রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সংসদ সদস্য মনুর এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সর্বস্তরের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন  ডিইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদের পিতা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সরদারের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন ইভ্যালির রাসেল এমপি মনুর হাতে মারধরের শিকার ডেমরা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবার পাওয়া গেল দেড় কোটির দুই অ্যাপার্টমেন্ট ভিখারির! পাক বিমান বাহিনীর জন্য চায়নার তৈরীকৃত ড্রোন এখন দু:স্বপ্ন অতীতে সাংবাদিকদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী স্কুলে গিয়ে চাঁদা দাবি, সাংবাদিককে পুলিশে দিলেন শিক্ষকরা সংবাদ পোর্টাল নিবন্ধন চলমান প্রক্রিয়া, হাইকোর্টের নির্দেশনা শৃঙ্খলায় সহায়ক : তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব করায় প্রেস ক্লাবের নিন্দা

ভূয়া বিগ্রেডিয়ার জেনারেল পরিচয় দিয়ে ইশরাত রফিক ঈশিতাকে সহযোগি সহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১
  • ১০০ Time View

মনিরুজ্জামান অপূর্ব,ঢাকা:রাজধানীর মিরপুর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং দেশি ও বিদেশী সংস্থার ভূয়া প্রতিনিধি পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে কথিত তরুণ চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষক বিশিষ্ট আলোচক ডিপ্লোম্যাট বিগ্রেডিয়ার জেনারেল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইশরাত রফিক ঈশিতা (আইপিসি)’কে সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

“বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই স্লোগান নিয়ে র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে সংগঠিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব সাইবার মনিটরিং টিম সক্রিয় রয়েছে। ভার্চুয়াল জগত ব্যবহারের মাধ্যমে মিথ্যাচার, বিভ্রান্তি ছড়ানো, অপপ্রচার রোধকল্পে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে র‌্যাব। র‌্যাব সাইবার মনিটরিং টিমের অনুসন্ধানে জানতে পারে যে, একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি বা চক্র ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রচার/প্রচারণার মাধ্যমে নিজেকে খ্যাতিমান হিসেবে অধিস্থিত করে নানাবিধি অবৈধ অপরাধ কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছে। সূদুর প্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে অপরাধীরা নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপব্যবহার করছে। ফলশ্রæতিতে এতদ্সংক্রান্ত বিষয়ে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারী ও অনুসন্ধান অব্যাহত রাখে।

সম্প্রতি র‌্যাবের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে ভিন্নধর্মী একটি প্রতারণা সম্পর্কে তথ্য উদ্ঘাটিত হয়। যেখানে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে নিজের বা নিজেদের গগনচুম্বী ভূয়া সাফল্য ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারে লিপ্ত রয়েছেন। অনুসন্ধানে উদ্ঘাটিত হয় এ জাতীয় মিথ্যাচারের মাধ্যমে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৪ এর অভিযানে অদ্য ০১ আগস্ট ২০২১ তারিখ সকাল ০৯৩০ ঘটিকায় রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন মিরপুর-১ হতে কথিত তরুণ চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষক @ বিশিষ্ট আলোচক @ ডিপ্লোম্যাট @ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল @ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইশরাত রফিক ঈশিতা(আইপিসি), পিতা- খন্দকার রফিকুল ইসলাম, কাফরুল, ঢাকা এবং তার সহযোগী মোঃ শহিদুল ইসলাম ওরফে দিদার, পিতা- মোঃ হুমায়ন কবীর, দোহার, ঢাকা’কে গ্রেফতার করা হয়।উক্ত অভিযানের উদ্ধার করা হয়, ভুয়া আইডি কার্ড, ভুয়া ভিজিটিং কার্ড, ভুয়া সীল, ভুয়া সার্টিফিকেট, প্রত্যয়নপত্র, পাসপোর্ট, ল্যাপটপ, ৩০০পিছ ইয়াবা, ০৫ বোতল বিদেশী মদ এবং মোবাইল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বর্ণিত বিষয়ে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।

গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা পেশায় একজন চিকিৎসক। যিনি বিভিন্ন মাধ্যমে একজন আলোচক, চিকিৎসা বিজ্ঞানী, গবেষক, পিএইচডি সম্পন্ন, মানবাধিকার কর্মী, সংগঠক, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল পদ মর্যাদার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন বলে ভূয়া পরিচয় প্রদান করে থাকেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়,বর্ণিত ভূয়া পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে তিনি ভূয়া নথিপত্র তৈরী ও প্রচার প্রচারণা করে থাকেন। তিনি ময়মনসিংহে অবস্থিত একটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ হতে ২০১৩ সালে (সেশন ২০০৫-২০০৬) এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। অতঃপর জুন ২০১৪ সালের প্রথম দিকে মিরপুরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন। অতঃপর ২০১৪ সালে তিনি একটি সরকারী সংস্থায় চুক্তি ভিত্তিক চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পান। সেখানে ০৪ মাস চাকুরী করার পর শৃঙ্খলাজনিত কারণে চাকুরীচ্যুত হন।

গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা চিকিৎসা শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ; চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তার ভূয়া বিশেষজ্ঞ ডিগ্রীগুলো যথাক্রমে-এমপিএইচ, এমডি, ডিও ইত্যাদি। এছাড়া ভুয়া ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হিসেবেও বিভিন্ন মতবাদ প্রচার করে থাকেন। গ্রেফতারকৃত বিভিন্ন সাইটে চিকিৎসা শাস্ত্রে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ, আর্টিকেল বা থিসিস পেপার প্রকাশনা করেছেন তন্মধ্যে; Health problems and health care seeking behavior of street children in Dhaka City, Perception regarding acute respiratory tract infection among mothers of under five children ইত্যাদি।তিনি মূলত অনলাইনে প্রাপ্ত বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রকাশনা এডিট করে বর্ণিত গবেষণাধর্মী প্রকাশনা প্রস্তুত করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা জানান তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিদেশে প্রাপ্ত ভূয়া সাফল্য স্বীকৃতের প্রচারণা করতেন। ২০২০ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে হোটেল পার্ক অ্যাসেন্টে অনুষ্ঠিত জিআইএসআর ফাউন্ডেশনের প্রদত্ত ইন্টারন্যাশনাল ইন্সপিরেশনাল ওমেন অ্যাওয়ার্ড (আইআইডবিøউ ২০২০) পেয়েছেন। যা ৩৫ বছর বয়সী চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে “বছরের সেরা নারী বিজ্ঞানী” হিসেবে পুরস্কার। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘রিসার্চ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’, ভারতের ‘টেস্ট জেম অ্যাওয়ার্ড ২০২০’; থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে অংশ নিয়ে ‘আউটষ্ট্যান্ডিং সায়েন্টিষ্ট এন্ড রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড’ইত্যাদি। তিনি জানান যে, তিনি প্রতারণার মাধ্যমে ভূয়া নথি উপস্থাপন করে২০১৮ সালে জার্মানীতে ‘লিন্ডা ও নোবেল লরিয়েট মিট-মেডিসিনে’ অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রচারণা করেন যে, তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বর্ণিত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। এছাড়া তিনি অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বিভিন্ন সংগঠন যথাক্রমে আমেরিকান সেক্সুয়াল হেলথ অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল সার্ভিকাল ক্যান্সার কোয়ালিশনএবং গেøাবাল গুডউইল ইত্যাদি হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করছেন। তিনি অ্যাওয়ার্ড বিষয়ক অনুষ্ঠানে উপস্থিতির এডিটিং করা ভূয়া ছবি ও সনদ তৈরী করে গণমাধ্যমে প্রেরণ ও ভার্চুয়াল জগতে প্রচারণা করতেন।

গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা করোনা মহামারীকে পুঁজি করে ভার্চুয়াল জগতে প্রতারণায় সক্রিয় ছিলেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচক ও প্রশিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি অনলাইনে করোনা প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন ও সার্টিফিকেট প্রদান করে প্রচার-প্রচারণা করেছেন। সে বিভিন্ন বিদেশীদের ভূয়া সার্টিফিকেট প্রচারণা করে অন্যান্যদের অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট গ্রহণে আকৃষ্ট করতেন।

গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা ʺYoung World Leaders for Humanityʺ নামক একটি অনিবন্ধনকৃত ও অননুমোদিত সংগঠন পরিচালনার সাথে যুক্ত। অনলাইন প্লার্টফর্মে যার Facebook page ও Linkedin ID রয়েছে। সংস্থাটির সদর দপ্তর নিউইয়র্কে অবস্থিত বলে প্রচারণা করা হয়েছে। বর্ণিত ফেসবুক পেজের কো-এ্যাডমিন গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা। এই ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রতারণা নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নেপাল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বুরুন্ডি, আমেরিকা, নাইজেরিয়া, ওমান, সৌদি আরব ইত্যাদি দেশে অর্থের বিনিময়ে প্রতিনিধি নিয়োগ হয়েছে। এছাড়াও উক্ত দেশগুলোকে এই সংগঠনের ব্যানারে সেমিনার, অ্যাওয়ার্ড প্রদান ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদি আয়োজন করা হয়ে থাকে বলে গ্রেফতারকৃত জানায়। যেখানে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ভূয়া অ্যাওয়ার্ড বিতরণের বিনিময়ের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের সিংহভাগ গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা ও তার প্রধান সহযোগী গ্রহণ করে থাকেন বলে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে বুরুন্ডি ও আফগানিস্তানে এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সংগঠনের ব্যানারে গত এপ্রিল ২০১৯ এ রাজধানীর একটি অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩০ জন বাংলাদেশীকেও ʺYoung World Leaders for Humanityʺ এর সম্মাননা জানানো হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ইশরাত রফিক ঈশিতা সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন। এই সংগঠনে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের বা জনমনে গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে এমন ব্যক্তিদের ছবি যুক্ত করে এ্যাডভাইজর, ভাইস চেয়ারম্যান, ইন্টারন্যাশনাল ভাইস চেয়ারম্যানসহ নানা পদে যোগদান করেছেন বলে ভূয়া প্রচারণা চালানো হয়।

এছাড়াও তিনি ২০১৮ সালে নি¤œলিখিত নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মানবাধিকার, নারী শিশু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত বলে ভূয়া তথ্য প্রদান করে থাকেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন ঃ

 American sexual health association (ASHA).
 National cervical cancer coalition (NCCC) .
 Global goodwill org, USA.
 Young world leader for humanity.
 Global Peace chain.
 Global human right project.
 Counter crime intelligence organization.
 International Police Commission.
 International Police Organization.

গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা প্রতারণার কৌশল হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর র‌্যাংক ব্যাচ ও পদ অর্জনের চেষ্টা চালান। সে ফিলিপাইনে পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট (IPC.Phil.com) হতে ৪০০ ডলারের বিনিময়ে সামরিক বাহিনীর ন্যায় “বিগ্রেডিয়ার জেনারেল” পদটি প্রাপ্ত হয় বলে জানান। এছাড়াও তিনি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন, কাউন্টার ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন ইত্যাদি সদস্য পদের ভূয়া সনদ তৈরী করে প্রচারণা চালিয়ে থাকেন।

গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা নিজস্ব ভূয়া ডিগ্রী, পদ ও পদবী প্রচারণার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আইপি চ্যানেল ব্যবহার করতেন। উক্ত প্রচারণার মাধ্যমে সে বিশিষ্ট আলোচক সাথে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে টকশোতে অংশগ্রহণ করতেন। ক্ষেত্র বিশেষে গণমাধ্যমে তার টকশো, আলোচনা, সাক্ষাতকার ও সাফল্য সমূহ প্রচারিত হয়েছে। মূলত তিনি তার ভূয়া সার্টিফিকেট, এডিটিং ছবি, মিথ্যা বিবৃতি ও তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সকলকে বিভ্রান্ত করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি মানবাধিকার লংঘন, নারী শিশু অধিকার, চিকিৎসা বিজ্ঞান, করোনা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচক হিসেবে আবিভর্‚ত হয়ে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে অপচেষ্টা চালাতেন।

বিভিন্ন স্থানে পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীনতা এড়াতে তার “বস” হিসেবে তার সহযোগী গ্রেফতারকৃত মোঃ শহিদুল ইসলাম দিদার ভূমিকা রাখতেন। যিনি টেলিফোন/অনলাইনে এবং ক্ষেত্র বিশেষেস্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিখ ইশিতার পরিচয় বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করতেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনলাইনে বিভিন্ন মিটিং এ বস/উপরোস্থ কর্মকর্তার বর্ণিত ভূমিকা পালন করতেন। কৌশলগত কারনে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ʺYoung World Leaders for Humanityʺ অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করেন নাই।

গ্রেফতারকৃত মোঃ শহীদুল ইসলাম দিদার ২০১২ সালে একটি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা (ইঞ্জিনিয়ার) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি পোষ্ট গ্রাজুয়েশন ডিপ্লোমাও সম্পন্ন করেন। বর্তমানে একটি গার্মেন্টেসে কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। সেও ফিলিপাইনে একই সাইট হতে অর্থের বিনিময়ে মেজর জেনারেল পদ ধারণ করেন বলে জানান। এছাড়া নিজেকে আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক); ইয়াং ওয়াল্ড লিডার ফর হিউমিনিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের ফাউন্ডার (প্রতিষ্ঠাতা) বা কর্ণধার হিসেবে উপস্থাপন করেন। একইভাবে তিনি দূর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার দূত বা অ্যাম্বাসেডর হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

গ্রেফতারকৃতরা যোগসাজশে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার ভূয়া সদস্য, কর্ণধার বা দূত হিসেবে দেশে/বিদেশে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অপরাধ কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছে। তাদের আরও বেশ কয়েকজন সহযোগী সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। বর্ণিত বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin