• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০২৪, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে সরকারি জমি দখল মুক্ত করতে লিখিত অভিযোগ


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১০, ২০২১, ১১:৩৭ অপরাহ্ন / ২৯৬
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে সরকারি জমি দখল মুক্ত করতে লিখিত অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ টঙ্গিবাড়ীতে সরকারি খাল ও পানি প্রবাহের নালা ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে আবু তাহের হাওলাদার ও সুমন হাওলাদার নামের দুই প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। তারা উপজেলার ধীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ধীপুর খালের ২৩ শতাংশ ও একই স্থানের মসজিদের পাশের ৫১ শতাংশ সরকারি জমি বালু দিয়ে ভরাট করে দোকান ঘর নির্মান করেছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা । তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেনা বলেও দাবী অভিযোগ কারীদের। একাধিক বার জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেও কোনো সুফল আসেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন খালের ২৩ শতাংশ জমি ও মসজিদের পাশের ৫১ শতাংশ পানি প্রবাহের নালা বালু দিয়ে ভরাট করে দখলে নিয়েছে স্থানীয় আবু তাহের হাওলাদার ও তার ভাতিজা সুমন হাওলাদার নামের দুই ভূমিদস্যু। মসজিদের পাশের পানি প্রবাহের নালাটি বালু দিয়ে ভরাট করে ইতোমধ্যে দোকানঘর ভাড়া দিয়েছেন। এখন খালের জমি দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করে দখলে নিয়েছেন চক্রটি। তবে এসব দখলের বিষয়ে প্রশাসনকে একাধিক বার জানিয়েও কাজের কাজ হচ্ছে বলে দাবী স্থানীয়দের।

২৩ শতাংশ দখলকৃত জমির সিএস ও এসএর দাগ ৫৪১ এবং আর আর এস দাগ নং৫৮৩ খাল যেটা সরকারি খাল হিসাবে ম্যাপে উল্লেখ্য রয়েছে। অপরদিকে ৫১ শতাংশ দখলকৃত জমির সিএস দাগ নং ৪২৯ ও এসএ দাগ নং ৪২৫ এবং আরএস দাগ যথাক্রমে ৭০০ ও ৭০১,এই দুই দাগে জমির পরিমান ৯০ শতাংশ। যার মধ্যে ৫১ শতাংশ জমি দখলে নিয়েছে ভূমিদস্যু চক্রটি। যার মালিক জেলা প্রশাসক। কি ভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় এত বিপুল পরিমান সরকারি সম্পত্তি দখল হয়ে যায় সেটা ভাবিয়ে তুলছে স্থানীয়দের।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান,আমাদের গ্রামের বসতবাড়ী ও কৃষিজমির জমাট হওয়া পানি প্রবাহের একটি সরকারি নালা ও পুকুর ছিলো যা দীর্ঘ কয়েক বছর আগে বালু দিয়ে ভরাট করে দোকান ঘর নির্মান করে ভাড়া দিয়ে ভোগ দখল করে আসছে স্থানীয় মৃত পাবন আলী হাওলাদারের ছেলে প্রভাবশালী আবু তাহের ও আবু বক্কর সিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার । বর্তমানে এই চক্রটির নজর পড়েছে পাশ্ববর্তি খালের উপর এখন সেই খালের একটি বিশাল অংশ দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করে দখলে নিয়েছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই। আমরা বাঁধা দিতে গেলে মিথ্যা মামলা ও প্রানন্বাশের হুমকি দেয় তাই কেউ কিছু বলতে পারেনা। স্থানী ইউনিয়ন ভূমিসহকারী ও উপজেলা ভূমিসহকারী এবং জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের লিখিতসহ একাধিক বার মোখিক ভাবে জানানো হলেও দখল কৃত খাল ও পানি প্রবাহের নালা উচ্চেদে তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

এদিকে সরকারি খাসজমি দখল মুক্ত করার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী । এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশনা দেন টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীনকে।

তবে দখল কৃত জমি নিজেদের বলে দাবী করে দখলদার আবু তাহেল হাওলাদার ও সুমন হাওলাদার বলেন, আমাদের জমি আমরা ভরাট করেছি। একটি চক্র আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

তবে দখলের বিরুদ্ধে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে বলে জানান ধীপুর ইউপি ভূমিসহকারী মোঃ নাসির হোসেন।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন জানিয়েছেন উপজেলার সহকারী কমিশনার ভুমি কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া কথা বলেছি। তদন্ত রিপোর্টে তারা দোষী হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।