শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শর্ত ভেঙ্গে আগেই বসেছে পশুর হাট, নগরে ভোগান্তি রাজধানীতে সাংবাদিককে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ মধ্যনগরে শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানের খাবার তুলে দিল বানভাসি মানুষের হাতে গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ক্ষমা বিশ্বাস হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড গ্লোবাল টেলিভিশনে শুভ যাত্রা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টায় ইউনূস সেন্টার——তথ্যমন্ত্রী মোহনপুরে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের “বিধি ও প্রবিধিমালার প্রয়োগ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত রাসিকের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচিতে শহীদ কামারুজ্জামানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন পদ্মা সেতুর অবকাঠামো ক্ষতিসাধনের লক্ষ্যে ভিডিও ধারণকারী মাহদি হাসানকে গ্রেফতার এবার কোরবানির ঈদে চাঁপাই সম্রাটের দাম ৩০ লাখ টাকা

মাই টিভির মুখোশের নামে শত কোটি টাকার মালিক লিটনের সম্পদের তথ্য

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৯ মে, ২০২২
  • ৯৪ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ মাই টিভির মুখোশের আড়ালে লিটনের শত কোটি টাকার মালিক শিরোনামে সংবাদ প্রচারের পর বিভিন্ন সূত্র থেকে আরও তথ্য আসতে শুরু করেছে এবং দেশের সাংবাদিক সমাজ সহ তার নিজ এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে খুব শীঘ্রই দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে পারেন স্বনামধন্য টেলিভিশন ইটিভি থেকে সদ্য বিতাড়িত বিশেষ প্রতিনিধি এস কে লিটন।

লিটনের পারিবারিক বিবরণ: চুয়াডাঙ্গা’র জীবননগরে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া লিটন অভাবের তাড়নায় উপার্জনের জন্য ছুটে আসেন রাজধানী ঢাকায়। জীবনের প্রয়োজনে খুঁজতে থাকেন কর্ম একপর্যায়ে গুলিস্থানের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ নেন তিনি। বাবা আব্দুর রহমান ছিলেন দিন মজুর এবং ভ্যান চালক। পরিবারে সহায় সম্বল বলতে মাত্র ৫ কাঠা বাড়ীর ভিটার উপর পাঠকাঠির বেড়ার একটি ঘড় ছিলো তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। এছাড়া আর কিছুই ছিলনা তার বাবার।
এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে লিটনের বাবা আব্দুর রহমান একসময় অভাবের তাড়নায় তুলা চাষীর তুলা চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন। এই নিয়ে এলাকায় সালিশ দরবার এর মাধ্যমে তাকে শাস্তিও দেয়া হয়েছিল। মাইটিভিতে চাকরির বদৌলতে মাত্র দশ বছরেই শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন মাই টিভির বিশেষ প্রতিবেদক ও মুখোশ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক এস কে লিটন।
লিটনের সম্পদশালী হওয়ার গল্প যেনো আলাদীনের চেরাগের গল্পকেও হার মানায়। বর্তমানে উপজেলার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও রাজকীয় জীবনযাপন করেন তার পরিবার। লিটনের পারিবারিক অভাবের গল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে তার এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে গোপনে খোঁজ খবর নিলেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে। মাইটিভি মালিক সাথী সাহেব একজন দানশীল ও ভালো মানুষ হিসেবেই সারাদেশে পরিচিত। তার ভালো মানসিকতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে লিটনের মত একজন অশিক্ষিত ও ধান্ধাবাজ লিটন মাই টিভির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠানকে হাতিয়ার বানিয়ে চাঁদাবাজীর মাধ্যমে রাতারাতি শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়াতে তার উপজেলায় সাংবাদিকের নিয়েও চরম বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছে। সাথে মাইটিভির মত একটি সুনামধন্য চ্যানেলকে নিয়েও পাঠক মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।

নিজ এলাকায় অসাধু কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি: নিজ এলাকায় এক শ্রেণীর অসাধু সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে লিটনের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। নিজের বাড়ির সামনে পরিবারের লোকজনকে ঠকিয়ে দুই বিঘা জমির মালিক বনে যাওয়া লিটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে গৃহহীনদের দেওয়া দুইটি ঘর নিজের কব্জা করে সেই জায়গায় নির্মাণ করেন। ঢাকা থেকে এলাকায় গেলে সেই সরকারি ঘরে বসে তিনি বিভিন্ন রকম দেন-দরবারে ব্যস্ত থাকেন। তার এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এক পরিবারের কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই এস কে লিটন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায় লিটন যে কোনো সময় দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে পারেন। লিটনের উপর এলাকাবাসী এতটাই ক্ষিপ্ত যে বছরখানেক আগে সেখানে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন সহ তার কুশপুত্তলিকা পরানো ও জুতাপেটা করা হয়।

বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড অপরাধের জন্য মাই টিভি থেকে সদ্য অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এস কে লিটনকে। এর আগেও এসব কারণে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল কিন্তু ছলে বলে কৌশলে মাইটিভি মালিকপক্ষের সরলতার সুযোগে আবারো যোগদান করেছিলেন তিনি।

সমাজের দুর্নীতি ও অপরাধের মুখোশ উম্মোচন করে থাকেন মাই টিভির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান মুখোশ। অথচ সেই মুখোশের আড়ালেই চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বড্ড ধুরন্ধর এস কে লিটন।

মাই টিভির মুখোশের আড়ালে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়া এই এস কে লিটনের পাহাড় সমান সম্পদের তিল তিল বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হলো।

এস কে লিটনের অবৈধ সম্পদের তথ্য: জীবননগর বাঁকা ব্রীক ফিল্ডে তার রয়েছে সাথী অটো রাইস মিল ৬ বিঘা জায়গার মধ্যে তিনবিঘা জায়গার উপর নির্মিত। নির্মাণ ব্যায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা। বর্তমানে বাকি তিনবিঘা জায়গায় আরেকটি অটোরাইস মিল চালুর কাজ হাতে নিয়েছেন।

সাথী অটো রাইস মিলের ভিতরেই ১০০ গরুর একটি খামার। বিনিয়োগ প্রায় ৭০/৮০ লক্ষ টাকা।

জীবননগর শাঁপলাকলি পাড়া ৭ নাম্বার ওয়ার্ড, ২৮৫ নং দাগে ২ তলা বাড়ী কিনেছেন যার বর্তমান যার মূল্য ১ কোটি টাকা।

জীবননগর বাসস্ট্যান সংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা রোডে। জীবননগর মৌজা দাগ নং ৩২১৮ জমির পরিমান ৯ শতক, জায়গা কিনেছেন ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায়।

জীবননগর বাসস্ট্যান সংলগ্ন মোল্লা মার্কেট থ্রি-স্টার হোটেল।
বিনিয়োগ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।

জীবননগর লক্ষীপুর ব্রাক অফিসের সামনে জামাল এগ্রোফুডের পাসে ৩০ কাঠা যায়গার উপর এস কে রাইস মিল। যার বর্তমান বাজার মূল্য দুই কোটি টাকা।

জীবননগর পিয়ারাতলা ৩ নং ওয়ার্ড, হিন্দু বাড়ী সংলগ্ন মনোহরপুর মৌজা দাগ নং ৪৫২৯ সাথী বৃদ্ধাশ্রমের সাইনবোর্ড লাগানো আছে। ১ বিঘা জমি মূল্য ৮০ লক্ষ টাকা।

বাঁকা মৌজা দাগ নং ২৬৮, ৪ বিঘা যায়গার উপর শোভা মৎস হ্যাচারী। যার বাজার মূল্য ১কোটি টাকা।

খয়েরহুদা মৌজা দাগ নং ৪৬৮৪/৪৫০৮ দুই দাগে ৭ বিঘা আবাদি জমি কিনেছেন। যার মূল্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা।

কেডিকে ইউনিয়নের ৯ নাম্বার ওয়ার্ড খয়েরহুদা মাঠপাড়া গ্রামে তার পৈতৃক বাড়িটি মাত্র ৫ কাঠা যায়গায় উপর যেখানে পাঠকাঠির বেড়ার ঘর ছিল। সেখানে আশপাশের মানুষের জমি জোরজবরদস্তির মধ্যোমে কিনে নিয়ে ৭ বিঘা করেছে। এবং সেটিতেই ডুপ্লেক্স বাড়ী নির্মাণ করেছে। বাড়ি ও জমি মিলে প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যায়।

তার ব্যাবহিত গাড়ী এলিয়ন। ঢাকা মেট্রো- গ ৩২-৩৬৮৬ গাড়িটির মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা।

তার বাবা আব্দুর রহমানকে বর্তমানে কিনেদিয়েছেন RAB-4 মডেলের গাড়ি যার মুল্যও নাকি ২০ লক্ষ টাকা। বছরে একাধিন মটর বাইকতো বদল করা তাদের নেশা।
লিটনের ছোট ভাই এসকে বকুল তিনি চড়েন R1-5 য়ার মূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা।

ট্রাক আছে ৫ টি যা সাথী অটো রাইস মিলে ব্যবহার হয়।
যার মূল্য প্রায় দের কোটি টাকা।

বর্তমানে রাজারবাগে যে বাসাটিতে লিটন বসবাস করে সেই ফ্লাটটিও তার কেনা।

বিভিন্ন সূত্র মতে জানা যায় এছাড়াও রাজধানীতে তার একাধিক ফ্লাট রয়েছে মাত্র ৫ কাঠা বাড়ীর ভিটা তার উপর পাঠকাঠির বেড়ার একটি ঘর থেকে শতকোটি টাকার মালিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি ধান্দাবাজি তদবির করে নিজের জমি টাকার পাহাড় গড়েছেন ঠিক তেমনি ফাঁকি দিয়েছেন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থান মাইটিভি কর্তৃপক্ষকে। কিন্ত লিটনের মত একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি রাতারাতি চাঁদাবাজীর মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়াতে এলাকায় সাংবাদিকের নিয়েও চরম বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে মাইটিভির মত একটি সুনামধন্য চ্যানেলকে নিয়েও সুধী মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin