• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং খিদিরপাড়ার আতঙ্ক রনি বিশ্বাস


প্রকাশের সময় : মার্চ ১০, ২০২৪, ৮:১৬ অপরাহ্ন / ২০৬
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং খিদিরপাড়ার আতঙ্ক রনি বিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ লৌহজংয়ে মাদক ব্যবসায়ী রনি বিশ্বাসের হামলার আতঙ্কে এলাকাবাসী, এমনটাই অভিযোগ উঠে আসছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের সুভরিয়া গ্রামের রবি বিশ্বাস এর ছেলে রনি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও রাতের আধারে সাধারন মানুষদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা পয়সা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে সুভরিয়া গ্রামের মানুষ।

খোজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকদিন আগে সুভরিয়া গ্রামের মৃত তাইজুদ্দিন এর ছেলে মোহাম্মদ রুহুল আমিন রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা পয়সা লুক করার চেষ্টা করা হলে রুহুল আমিন তাকে চিনে ফেললে সে তাৎক্ষনিক পালিয়ে যায়। এবং আরো জানাযায়, গত কয়েকমাস আগেও এই রনি বিশ্বাস এলাকায় বহিরাগত ছেলেদের নিয়ে মটরসাইকেল মহরা দিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের উপর হামলা চালালে তৎকালিন সময়ে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংশা করা হয়। এবং তাকে স্থানীয় ভাবে সতর্ক করা ও হয় যাতে একই ভুল দ্বিতীয়বার না করে ।

অনুসন্ধানে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে এই রনি বিশ্বাসের নামে। সে রাতের আধারে বহিরাগত ছেলেদের নিয়ে এলাকায় ঘুরাফেরা, দেশীয় মদ বিক্রি সহ বিভিন্ন এলাকায় মদ নিজে মটরসাইকেলে করে বিক্রি করে আসে। উপজেলার কনকসার ইউনিয়নে ও সে দেশীয় মদ, মটরসাইকেল ও বিভিন্ন ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা দিয়ে পাঠিয়ে বিক্রি করে থাকে। অনুসন্ধানে নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে এলাকাবাসীর তরফ থেকে আরো জানা যায়, এই রনি বিশ্বাসের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলেরও যোগসুত্র রয়েছে, তাদের ছত্রছায়ায় রনি বিশ্বাস এসব করে আসছে । প্রায় চার মাস আগে এক বিবাহিত মহিলাকে উঠিয়ে নিয়ে তিন দিন আত্মগোপনে ছিলেন এই রনি বিশ্বাস। ঘটনা জানাজানি হলে উপজেলার একজন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় মোটা অংকের টাকায় রফাদফা হয় বলেও এলাকাবাসী জানায়।

সুভরিয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা বাজারের একজন দোকানদার পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রনি বিশ্বাসের সাথে কনকসার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি বখাটে গ্রুপের সাথে সম্পর্ক থাকায় সে তাদের সুভরিয়া গ্রামে এনে রাতের আধাঁরে দেশীয় মদ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে এবং কেউ দেখে ফেললে বা মুখ খুললে দেয়া হচ্ছে প্রাণ নাশের হুমকি। এবিষয়ে তার পরিবারের কেউ কিছু বলতে গেলে সেখানেও গায়ে হাত তোলা হয়। গভীর রাতে রাস্তায় চলাফেরা করে এবং রাতে ব্যবসা বানিজ্যে করে পায়ে হেটে আসা লোকজনদের টার্গেট করে পথ আটকিয়ে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে লুফে নিচ্ছে সর্বস্ব। আমরা এই রনির হাত থেকে মুক্তি চাই।

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, রনি বিশ্বাস এলাকার প্রভাবশালী ত্রাশ তাই তার ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে সে জানতে পারলে আমাদের মহা বিপদ হবে। তার বন্ধু বান্ধব নিয়ে আমাদের পরিবারের উপর হামলা হবে। এই রনি আমাদের গ্রামটাকে একেবারে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। আমরা চাই তার কঠিন বিচার হোক। এলাকাকে মাদক মুক্ত করা হোক এবং তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করা হোক যাতে কেউ সাহস না পায় এসব করতে।

রাতের আধাঁরে রনি বিশ্বাসের ছিনতাই কর্মকান্ডের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া একই এলাকার রুহুল আমিন বলেন, আমার সাথে ঘটা বিষয়টা আমি ৩-৪ জন মুরব্বীকে জানিয়েছি। এলাকার মুরব্বীরা আমাকে বলেছে চুপচাপ থাকতে তারা রনিকে শেষবারের মতো সতর্ক করেছে যাতে এমনটা আর না হয়। আমি মুরব্বীদের বাহিরে না। তারা যেটা সিদ্ধান্ত দিবে সেটাই মেনে নিব।

এ বিষয়ে রনি বিশ্বাসের সাথে কথা বললে রনি বিশ্বাস জানান, রুহুল আমিন আমার নামে যে তথ্য দিয়েছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা। মুল বিষয়টা হচ্ছে আমি পুজোর অনুষ্ঠান শেষ করে আনুমানিক রাত্র ৩-৪ টার দিকে মটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম সাথে দুজন ভাগিনাও ছিল আমার। পথে হঠাৎ চোখে পড়লো কেউ একজন হাতে বস্তা ও মুখ গামছা দিয়ে বাধা। ভাবলাম চোর- টোর হবে হয়তো তাই রাস্তায় দাড় করিয়ে পরিচয় জানতে চাই তখন সে মুখ খুলে পরিচয় দিলে আমি তাকে ছেড়ে দেই কারন সে আমাদের এলাকার ছেলে।