• ঢাকা
  • রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে নিম্ম-আয়ের মানুষ কম দামের খাবারের দিকে ঝুঁকছে


প্রকাশের সময় : মার্চ ৬, ২০২৩, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন / ৫০
রাজধানীর ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে নিম্ম-আয়ের মানুষ কম দামের খাবারের দিকে ঝুঁকছে

এম রাসেল সরকার, ঢাকাঃ খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে অনেক নিম্ম-আয়ের মানুষ এখন বাসায় রান্না না করে কম দামি খাবারের দোকানে ঝুঁকছেন। পরিবার নিয়েও অনেকে খাচ্ছেন এসব দোকানে। অন্যদিকে খরচ কমাতে যারা আগে ভালো মানের হোটেলে খেতেন তারাও ফুটপাতের খাবারের দোকানে খাচ্ছেন। দোকানিরা বলছেন, অনেক ধরনের মানুষই খেতে আসে।

তবে বেশির ভাগই ভাজি-ভর্তাসহ কম দামের খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। আর বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক, দিনমজুরসহ ছিন্নমূল মানুষও এসব খাবার খাচ্ছেন। তবে নিত্য পণ্যের দাম বাড়ায় খাবারের মানও কমেছে, বিক্রিও কমেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, সদরঘাট, কাওরান বাজার, আগারগাঁও, মিরপুর, মগবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ফুটপাতের অনেক স্থানে খাবারের দোকানে খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেকে ঘুরে ঘুরে খাবার বিক্রি করছেন। এসব দোকানে মানুষ ভিড় করে খাবার খাচ্ছেন। যারা খাবার খাচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগ নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ।

ভ্রাম্যমাণ দোকান গুলোতে ভাত, ভর্তা, মাছ, ডাল, ডিম ও সবজির আইটেম থাকে। এখানে ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে ভরপেট খাবার খাওয়া যায়। কিন্তু হোটেলে খাবার খেতে গেলে কমপক্ষে ১০০ থেকে শুরু করে আরো বেশি টাকা লাগে। এ কারণে ফুটপাতের খাবারের দোকানে মানুষের ভিড় বেশি থাকে জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

গুলিস্তান এলাকায় ফুটপাতের দোকানে ভাত খাচ্ছিলেন সিকিউরিটি গার্ড হানিফ আলী। তিনি বলেন, আমাদের যে আয়, তা দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। প্রতি মাসে বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়। নিজেরও খরচ আছে। জিনিস পাতির দাম যে ভাবে বেড়েছে তাতে ফুটপাতের হোটেলে কোনো মতো খেয়ে বেঁচে আছি।

অন্যদিকে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে-২ এ ফুটপাতে প্যাকেজ আকারে খাবার বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে দুপুর বেলায় এ সব ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান পরিচালনা করা হয়। এখানে নিম্ম-আয়ের মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও খেতে দেখা গেছে। বসার জায়গা না পেলেও দাঁড়িয়েই খাচ্ছে অনেকেই। মতিঝিল এলাকায় দুপুর বেলা বিভিন্ন অফিসের কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে খাবার খেতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে কম দামি কিছু ছোট ছোট রেস্তোরাঁয়ও এখনো মানুষ কম দামে খাবার খাচ্ছে। কাওরান বাজারের কিছু হোটেল ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ আড়ত শ্রমিক এ খাবার খাচ্ছে। মেসে থাকলেও রান্না না করে তিন বেলাই হোটেলে খাচ্ছে তারা।

এমনি এক ফলের আড়তের শ্রমিক সাইফুল ইসলাম। যিনি তিন বেলাই হোটেলে খান। তিনি জানান, তারা তিন জন মিলে একটি রুমে থাকেন। তাদের বাসায় কোনো রান্না হয় না। তারা সবাই বাইরে হোটেলে খাচ্ছেন। একে তো রান্না করার ঝামেলা, অন্যদিকে খাদ্যদ্রব্যের দামের কারণে খরচ প্রায় সমান বা বেশিই পড়ে যায় বলে তারা হোটেলেই খাচ্ছেন বলে জানান।

কাওরান বাজারে স্বপ্নীল নামে একটি হোটেলের ম্যানেজার মাকসুদ আলম জানান, তাদের বেশির ভাগ কাস্টমারই শ্রমিক বা নিম্ম আয়ের মানুষ। তবে মাঝে মধ্যে এখন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষও পাচ্ছেন বলে তারা জানান। তবে তাদের আক্ষেপ জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে তাদের তেমন লাভ হচ্ছে না। আবার কাস্টমারও কমে গেছে। যার কারণে তারা দোকানের কর্মচারী কমিয়ে ফেলছেন বলে জানান।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, সব কিছুর দাম বাড়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকরা বেশ বিপদে আছেন। আমাদের বিষয়টা নিয়েও ভাবা দরকার। এ বিষয়ে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা কামনা করছি।