• ঢাকা
  • শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:০৬ অপরাহ্ন

যশোরের শার্শা আসনে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাবেক মেয়র লিটন


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৩০, ২০২৩, ৬:৩০ অপরাহ্ন / ১২২
যশোরের শার্শা আসনে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাবেক মেয়র লিটন

নিজস্ব প্রতিবেদক, শার্শা, যশোরঃ যশোর-৮৫ (শার্শা)১ আসনে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনায়নপত্র জমা দিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বেনাপোল পৌর সভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন

দীর্ঘ ১৫ বছর অত্যাচার নিপীড়ন মামলা হামলা শোষন এর হাত থেকে বাঁচতে এবং নেতা পরিবর্তন সাংসদ পরিবর্তন এর দাবিতে শার্শার সকল শ্রেনীর মানুষ এর জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনায়ন জমা দিয়েছে যশোর জেলা আওয়ামলীলীগের যুম্ম সাধারন সম্পাদক ও বেনাপোল পৌর সভার সাবেক জননন্দিত আধুনিক বেনাপোলের রুপকার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।
বুধবার বেলা ১.২০ ঘটিকার সময় তিনি নেতা কর্মীদের নিয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ন্দ চন্দ্র পাল এর কাছে এ মনোনায়নপত্র জমা দেন। এসময় উপজেলা নির্বাচন অফিসার কামাল উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টায় শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে  মনোনায়ন জমা দেওয়ার জন্য  উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে দোয়া অনুষ্টান অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মেয়র লিটন বলেন, আমি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন ছাত্র রাজনীতি থেকে আজ যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি কি ভাবে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনায়ন জমা দিব। আমি আপনাদের ভালবাসায় মায়ায় আপনাদের পাশে থাকব। শত সংকটে আপনাদের ছেড়ে আমি যাব না। একথা বলার পর উপজেলা নেতা কর্মীরা মুর্হুমুর্হু শ্লোগান দিতে থাকে আমরা কোন কথা শুনতে চাই না আমরা আপনাকে সাংসদ হিসাবে দেখতে চাই। আপনাকের অর্থ দিয়ে নির্বাচন করতে হবে না। আমাদের সাধ্যমত যার যে টুকু অর্থ দেওয়ার সামর্থ আছে তাই দিয়ে নির্বাচিত করব। তবু এই অত্যাচারী জুলূম সাংসদ থেকে মুক্তি পেতে চাই। এই বলে নেতা কর্মীরা মেয়র লিটনকে যার যে টুকু সামর্থ শুধু নির্বাচন করার জন্য সেই অনুযায়ী অর্থ তুলে দেয় লিটন এর হাতে। নেতা কর্মীরা দ্বাদশ সাংসদ নির্বাচনে তাকে অংশ নিতে তুমুল  হট্রগোল শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মনোনায় জমা দিতে বাধ্য হন।

বেনাপোল পৌর সভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, আপানাদের ভালবাসায় আজ আমি সিক্ত। দল মত নির্বিশেষে আজ যে ভাবে আপনাদের ভালবাসা আমাকে দিয়েছেন আমি দলীয় মনোনায়ন না পেলেও কোন কষ্ট নেই। তবে নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দিতা মুলক। নির্বাচনে আমাদের বিপরীতে যিনি নির্বাচন করবে পরাজয় নিশ্চিত মনে করে ভোট কেন্দ্রে আপনাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। মামলা হামলা করতে পারে। কোন কিছুর ভয় না করে আপনারা এগিয়ে যান আপনারা মাঠে কাজ করেন এবং মা বোনদের আমার সালাম পৌছে দিন।

তিনি বলেন, আমি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবি সাংস্কৃতিক সংগঠন করা একজন মানুষ। আমার অফুরন্ত সাহস ও শক্তি রয়েছে। মানুষের প্রতি রয়েছে ভালবাসা, প্রেম এবং সমাজের কাছে রয়েছে অনেক দায়বদ্ধতা। কারণ ৩০ লক্ষ মানুষ প্রান দিয়ে আমাদের দিয়ে গেছে একটি স্বাধীন সার্বোভৌম রাষ্ট্র।  তিনি বলেন, জাতির জনকের কন্যা শত সংকটে শত বাধা পেরিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে অত্যান্ত সাহস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন সাংবিধানিক বাধ্য বাধকাতার  মধ্যে দিয়েও করতে হবে নির্বাচন। তবে এই নির্বাচন হবে অত্যান্ত উৎসব মুখর। তিনি বলেন বর্তমান সাংসদ গত ১৫ টি বছর বে- ইনসাবি ভাবে শার্শা পরিচালিত করেছেন। এ সময় অনেক ছাত্র, চেয়ারম্যান, যুবলীগ নেতা খুন হয়েছেন। তার একটি পরিবারও বিচার পায়নি। তাদের প্রতি বেইনসাবি ভাবে বিচার করা হয়েছে। তিনি বলেন একটি আসনে নির্বাচন হোক উৎসব মুখর। তিনি বলেন এক সময় বর্তমান সাংসদকে আমরা এনেছিলাম শার্শায় হাজারো মানুষের মিছিল দিয়ে। আজ সেসব মানুষ কোথায় গেছে। আজ জোর করেও লোক জোগাড় করতে পারছে না। সে লাইন আর নেই। তিনি এসময় বলেন আসেন জোর নয়, জুলূম নয়, অত্যাচার নির্যাতন নয় আমরা শান্তিপুর্ন ভাবে একটি নির্বাচন করি। কারো ভোট আমাদের কারো চুরি ডাকাতি করার প্রয়োজন নেই। জনগন ভালবেসে যাকে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে তাকে আমরা বরন করে নিব।

লিটন বলেন, আজ আমাদের কারো প্রতি অত্যাচার নির্যাতন করার প্রয়োজন আছে কি? কারন যে মাটি আমাদের সকালে পায়ের নিচে বিকালে সেই মাটি আমাদের বুকের উপর। তাই আমার সপ্ন ছিল এবং আমি স্বপ্ন দেখি শার্শা আমার অহংকার। কারন এই শার্শার একটি শিশু হেরে গেলে শার্শা হেরে যাবে। একটি শিশু হেরে গেলে দেশ হেরে যাবে। তাদের নিয়ে আমার স্বপ্ন ছিল এবং আছে এই শার্শার প্রতিটি ইউনিয়নে হবে খেলাধুলার জন্য দুটি করে মাঠ। সেখানে উপজেলা ক্রীড়া অফিস থেকে কি দেয় সেটা জেনে বাকি খেলাধুলার সরঞ্জাম আমরা দিব। এসময় তিনি বলেন আজ আমার পিতার নামে বেনাপোল যে একটি একাডেমি আছে সেই একাডেমির ছেলেদের একজন ১ কোটি টাকা ও আর একজন ৪০ লক্ষ টাকায় ঢাকায় খেলায় চুক্তি বদ্ধ হয়েছে। এটা আমাদের অহংকার । এছাড়া ১১ টি ্ইউনিয়নে ১১ টি স্পোর্টস কাব খুলে দিতাম এটা আমার স্বপ্ন। এবং সেখানে ক্রিকেট ফুটবল এর সকল উপকরন ও আমরা দিতাম। এ সকল উন্নয়ন করতে পারলে আমাদের শার্শার উন্নয়ন হবে। মানুষ শুধু টিয়ার কাবিখার জন্য এমপি বানায় না মানুষ। আজ টিয়ার কাবিখার অর্থ লুটপাট করে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। তিনি বলেন আমার হাওড় বাওড় দখল নয়। আমরা এসব হাওড় বাওড় প্রকৃত মৎসজীবিদের হাতে তুলে দিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহর কাজ করতে দিতাম। আর এসব হাওড় বাওড়ের  চারপাশে পাকা করে দিতাম যা হতো দৃষ্টি নন্দন। আমি বেনাপোল পৌর সভায় যেমন মায়েদের শেলাই মেশিনের কাজ শিখিয়ে স্বাবলম্বী করেছি তেমনি উপজেলায় ও এরকম একটি প্রশিক্ষন এর ব্যবস্থা করতাম যেখানে মায়েরা কাজ শিখে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারত। এজন্য উপজেলা পরিষদে থাকত একটি নারী কর্নার। এবং প্রতিটি পিছিয়ে পড়া নারীকে একটি করে শেলাই মেশিন প্রদান করা। আমার স্বপ্ন ছিল সুযোগ পেলে মানুষ হবো। এই সুযোগ হচ্ছে যারা সুবিধা বঞ্চিত তাদের শিক্ষার আওতায় আনতাম। শতভাগ শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসতাম। তিনি আরো বলেন আমার সব থেকে বড় স্বপ্ন ছিল আমাদের দেশের ৮০ ভাগ  কৃষককে উন্নয়ন করা। প্রযুক্তি এত উন্নয়ন হয়েছে যে আমাদের কৃষক তা জানে না। আজ যে কৃষকদের যে সব দেশে ৪০ থেকে ৫০ মন ধান উৎপন্ন হয়। সে সব দেশের প্রযুক্তি নিয়ে আমাদের কৃষকদের ২৫ থেকে ৪০/৫০ মন ধান নিয়ে কি ভাবে উৎপন্ন হয় সে প্রশিক্ষন দেওয়া। এসব চিন্তা ভাবনা আপনাদের বর্তমান সাংসদের আছে কি? আজ আপনারা আমাকে মনোনায়ন জমা দিতে বলছেন আমি আপনাদের ভালবাসায় মনোনায়ন জমা দিব। আপনারা তাই কোন ভয় ভিতি হুমকি ধামকি না মেনে নিয়ে ভোটের মাঠে যাবেন এবং ভোট দিবেন। কারন জননেত্রি বলেছেন আমাদের উৎসব মুখর নির্বাচন দেখাতে হবে। ৭০% ভোট দেখাতে হবে। তাহলে আমাদের ভোট কেন্দ্রে যেতে ভয় কি। আসেন আজ ২০ বছর আপনি শার্শায় আছেন আপনি আমি ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে দেই। আজ আপনি মনোনায়ন পাওয়ার পর আমার বাড়িতে আমার আত্নীয়র বাড়ি এবং রফিকুল ইসলামের অফিসে বোমা মারেন। এ থেকে সরে যান মানুষকে সুস্থ ভাবে বাঁচতে দিন।

তিনি আরো বলেন অন্যর স্বাধীনতা হরন করে জনপ্রতিনিধিত্ব করা যায় না। শুভ শক্তিকে পিছিয়ে দিয়ে অশুভ শক্তিকে এনে রাজনীতি করা যায় না।  এসব জুলুম বাজদের অত্যাচার নির্যাতন এর সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আজ এই সমাজে অযোগ্য অমেধাবীদের বিষ বাস্পে ভরে উঠেছে। আজ সমাজে অযোগ্যরা বিচার করে। এসব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ফজলুল হক বকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইলিয়াছ আযম, সাংগঠনিক সম্পাদক  আব্দুল মালেক, দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান, বন ও পরিবশে বিষয়ক সম্পাদক শেখ সারোয়ার, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শেখ কোরবান আলী, বেনাপোল পৌর সভার সাবেক প্যানেল মেয়র সাহাবুদ্দিন মন্টু, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুহুল কুদ্দুস ভুইয়া,উলাশী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, লক্ষনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম, পুটখালী ইউপি মেম্বর মোক্তার আলী ,বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী, আওয়ামি নেতা মিজানুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, যশোর জেলা আওয়ামী সাংস্কুতিক ফোরামের কার্যনির্বহী সদস্য জাকির হোসেন আলম।