• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

ভোটের মাঠ বরিশাল-২ : ঘরে-বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বী এমপির


প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০২৩, ৪:৪৮ অপরাহ্ন / ৬১
ভোটের মাঠ বরিশাল-২ : ঘরে-বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বী এমপির

বিশেষ প্রতিনিধি, বরিশালঃ সন্ধ্যা নদী ঘেরা উজিরপুর ও বানারীপাড়া। শেরেবাংলার জন্মভূমি বরিশালের এ জনপদ এখনো অনেকটাই পিছিয়ে। এমপি আসে এমপি যায় কিন্তু উজিরপুর ও বানারীপাড়ার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন কতটা হয়েছে, তা প্রশ্নই থেকে যায়। আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-২ আসন। এবার কাকে এমপি বানালে এলাকার উন্নয়ন হবে, চায়ের দোকানে বসে সেই হিসাব মেলাতে শুরু করেছেন ভোটাররা।আর এরই মধ্যে মাঠে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কার্যক্রম। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে এবার সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হাফ ডজন।

এমপি শাহে আলম তালুকদারের পাঁচ বছরের এ মেয়াদে অভিযোগের আমলনামা বেশ ভারী। এ কারণে ঘরে-বাইরে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর শেষ নেই। অপরদিকে বিএনপিতে দুই হেভিওয়েট নেতাসহ চারজন মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তোড়জোড় চালাচ্ছেন।

এমপি শাহে আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে বানারীপাড়ায় ১২ পরিবারের জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই পরিবারগুলো গত বছরের ২৫ জানুয়ারি এর প্রতিকার চেয়ে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করে। একই বছর বানারীপাড়ায় ১৯৭১ সালে প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতার স্বজনদের জমি দখলের অভিযোগ ওঠে এমপির বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি এমপি শাহে আলমকে লিগ্যাল নোটিশও দেওয়া হয়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, এমপি শাহে আলম ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দল বানারীপাড়া ও উজিরপুরে দুই ধারায় বিভক্ত। দলের একটি বড় অংশ তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে মাঠে সক্রিয়।

এমপি শাহে আলম তালুকদার বলেন, দল মনোনয়ন দিলে আবারও নির্বাচনে প্রার্থী হব। এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে একটি আসনে ৮-১০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকতেই পারে।

এই আসনের তিনবারের এমপি ছিলেন মনিরুল ইসলাম মনি। উন্নয়ন ইস্যুতে মনির এলাকায় বেশ সুনাম থাকলেও ২০০৮ সালের পর এমপি থাকাকালীন তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়া, জমি দখল, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং মাসিক সভায় গুলি করার অভিযোগ রয়েছে। তবে মনি বলেন, ৫০ বছরেও যে উন্নয়ন হয়নি, তা তিনি করেছেন। জনগণ তাঁর সময় কোটি কোটি টাকার উন্নয়নের কথা ভোলেনি। তাই আবারও এমপি প্রার্থী হতে চান।

২০১৪ সালের নির্বাচনে এমপি হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস। তিনি আবার এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন। এলাকার ভোটাররা তাঁর সম্পর্কে বলেন, উন্নয়ন কাজে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারেননি সাবেক এমপি ইউনুস।

তালুকদার মো. ইউনুস এ প্রসঙ্গে বলেন, অতীত কর্মকাণ্ডকে মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তাঁকে এ আসনে মনোনয়ন দেবেন বলে আশাবাদী। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যরা হলেন সংরক্ষিত আসনের এমপি সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা, আওয়ামী লীগ নেতা ফাইয়াজুল হক রাজু, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আনিসুর রহমান, ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা ক্যাপ্টেন (অব.) এম মোয়াজ্জেম হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ সুখেন্দু শেখর বৈদ্য।

আওয়ামী লীগের এমন যুদ্ধের বিপরীতে দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিরও একাধিক এমপি প্রার্থী রয়েছেন বরিশাল-২ আসনে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ধনাঢ্য ব্যবসায়ী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী রওনোকুল ইসলাম টিপু, বিএনপির নেতা এস এম বক্কর এ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

গত নির্বাচনে নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি করার ঘটনায় করা মামলায় ওই দিনই এলাকা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমান সরফুদ্দিন সান্টু। সান্টুর ঘনিষ্ঠ সহচর উজিরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান বলেন, সুষ্ঠু ভোট হলে বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের খানা থাকবে না। এখানে সাধারণ ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ একমাত্র দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সান্টুর। প্রতিকূল পরিবেশেও বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারেন মাওলানা নেছার উদ্দিন।