• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

মনোবলকে কাজে লাগিয়ে ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন


প্রকাশের সময় : মে ৮, ২০২৩, ৪:৪৪ অপরাহ্ন / ১৪৭
মনোবলকে কাজে লাগিয়ে ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ১৯৯৫ সাল। টগবগে যুবক ছিলেন জয়নাল আবেদীন। কি করবেন বুঝে পাচ্ছিলেন না। কিন্তু কিছু একটা করতে হবে এমন চিন্তা ছিল মনে। সে সময় স্থানীয় এক মৎস্য চাষি বন্ধু তাকে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। লোকসানের কথা চিন্তা করে পরিবার তাকে নিরুৎসাহিত করলেও শক্ত মনোবলে পাঙ্গাশ চাষ শুরু করেন জয়নাল। পরিশ্রম আর মনোবলকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ভাগ্যের চাকা বদলেছেন তিনি।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউপি কোনাবাড়ি এলাকায় প্রথমে ধানি জমিতে চারটি ও ভাড়ায় দুটি পুকুর দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন জয়নাল আবেদীন। এরপর লাভের টাকা দিয়ে বাড়াতে থাকেন পুকুরের সংখ্যা। বর্তমানে ৬০ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন মাছের খামার। কয়েক লাখ পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতল, সিলভার, মৃগেল মাছ রয়েছে খামারটিতে। এসব মাছ বিক্রি করেই কিনেছেন জমি, গড়েছেন পাঁচ তলা বাড়ি।

সরেজমিন খামারে গিয়ে দেখা যায়, জয়নাল আবেদীন পুকুরগুলোর পাড় দিয়ে হাঁটছেন আর পানিতে মাছের খাবার দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। এলাকার নতুন মাছ চাষীরা জয়নাল আবেদীনের কাছ থেকে মাছ চাষের নানা পরামর্শ নিয়ে এসেছেন। জয়নালাও হেঁটে হেঁটেই তাদের সঙ্গে কথা বলে মাছ চাষে উদ্ভুদ্ধ করছেন।

স্থানীয়রা জানান, পুরাতন মৎস্য চাষি জয়নাল আবেদীন দ্রুত সময়ে সফলতা পেয়ে জীবনের মোড় ঘুরিয়েছেন। তার এমন সফলতা দেখে বহু বেকার যুবকসহ অনেকে মাছ চাষে ঝুঁকছেন। পেয়েছেন সফলতাও। তাদের খামারেও আশপাশের লোকজন শ্রমিক হিসেবে কাজ পেয়ে বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। মাছ চাষে এমন সফলতা পাওয়ায় স্থানীয় মৎস্য চাষীদের কাছে আইডল হিসেবে পরিচিতও পেয়েছেন জয়নাল আবেদীন।

আসাদুল হক নামে পুকুরে কাজ করা একজন কর্মচারী বলেন, টাকা অভাবে পড়াশোনা করতে পারিনি। তাই ছোট থেকেই অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছি। গত চার বছর আগে এই খামারে যোগাযোগ করলে কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত নিয়মিত বেতন পেয়ে কাজ করছি। যা বেতন পাই, তা দিয়ে ভালোভাবেই পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারছি।

কথা হয় সফল মাছ চাষী জয়নাল আবেদীনের সাথে। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমার স্থানীয় এক বন্ধু মাছ চাষ করতো। তার কাছ থেকেই মাছ চাষে উৎসাহ পাই। পরে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএফআরআই) থেকে পাঙ্গাশ মাছের পোনা সংগ্রহ করি। প্রথমে ছোট ছোট মাছ চাষ শুরু করি। একবছরে প্রত্যাশার চেয়ে বেশী লাভ হয়েছিল। তখন সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বিশাল আকৃতির পুকুরের সংখ্যা আর মাছের পোনা ছাড়া বৃদ্ধি করি। এভাবে মাছ চাষে সফলতা পেয়েছি। বর্তমানে প্রতি বছরে ৩ কোটি টাকার পাঙাশ মাছ বিক্রি করি।

তিনি বলেন, বেকার অনেক ছেলে আমার কাছে আসছে। তাদেরকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে মাছ চাষে উদ্ভুদ্ধ করছি। অনেক যুবক ইতিমধ্যে মাছ চাষে সফলতা পেয়েছে। এছাড়া যারা শুধুমাত্র কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারাও আমাকে দেখে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা বলেন, জেলায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৮ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে জেলায় মাছের চাহিদা রয়েছে ১ লাখ মেট্রিক টনের কিছু বেশি। উদ্বৃত্ত মাছগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করা হয়। এছাড়া সারাদেশে সাড়ে ৪ লাখ টন মেট্রিক টন পাঙ্গাশ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন মাছ ময়মনসিংহে উৎপাদন হয়।

তিনি বলেন, জেলায় বর্তমানে ১ লাখ ৭৬ হাজার পুকুরের বিপরীতে এক লাখ খামারি মাছ চাষে জড়িত রয়েছেন। অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এ পেশার মাধ্যমে অসংখ্য চাষি তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন, হয়েছেন বিত্তশালী। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অন্যদেরও করছেন স্বাবলম্বী। নতুন করে কেউ মাছ চাষে আগ্রহী হলে সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হবে।