• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

বেসামাল পরীমনি : মন চাইলেই দেন বিদেশ পাড়ি


প্রকাশের সময় : জুন ২৩, ২০২১, ৭:০১ অপরাহ্ন / ২১২
বেসামাল পরীমনি : মন চাইলেই দেন বিদেশ পাড়ি

(অশ্লীলতায় বনে যান আইটেম তারকা, বনানীর ৫তলা যেন সরাইখানা, কিনেছেন কোটি টাকার গাড়ি, থাকেন বিলাসবহুল বাড়িতে, মন চাইলেই দেন বিদেশ পাড়ি)

মেহেদী হাসান,ঢাকাঃ যুবক-যুবতি নিয়ে মাঝরাতে ক্লাবপাড়া চষে বেড়ান আলোচিত আইটেম তারকা পরীমনি। নেশার ঘোরে প্রায়ই হতো বাকবিতণ্ডা। প্রভাবশালীদের আশকারায় নিজেকে গড়ে তুলছেন লেডি মাফিয়া হিসেবে। ভোগবিলাসিতায় মন চাইলেই গা ভাসান দেশের বাইরে। করোনাকালেও কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন গাড়ি, থাকেন বিলাসবহুল বাড়িতে। বনানীর বাসাটিকেও যেন বানিয়েছেন সরাইখানা। মদের নেশায় বিভোর থাকা এই ললনাকে নিয়ে যেন বিতর্কের শেষ নেই। ছোটবেলা থেকেই মা বাবা হারিয়ে বেপথে চলে যায় পাড়াগাঁয়ে বেড়ে ওঠা স্মৃতি ওরফে পরীমনি। এক সময়ের পিরোজপুরের প্রেমিক বদলানো স্মৃতি ঢাকায় এসে মিডিয়া পাড়ায় বনে যান আইটেম তারকা পরীমনি। পোশাক বদলের মতোই পাল্টেছেন একাধিক সঙ্গী, অশ্লীল ভঙ্গিমায় নিজেকে মিডিয়া পাড়ায় বানিয়েছেন দামি। সর্বশেষ বোটক্লাবকাণ্ডে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তুমুল আলোচনায় আসেন এই উগ্র কামিনী। এরপরই যেন একের পর এক ঘটছে ভীমরুলের চাকায় ঢিল দেওয়ার মতো ঘটনা, বের হচ্ছে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য।

পরীমনির জন্য মধ্যরাতেও নিয়ম ভেঙে মদের বার খোলা রাখতে হয়। এতে বার কর্তৃপক্ষ অনিহা প্রকাশ করলেই চলে বাকবিতণ্ডা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় রাতেই রাজধানীর অভিজাত ক্লাব ও তারকা হোটেলে যুবক-যুবতি নিয়ে মদ পান করতে ঘুরে বেড়ান তিনি। গত ৭ জুন সঙ্গীয়দের নিয়ে গুলশান মসজিদ এলাকার ৩৫ নং রোডের ৪০ নাম্বার বাড়ির অল কমিউনিটি ক্লাবে গিয়ে ভাঙচুর চালান তিনি। ক্লাবটির নিয়ম ভঙ্গ করায় কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলশান থানা পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করে রাখেন। ৯ জুন পরীমনির অভিযোগের ভিত্তিতে সাভারের বিরুলিয়া এলাকার বোটক্লাবকাণ্ডে নাসিরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নাসির বলেন, ‘ঘটনার রাতে পরীমনি ও তার বন্ধুরা ক্লাবে ঢোকেন। এ সময় তারা মদ্যপ অবস্থায় ছিল। তাদের মধ্যে একটি ছেলে উচ্ছৃঙ্খল ছিল। ক্লাবে ঢোকার পর বারের কাউন্টার থেকে দামি ড্রিংকসের বোতল জোর করে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তখন নাসির তাদের বাধা দেয়, পরে সিকিউরিটিদের ডাক দিলে নিরাপত্তারক্ষীরা এসে তাদের নিয়ে যায়। এ বিষয়ে অভিনেত্রী পরীমনির সঙ্গে কথা বলতে বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আইটেম গানেও রয়েছে পরীমনির অশ্লীল ভঙ্গিমা। তার সর্বাঙ্গই যেন উত্তেজনায় পরিপূর্ণ করে দর্শক মাতিয়ে থাকেন। এছাড়াও তারই ফেসবুক পেইজে একের পর এক পোস্ট করেই যাচ্ছেন মডেলিংয়ের নামে অশ্লীল সব ছবি। যা দেশীয় সংস্কৃতিতে বেমানান। অশ্লীলতার দায়ে ২০১৫ সালে পরীমনি অভিনীত ‘নগর মাস্তান’ ছায়াছবি নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়। এ ছবির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে অশ্লীল দৃশ্য এবং সংলাপের জন্য।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদিক ও বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি সামসুল আলম বাংলাদেশের আলোকে বলেন, চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেন তাদেরকে শ্রোতারা মনের মধ্যে লালন করে থাকেন। কেউ ভালো কাজ করলে শ্রোতারা খুশি হয়, আর কেউ মন্দ কাজ করলে শ্রোতারা কষ্ট পায়। তার মতে প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরই অনেক হিসেব নিকেশ করে পা ফেলতে হবে। মানুষ যেন চলচিত্র অঙ্গন নিয়ে কষ্ট না পায় সেই দিকে সবার খেয়াল রাখা উচিত।
দেশে নব্য যৌনকর্মীরা সুযোগ বুঝেই নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। এক সময়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে মাঠ লেবেলের কামিনীরাও সুযোগ পেয়েই বিছানায় যেতে থাকেন অনেক প্রভাবশালীদের। চাকচিক্য রূপের ঝলসানিতে অনেকেই প্রবেশ করেন মিডিয়া পাড়ায়। আখ্যা পান জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে। দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে বিদেশি সংস্কৃতি মিশে এখন জাতি চলে যাচ্ছে বেহায়াপনার দিকে। রাষ্ট্র হারাতে বসেছে একটি সভ্যজাতি। পরীমনির বনানী ১৯/এ সড়কের ১২ নম্বর বাড়ির পাঁচতলার বাসাটি যেন এক সরাইখান। সাজানো রয়েছে বিলাসবহুল বারের মতো বিভিন্ন মদের বোতল। বনানীর এই বাসাতেই নিয়মিত আসর বসান পরীমনি। বাসাটিতে বাহারি ডিজাইনের গ্লাস আর সাজানো মদের বোতলেই যেন মদারুদের তৃষ্ণা বেড়ে যাওয়ার মতো। করোনাকালেও সাড়ে তিন কোটি টাকা দামের বিলাসবহুল রয়েল মাসেরাতি গাড়ি কিনে সবাইকেই তাক লাগিয়ে দেয় পরীমনি। এর আগে ব্যবহার করতেন টয়োটার প্রিমিও ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি। নীল রঙের মিতসুবিশি লাঞ্চারও কিনেছিলেন তিনি। এছাড়াও তাকে ব্যবহার করতে দেখা গেছে নামিদামি ব্র্যান্ডের হ্যারিয়ার গাড়ি। বোটক্লাবের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জানিয়েছেন, পরীমনির বাসায় হাজারটা মদের বোতল পাওয়া যাবে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে পরীমনির সম্পদের হিসাব চাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
চলচ্চিত্র পরিচালক মালেক আফসারি বাংলাদেশের আলোকে বলেন, একজন পরীমনির জন্য চলচ্চিত্র অঙ্গনে কোনো প্রকার প্রভাব পড়বে না। কেউ যদি কাউকে উপহার স্বরূপ কিছু দেয় সে তা নিতেই পারে। কয়েক দিন পর দেখবেন এগুলো মানুষ সবই ভুলে গেছে।
১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর নড়াইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন শামসুন্নাহার স্মৃতি (পরীমনি)। দুই বছর বয়সেই মা সালমা সুলতানা ও ২০০৯ সালে বাবা মনিরুল ইসলাম মারা যান। পিরোজপুর সিংহালিতে নানা শামসুল হক গাজীর কাছেই বড় হয় স্মৃতি। তার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল নায়িকা হওয়ার। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াকালীন স্মৃতির প্রেম হয় একটি ব্যাংকের প্রিন্সিপ্যাল অফিসারের ছেলে ইসমাইল মিয়ার সঙ্গে। পরীমনির পড়ালেখা খরচ চালাতো ইসমাইল। ২০০৯ সালের ২৪ এপ্রিল ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করে তারা দুইজন। এরপর ২০১১ সালে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় ইসমাইলের কাছে আসে তিনি। বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে নাচ শিখতে স্মৃতিকে ভর্তি করেন ইসমাইল। তার মাধ্যমেই প্রথম এফডিসিতে পা রাখে স্মৃতি। সেখানে যশোরের কেশবপুরের ছেলে সৌরভ কবিরের সঙ্গে জড়ান অনৈতিক সম্পর্কে। বিষয়টি জানতে পেরে ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল তালাকনামা প্রদান করেন ইসমাইল। ইসমাইলকে ছেড়েই স্মৃতি বদলাতে থাকেন স্বামী। ২০১২ সালের ২৮ এপ্রিল বিয়ে করেন সৌরভ কবিরকে। এরপর থেকে স্টেজ প্রোগ্রামসহ মডেলিংয়ে কাজ শুরু করে স্মৃতি থেকে বনে যান পরীমনি হিসেবে। ২০১৩ সালের প্রথম একটি ছবিতে শুটিং করেন তিনি। ২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক তামিমের সঙ্গে পরীমনির প্রেমের খবর প্রকাশিত হয়। কিছুদিন লিভটুগেদার করেছিল বলেও গুঞ্জন ওঠে। ২০২০ সালের ৯ মার্চ পরীমনি ও পরিচালক কামরুজ্জামান রনি ৩ টাকার কাবিনে বিয়ে করেন এবং ওই বছরই তাদের বিচ্ছেদ হয়। পরীমনিকে প্রায় সময়েই দেখা যায় মুক্ত আকাশে উড়াল দিতে। কিছুদিন পরপরই দেশের বাইরে অবকাশে জান তিনি। দুবাই থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি দেশেও তিনি পাড়ি জমিয়েছেন।
বিনোদন বিটের একজন সি. সাংবাদিক বাংলাদেশের আলোকে বলেন, সকলের শালীনতা বজায় রাখার ব্যাপারটাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। মিডিয়া পাড়ায় এটি নতুন কিছু নয়, শিল্পীদের যথেষ্ট সম্মান এবং নাম-ডাক থাকে, তাই বলে তারা স্বেচ্ছাচারিতা করবেন সেটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পরীমনির ঘটনাগুলো তার ব্যক্তিগত। পরীমনিদের মতো অভিনেত্রীদের বিষয়ে শিল্পী সমাজের কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ সকল ঘটনায় শিল্পী সমিতি সতর্ক করবে, আইনি নোটিশও দিতে পারে। এরপরেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে শিল্পী সমিতি আজীবন নিষিদ্ধ করতে পারে।