• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর মুগদার ‘ফ্রিডম রাজা’ এখন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১১, ২০২১, ৮:৩৪ অপরাহ্ন / ১১৩০
রাজধানীর মুগদার ‘ফ্রিডম রাজা’ এখন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক

বিশেষ প্রতিনিধিঃ দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সে নিয়ন্ত্রণ করছে এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি। অবৈধ ক্যাসিনো, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ নানা ক্ষেত্রে সরকারের শুদ্ধি অভিযানের ফলে একে একে বেরিয়ে আসছে লেবাস পাল্টানো একশ্রেণির নেতার ভয়াবহ অপকর্মের নানা তথ্য-প্রমাণ। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকা এসব ‘মুখোশধারী’ প্রভাবশালী নেতার কুকীর্তি ধীরে ধীরে উন্মোচন হচ্ছে।

এক সময় যারা আওয়ামী লীগকে প্রধান শত্রু টার্গেট করে রাজনীতি করেছে, তারাই এখন ক্ষমতাসীন দলে সুবিধাজনক পদ-পদবি পেয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের এসব পদ-পদবি ব্যবহার করে এলাকাভিত্তিক প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করছেন এসব ‘হাইব্রিড’ নেতা। স্থানীয় এমন বেশকিছু নেতার মধ্যে রাজধানীর মুগদা থানার ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া খান রাজা। এ রকম আরও কয়েকজনের বিষয়েও জানা গেছে নানা অপকর্মের তথ্য।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, মুগদার গোলাম কিবরিয়া খান রাজা শিবির থেকে ফ্রিডম পার্টি হয়ে মাত্র পাঁচ বছর আগে আওয়ামী লীগে জায়গা করে বাগিয়ে নিয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো পদ।

এছাড়া এরকম আরও অনেকেই পুরো উল্টো আদর্শের রাজনৈতিক দল করেও বর্তমানে ক্ষমতা ও টাকা কামানোর জন্য আওয়ামী লীগের জায়গা করে নিয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে মূলত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় ও মধ্যম পর্যায়ের একশ্রেণির নেতা দায়ী বলে মনে করেন অনেকেই। কারণ মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েই অন্য দলের সুবিধাবাদী ওই নেতারা গুরুত্বপূর্ণ পদ কিনেছেন। অন্য দলের ‘মুখোশধারী’ এসব নেতাই আওয়ামী লীগের ব্যানারে সবচেয়ে বেশি অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর মুগদা থানার ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া খান রাজা ১৯৮৩ সালের ৩ আগস্ট তৎকালীন ইন্টারকন্টিনেন্টাল (সাবেক শেরাটন) হোটেলে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুক, রশীদ ও ডালিমদের হাত ধরে ফ্রিডম পার্টিতে যোগ দেন। ওই সময় কর্নেল ফারুকই তাকে ফ্রিডম রাজা বলে নাম দিয়েছিল।

কেবল দলে ঠাঁই নয়, বাগিয়ে নেন ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও। আওয়ামী লীগে ঠাঁই ও দলীয় পদ পেতে গোলাম কিবরিয়া রাজা কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছেন বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোলাম কিবরিয়া খান রাজা মুগদা আওয়ামী লীগের ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার পরপরই মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আশপাশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। ওই হাসপাতালের টেন্ডার ও মালামাল সরবরাহ থেকে শুরু করে সবকিছুই এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন রাজা। এমনকি হাসপাতালকেন্দ্রিক ওই এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজিও নিয়ন্ত্রণ হয় তারই মাধ্যমে। শিবির বা ফ্রিডম পার্টি থেকে মাত্র পাঁচ বছর আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন মুগদার ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন,স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীকে অন্ধকারে রেখে তারই আশপাশের লোকজন রাজাকে দলে ভেড়ানো ও পদ প্রদানের কাজটি করেছেন। অথচ এই রাজাসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন মুগদা কমিউনিটি সেন্টারে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরীর ওপর হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মুগদার ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া খান রাজা সাংবাদিকদের কে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ বলা হচ্ছে তার কোনোটিই সঠিক নয় বলে সে জানান।