• ঢাকা
  • শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:১৭ অপরাহ্ন

মিষ্টি খেজুর রস সংগ্রহে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরেঞ্চলের গাছিরা


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৯, ২০২২, ৯:৫০ অপরাহ্ন / ৩৪৪
মিষ্টি খেজুর রস সংগ্রহে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরেঞ্চলের গাছিরা

খোরশেদ আলম,যশোরঃ হেমন্তের শেষে শীতের আগমনের সাথে সাথে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন যশোরেঞ্চলের গাছিরা। গ্রামের আকা-বাকা পথের পাশে ডোবা ও পুকুর পাড়ে সারি সারি অপরিচ্ছিন্ন খেজুর গাছ গুলোর পুরানো ডাল পালা কেটে পরিষ্কারের কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে।

যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, শীতের তীব্রতা দেখা না দিলেও এরই মধ্যে অনেক গাছি খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

এই শীতকাল গ্রামীণ মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ জীবনে শীত আসে বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলের গাছিদের কাছে সে তো বিভিন্ন মাত্রায় রূপ নিয়ে। নানা স্বপ্ন আর প্রত্যাশায় তাদের অনেকটা সময় কেটে যায় এই খেজুর গাছের সাথে। বলতে গেলে সারাদিন এক গাছ থেকে অন্য গাছ এভাবেই কেটে যায় তাদের দিন। ওতপ্রত ভাবে জড়িত গাছির জীবন সংগ্রামে বহু কষ্টের মাঝে অনেক প্রাপ্তিই মিটে যায় গ্রাম বাংলার এই জনপ্রিয় বৃক্ষ খেজুর গাছের সাথে। গাছিদের জন্য এই সময়টা হয় অনেক আনন্দদায়ক। কারণ এই গাছই তো গাছিদের অন্নদাতা। তাদের খেজুর গাছের যত্ন না করলে যে রস মিলবে না। আর রস না মিললে গুড় হবে কি করে।

ভোরের হাড় কাপানি ঠান্ডায় গাছ থেকে রসের হাড়ি নামিয়ে হিমশীতল খেজুর রস খাওয়ার স্বাদটা একেবারেই যেন আলাদা। আসলে ভোর বেলায় রস খেলে শীত মনে হয় আরো বেশি জাঁকিয়ে বসে। তবে শীতে শরীর কাঁপানির স্পন্দন যেন চরম মজা আনন্দদায়ক। শীত লাগে লাগুক তবুও রস খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। যত শীতই লাগুক রস খেতেই হবে। ঠান্ডা শীতের পরশে এক গ্লাস বা দুই গ্লাস রস খাওয়ার পরে পরেই কাপতে কাঁপতে আরো এক গ্লাস রস চুমুক দিয়ে বাড়ীর উঠানে রোদ তাপানোর আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

এই শীতের কুয়াশা ঢাকা সকালে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা ঘুম থেকে খুব ভোরে উঠে হাতমুখ ধুয়ে খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে হাত-পা গরম করে এবং অপেক্ষা করে কখন রোদের তেজ প্রখর হয়ে উঠবে। রোদ তাপানোর সাথে সাথে আরও অপেক্ষা হলো তাদের প্রিয় খেজুর রস কখন যে আসে আর তখনই খাবে।

একসময় যশোরের প্রাচীন ঐতিহ্য নামডাক ছিলো যশোরের যস খেজুরের রস, কিন্তু সেটা কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। খেজুর গাছ আগের তুলনায় অনেকাংশে কমে গেছে। তারপরও যে কয়টি গাছ দেখা মেলে সেই গাছগুলো নিয়ে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরেঞ্চলের গাছিরা।

চৌগাছা উপজেলার গাছি আঃ আলিম মিয়া বলেন, খেজুর গাছ প্রায় ছয়/সাত বছর বয়স থেকে রস দেওয়া শুরু করে পঁচিশ থেকে ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত রস দেয়। তবে গাছ যতই পুরনো হয় রস দেয়া ততই কমে যায়। পুরনো গাছ রস কম দিলেও পুরনো গাছের রসগুলো খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়। মাঝ বয়সের গাছ থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ রস পাওয়া যায়। বেশি রস সংগ্রহ করা গাছের জন্য অবার অনেক ক্ষতিকর। রস সংগ্রহের জন্য কার্তিক মাসে খেজুর গাছ পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হয়।

অগ্রহায়ন মাস থেকেই রস পাওয়া যায়। রসের ধারা চলতে থাকে ফাগ্লুন মাস পর্যন্ত। শীতের সঙ্গে রস ঝরার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। শীত যত বেশি পড়বে তত বেশি রস ঝরবে। রসের স্বাদও ততই মিষ্টি হবে। অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ মাস হলো রসের ভরা মৌসুম। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত স্থান ভেদে একটি খেজুর গাছে মাসে ৪০-৫০ কেজি রস পাওয়া যায়।