• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর দিয়াবাড়ি কাঁচাবাজার : ভোরে বসে সকালেই খালি


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২০, ২০২১, ৩:১১ অপরাহ্ন / ২৯০
রাজধানীর দিয়াবাড়ি কাঁচাবাজার : ভোরে বসে সকালেই খালি

ঢাকা : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সবজির অসংখ্য খুচরা ও কাঁচাবাজার রয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে এসব বাজারের আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। যেমন ধনী ক্রেতার আধিক্যের কারণে হাতিরপুলের কাঁচা বাজারকে ‘বড়লোকের বাজার’ এবং মানিকনগরের ওয়াসা রোডের কাঁচা বাজারে বেশির ভাগ বিক্রেতা নারী হওয়ায় এই বাজারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বউ বাজার’ । এমনই ভাবে মিরপুর-১ এর দিয়াবাড়ি পাইকারি কাঁচাবাজারেরও বিশেষত্ব রয়েছে। ভোর থেকে বেচা-কেনা শুরু হয়ে সকাল ১০টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বাজারটির কার্যক্রম। এরপর আর সেখানে কোনও লোকজন থাকে না। এই সময়ের বাইরে ওই এলাকায় গেলে বোঝাই যাবে না আসলে সেখানে বড় ধরনের কোনও পাইকারি কাঁচাবাজার বসে।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঁচা পণ্যের ট্রাক-পিকআপগুলো আসতে থাকে মিরপুর ১ নম্বরের এই কাঁচাবাজারে। ট্রাক বা পিকআপ আসার সঙ্গে সঙ্গে পণ্যসামগ্রী নামাতে ব্যস্ত থাকেন শ্রমিকরা। রাত ১২টার পর থেকে কাঁচামাল নামাতে নামাতে ভোর হয়ে যায়। শ্রমিকরা বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ সাভার এলাকা থেকে শুরু করে দিনাজপুর, রাজশাহী, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঁচামাল এখানে আসে। ভোর থেকে ক্রেতাদের আনাগোনায় শুরু হয় বেচা-কেনা। কাঁচাবাজারের স্থান পেরিয়ে রাস্তায় চলে বিক্রি।

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সরেজমিন ওই বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শাহ আলী মাজারের জায়গায় স্থাপিত এ কাঁচাবাজারটি তিনটি ভাগে বিভক্ত। তিনটি অংশের একটি অংশে দুটি কাঁচা শাকসবজির আড়ত এবং অন্যটি ফলের পাইকারি আড়ত। শাহ আলী মাজার কমিটির কাছ থেকে দৈনিক ভিত্তিতে ভাড়া নিয়ে চলছে এই পাইকারি কাঁচাবাজারের আড়ত।

বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা যায়, শাকসবজি এবং কাঁচা পণ্য ভ্যানে তুলছেন চালকরা। তারা বলেন, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত তিন থেকে চারটি ট্রিপ মারতে পারি। কোন কোন জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হয় পণ্য জানতে চাইলে তারা জানান, মোহাম্মদপুর, আদাবর, হাজারীবাগ, মিরপুর-১৪, কালশি, আগারগাঁও, শ্যামলী, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় তারা মালামাল পৌঁছে দিয়ে থাকেন। এসব এলাকার বিভিন্ন খুচরা দোকানগুলোতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এসব পণ্য। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে যারা ভ্যানে করে কাঁচামাল বিক্রি করেন, তাদের পদচারণা এখানে বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন ধরনের পণ্য বাজার ঘুরে ঘুরে দাম যাচাই করে কিনছেন তারা।কারও নিজস্ব ভ্যান রয়েছে, আবার কারও ভ্যান ভাড়া করা।

মাজার রোডের এই কাঁচাবাজারে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে মিরপুর শাহ আলী মাজারের পাশে পাইকারি এ বাজার বসতো। বছর আড়াই কিংবা তিন হবে, এখন দিয়াবাড়ির এই জায়গাটি কাঁচা বাজারের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে মাজার কমিটি। এখান থেকেই ক্রেতারা বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী কিনে নিয়ে ফেরি করে অলিগলিতে বিক্রি করে।

আট বছর ধরে কাঁচাবাজার আড়ত পরিচালনা করলেও দিয়াবাড়ি এই আড়তে তিন বছরের মতো ব্যবসা করছেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী রুহুল আমিন।তিনি বলেন, সিজন অনুযায়ী বিভিন্ন কাঁচা পণ্যের ব্যবসা করে থাকি‌। এখন শুধু টমেটোর আড়ত পরিচালনা করছি। একদিন পরপর ট্রাকে করে রাজশাহী থেকে টমেটো দিয়ে যায়। টমেটোর সিজন শেষ হলে আবার অন্য যেমন: আম, বাঙ্গি নিয়ে এসে বিক্রি করে থাকি। ভোর থেকে বেচা বিক্রি শুরু করি। সকাল ৯টা-১০টার মধ্যে এই আড়তের বিক্রি শেষ হয়ে যায়। আবার রাতে আসি, দিনের বেলায় কেউ থাকি না।

কাঁচামাল (ফুলকপি) ব্যবসায়ী মাসুম বলেন, আমাদের ফুলকপি আসে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও থেকে। রাত থেকে কাজ শুরু হয়। দেখতে পারছেন এখন সকাল সাড়ে সাতটার মতো বাজে, মাল বিক্রি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই পাইকারি মার্কেটটিতে সবারই বিক্রি একই রকম। সকালের মধ্যে সবার বিক্রি শেষ হয়ে যায়। বিশেষ করে আমাদের নির্ধারিত অনেক ব্যবসায়ী রয়েছে তাদের কাছে মাল ডেলিভারি দিতেই শেষ হয়ে যায়। তবে যারা খুচরা কিনতে আসেন, পাঁচ কেজির কমে আমরা বিক্রি করি না। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে সবার বেচা শেষ হয়ে যায়। তারপর থেকে বাজার অনেকটাই খালি পড়ে থাকে।

কী প্রক্রিয়ায় বাজারটি পরিচালিত হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ আলী মাজারের ম্যানেজার মোরশেদ আলম বলেন, মাজারের নতুন কমিটি হয়েছে। কিন্তু পুরনো কমিটি যাদের দোকান বা জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিল, তাদেরটা এখনও বহাল রয়েছে। নতুন কমিটি পরে সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দৈনিক ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া রয়েছে। মার্কেটের পাশে আড়ত কিংবা পাইকারি বাজার যাই বলুন না কেন, এর আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নতুন আরেকটি স্থাপনার কাজ চলছে।

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) এ বাজারে পণ্যের যা দাম ছিল—ফুলকপি প্রতি পিস ২৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, গাজর কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ১২০-১৪০ টাকা, করোলা কেজিপ্রতি ৩২ টাকা, টমেটো ৫ কেজি ১৮০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া কেজি প্রতি ২৩ টাকা, শসা ১৪০ টাকা ৫ কেজি, সিম ৫ কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।