• ঢাকা
  • শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বাসাবাড়ি লুটের ঘটনায় জুডিশিয়াল তদন্তের দাবি


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩, ৫:০১ অপরাহ্ন / ৬৩
মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বাসাবাড়ি লুটের ঘটনায় জুডিশিয়াল তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভারঃ একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, নীর্ভিক কলম সৈনিক সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন মাইনুল ইসলামের মামা পাবনার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.রফিকুল ইসলাম রউফ শেখ।

তিনি বলেন সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম রনাঙ্গনের বীর সেনানি বীর মুক্তিযোদ্ধা জাবেদ আলী শেখের সন্তান। সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম একটি জামাত শিবির চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার একটি স্বাধীনতা বিরোধী জামাত শিবির চক্রের মূল হোতা আব্বাস উদ্দিন প্রধান শিক্ষক মাদারতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয়, পিতা জয়নাল আবেদিন সরদার, হালিমাবাদ ২ নং ওয়ার্ড,আমিনাবাদ,চরফ‍্যাসন থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক মাইনুল ইসলামেল বিরুদ্ধে। আব্বাস বাহিনী মাইনুল ইসলামকে দীর্ঘ ১৪ মাস জেল হাজতে রেখে তার পরিবারের উপর নেমে আসে এক ভয়ঙ্কর জুলুম নির্যাতন এমনকি ভাড়া বাসা থেকে বাড়িওয়ালার সহায়তায় লুটের ঘটনা ঘটায়। উক্ত ঘটনায় সাংবাদিক মাইনুল ইসলামের পরিবারের সর্বস্ব লুটেপুটে নিয়ে যায় আব্বাস বাহিনী। তৎকালীন সময় মাইনুল ইসলামের স্ত্রী রুখসানা আক্তার বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আশুলিয়া থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি চুরির মামলা রেকর্ড করেন, ১২/ ৫ /২০২২ ইং মামলা নং ২৪ আশুলিয়া থানা।
এ ঘটনায় বাদী রুখসানা আক্তার বলেন, মাইনুল ইসলামের প্রথম পক্ষের সন্তানদের হুমকি ধামকি ভয় ভীতি দেখিয়ে একপর্যায়ে তাদেরকে জিম্মি করে বাড়িওয়ালা হল কামালের সহযোগিতায় সমস্ত মালামাল উক্ত মামলায় এজাহারে উল্লিখিত আব্বাস বাহিনীর বিরুদ্ধে সমস্ত শক্ত ডকুমেন্টস সহ সকল ধরনের কাগজপত্র ও ফার্নিচার সহ মালামাল নামিয়ে লুটপাট করে নিয়ে যায়। মাইনুলের কাছে মূলত আব্বাস বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতি মাদক সহ অবৈধ লেনদেনের তথ্য সংগৃহীত ছিল এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তথ্য ছিল যা ফাঁস করলে আব্বাস বাহিনীর জন্য ক্ষতির কারণ হিসাবে দাঁড়াতো মূলত এই কারণেই তথ্য লোপাটের জন্যই বাসাবাড়ি লুটপাট করেন। তৎকালীন আশুলিয়া থানার ওসি, তদন্ত ওসি এবং উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শাহীন নয়ন আব্বাস বাহিনী থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট প্রদান করেন। এখন বিষয়টি হলো পুলিশ তো তদন্ত সাপেক্ষেই আমার মামলা নিয়েছে। তারাই আবার এরকম কোন ঘটনা ঘটে নাই মর্মে ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে প্রদান করেন এবং বাদী রুখসানার বিরুদ্ধে আদালতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে বাদী রুখসানা আক্তার উক্ত মামলায় পুলিশি রিপোর্টের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি প্রদান করলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি পিবিআই তে পূর্ণ তদন্তের জন্য প্রদান করেন।
বাদী রুখসানা আরো বলেন, বিজ্ঞ আদালত যখন আমাকে আমলে নিয়ে পিবিআই তে পূর্ণ তদন্তের জন্য পাঠায় তখন পিবিআই আমার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শহিদুল ইসলাম এই ঘটনার সঠিক ভাবে তদন্ত না করেই একটি কল্প কাহিনী তৈরি করেন। মামলার উল্লেখিত ১০ এবং ১১ নং আসামির স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী এবং সাক্ষী উম্মত মিয়া ও তাহামিনা ঘটনা সত্য বলে স্বীকার করেন আসামি এবং সাক্ষীদের স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও পিবিআই কর্মকর্তা এসআই শহিদুল আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। শহিদুল আমাকে বলেন, ৫০ হাজার টাকা আমাকে খরচ বাবদ দিলে আপনার পক্ষেই রিপোর্ট প্রদান করিব। আমি টাকা অপরাগতা প্রকাশ করলে তিনি তখন তড়িঘড়ি করে আমার বিপক্ষে একটি মিথ্যা বানোয়াট রিপোর্ট আদালতে প্রদান করেন। আমি বিজ্ঞ আদালতের কাছে ন্যায় বিচারের স্বার্থে জুডিশিয়াল তদন্ত দাবি করছি।
সাক্ষী উম্মত মিয়া ও তাহমিনা আক্তারের সাক্ষ্য পি বি আই এর তদন্তকারীর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ১৬১ ধারা জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। সাক্ষীদের দেওয়া বয়ান অনুযায়ী পিবিআই তদন্ত রিপোর্টে কিছুই উল্লেখ্য বা লিপিবদ্ধ করেন নাই, সাক্ষী উম্মত মিয়া ও তাহামিনা আক্তারের দাবি আমরা পিবিআই অফিসে গিয়ে বাদির সামনেই সাক্ষী প্রদান করি। আমরা এসআই শহিদুল ইসলামের কাছে প্রকৃত ঘটনার বর্ণনা দেই, আব্বাস বাহিনী সহ কারা কারা বাসা বাড়ির লুটপাটের ঘটনার সাথে জড়িত ছিল তাদের নামসহ সবকিছুই সত্য বলে স্বীকার করি কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের বয়ান অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের বিষয়ে যা লিখছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন তার মনগড়া কল্প কাহিনী লিপিবদ্ধ করেছে। এ ঘটনার ব্যাপারে আমরা সাক্ষী দুই জনই বিজ্ঞ আদালতে হলফনামা দিতে রাজি আছি। এ ঘটনার তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাংবাদিক মাইনুল ইসলামের বাসাবাড়ি লুটের প্রকৃত সত্য ঘটনা। বাদী রোখসানা আরো বলেন, তৎকালীন সময়ে আব্বাস বাহিনীর হুমকি ধামকি হামলা মামলার ব্যাপারে আমি প্রথমে সরাসরি আইজিপি মহোদয়ের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এতে করে আব্বাস বাহিনী আমার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং আশুলিয়া পল্লী বিদ্যুৎ কামাল হোসেনের ভাড়া বাসায় লুটের ঘটনা ঘটায় আব্বাস বাহিনী। লুটের ঘটনায় প্রথমে আশুলিয়া থানা একটি অভিযোগ করেন। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিষয়ে সত্যতা পেয়েই থানায় মামলা রেকর্ড করেন আশুলিয়াা থানা পুলিশ। মামলা হওয়ার পরে সংবাদ সম্মেলন বিভিন্ন পত্রিকা মিডিয়ায় অনলাইন পোর্টালে লুটের সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংরক্ষিত ভিডিও ফুটেজ এবং মামলায় উল্লেখিত ১০ ও ১১ নং আসামিদের জবানবন্দী এবং সাক্ষীদের জবানবন্দী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আসামিদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বারবার তদন্তকে বাধা গ্রস্ত করছেন। তাই আমি এ ঘটনার পুনরায় নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল তদন্তের দাবি করছি বিজ্ঞ আদালতের কাছে।