• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

রাজধানীতে মেট্রোরেলসহ সরকারি প্রকল্পের মালামাল চুরিতে ভয়ঙ্কর চোর সিন্ডিকেট


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১, ৯:০৬ অপরাহ্ন / ৩১৮
রাজধানীতে মেট্রোরেলসহ সরকারি প্রকল্পের মালামাল চুরিতে ভয়ঙ্কর চোর সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর শাহআলী এলাকা হতে মেট্রো রেল প্রকল্পের মালামাল চুরির সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ১১ সদস্য’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র‌্যাব)। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা অনুসন্ধানের মাধ্যমে সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে র‌্যাব-৪ এর একটি দল রাজধানীর শাহআলী থানাধীন বেরিবাধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে।

এ সময় চোরাইকৃত ১৮ টি আইবীমসহ ১ টি ট্রাক ও প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক(সিও) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেক হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ঢাকা মহানগরীর শাহআলী থানাধীন এলাকায় সংঘবদ্ধ একটি চোরাকারবারী চক্র দীর্ঘ দিন যাবত মেট্রো রেল প্রকল্প ছাড়াও সরকারের আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আইবীম ছাড়াও অপ্রয়োজনীয় লোহা, ইস্পাত, তার, মেশিন কৌশলে চুরি করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অতি চতুর চোরাই দল বিভিন্ন পন্থায় চোরাই দ্রব্য দ্রুত খন্ড খন্ড করে কেটে তা বিভিন্ন ভাঙ্গারী ও চাহিদাকারী ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রয় করে আসছে।

ওই সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে শাহআলী থানাধীন বেরিবাধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চোরাইকৃত ১৮ টি আইবীম যার ওজন ৪০ টন (বাজার মূল্য ২৫ লাখ টাকা), ১ টি ট্রাক, ১ টি প্রাইভেটকার, নগদ ৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা ও ১৬ টি মোবাইলসহ সংঘবদ্ধ চোরাকারবারী চক্রের ১১ জন সদস্য’কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন, চোরচক্রের সদস্য মোতালেব শিকদার (৫৪),নজরুল ইসলাম (৪৪), হাবিব উল্লাহ ভুঁইয়া (৪৩), ওয়ালীউল্লাহ ওরফে বাবু (৪১), দালাল চক্রের সদস্য সুমন ঘোষ (৪৩), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৮), আব্দুস ছাত্তার (৫৮), মো. আশিক (৩১), আমজাদ হোসেন রাজন (৩৬), মো. মনির (৪০) ও মো. রিয়াজুল (২০)।

চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি বিশেষ সংঘবদ্ধ চোরাকারবারী চক্রের সাথেও জড়িত। তারা পরস্পর যোগসাজোশে কিছুদিন যাবত ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প ছাড়াও আরো গুরুত্বপূর্ন প্রকল্পের আইবীম ছাড়াও অপ্রয়োজনীয় লোহা, ইস্পাত, তার, মেশিন কৌশলে চুরি করে খন্ড খন্ড করে কেটে তা বিভিন্ন ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রয় করে আসছিল।

অপরাধের কৌশল: গত কয়েক বছর যাবত ঢাকাসহ আশপাশ জেলাসমূহে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব প্রকল্পের কার্যক্রম চলাকালে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণস্তুপ আকারে থাকাকালে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি দলটি সু-কৌশলে সুবিধা বুঝে সুযোগ মতো চুরি করে তাদের পছন্দ মতো গোপন একটি জায়গায় নিয়ে এসে সেগুলো কে সহজে বহনযোগ্য করে বিভিন্ন ক্রেতাদের নিকট তা বিক্রয় করে থাকে। চোরাই চক্রটি মূলত এই চুরির কাজটি কয়েক ধাপে সম্পন্ন করে থাকে।

তথ্য প্রদান: প্রথমে এই চোরাকারবারি চক্রটি সু-কৌশলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেই অনুযায়ী চুরির পরিকল্পনা করে থাকে।

সাহায্যকারী ব্যক্তি: পরবর্তীতে চক্রটি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রজেক্টের আরোও অন্যান্য লোকজনের সহায়তায় বিভিন্ন উপকরণ সুবিধা বুঝে সুযোগ মতো চুরি করে তাদের পছন্দ মতো গোপন একটি জায়গায় নিয়ে লুকিয়ে রাখে।

দালাল (বিভিন্ন ধাপ): এই ধাপে একটি গ্রুপ চোরাইকৃত উপকরণসমূহ পরিবর্তন পরিবর্ধন করে সহজে বহনযোগ্য করে থাকে। পরবর্তীতে মালামালসমূহ ক্রয় করে ক্রেতাদের সাথে প্রথম ধাপের চোরাই দলের সাথে যোগাযোগ করে দেয়।

ইচ্ছুক ক্রেতা: মূলত চোরাইকৃত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের কাজটি সম্পন্ন করা হয়ে থাকে ইচ্ছুক ক্রেতারা। এতে চোরাই চক্রটি তাদের চোরাইকৃত পরিবর্তন ও পরিবর্ধনকৃত মালামাল তাদের পূর্বে থেকে নির্ধারিত ক্রেতাদের নিকট একটি নিদিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করে থাকে। চোরাই চক্রসহ অন্যান্য চক্রের আরও অনেক পলাতক আসামী রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।