জানান, আগে ফুটপাতে এই কার্ড কম দেখা যেতো। এখন প্রায় প্রতিদনই যেন কার্ডের সংখ্যা বাড়ছে। কোনো কোনো দিন ওরা দুই-তিনবার করে এসে এসব কার্ড ফেলে রেখে যায়। কৌতুহলে একদিন ফোন দিয়ে বুঝলাম আসল ঘটনা কী।

নতুন করে এমন দৃশ্য রাজধানীতে চোখে পড়লেও এই ব্যবসা পুরনো। তবে অপরাধীরা তাদের কৌশল পাল্টেছে।