• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

বেতন-বোনাসের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক সমাবেশ


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৯, ২০২৩, ৯:৪৫ অপরাহ্ন / ৪২
বেতন-বোনাসের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়নগঞ্জঃ পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিকদের কাঙ্খিত ঈদ বোনাস ও সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ ঈদের আগে এপ্রিল মাসের বেতন প্রদান এবং অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। রবিবার সকাল ১০ টায় নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া শহীদ মিনারে এ সমাবেশ করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক এম এ শাহীন, বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলার সভাপতি আঃ হাই শরীফ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা শাখার যুগ্ন-আহবায়ক ইকবাল হোসেন মুনলাক্স গার্মেন্টসের শ্রমিক নাজমা আক্তার ও মোঃ শাহীন প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঈদ-উল ফিতরের ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের কাঙ্খিত ঈদ বোনাস ও সকল বকেয়া পাওনা ২০ রমজানের মধ্যে পরিশোধেসহ ঈদের ছুটির আগে এপ্রিল মাসের বেতন প্রদান করতে হবে। বেতন-বোনাস পরিশোধ নিয়ে কোন রকম গড়িমসি চলবে না। সময় মতো শ্রমিকরা টাকা না পেলে বাড়ি ফেরার গাড়ির টিকিট বুকিং, পরিবার পরিজনের জন্য সস্তায় দুটো নতুন কাপড় কেনা ও হাটবাজার করা সম্ভব হয় না। বারো মাস শ্রমিকদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে মালিকরা হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে। অথচ কতিপয় মালিক বারো মাসই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। মাসের পর মাস বেতন-ভাতা বকেয়া রাখে। ফলে সারা বছর শ্রমিকদের ধারদেনা করে চলতে হয়। মালিকরা ঈদকে কেন্দ্র করে সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ঈদ মূহুর্তে এসে কতিপয় মালিক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস না দিয়ে নিজের পরিবার পরিজনের জন্য ঈদের মার্কেটিং ও ঈদ উৎসব উদযাপন করতে বিদেশে পাড়ি জমায়। শ্রমিকদের বাড়ি ফিরে আপজনদের সহিত মিলিত হয়ে ঈদ উৎস পালনের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বেতন-বোনাস না পেয়ে ঈদের দিনেও না খেয়ে থাকে চোখের জলে তাঁদের বুক ভাসে। আমাদের দেশের গার্মেন্টস মালিকরা সবচেয়ে বেশি বিলাসী জীবন-যাপন করে অথচ শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেয়ার বেলায় বিত্তহীন হয়ে পড়ে। এবার কোন অজুহাত তুলে ছলচাতুরি করে পার পাওয়া যাবে না। কোন শ্রমিককে বেতন-বোনাস থেকে বঞ্চিত করা হলে সেই মালিকের বাড়ি ঘেরাও করে পাওনা আদায় করা হবে। এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার ও গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ-কে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বেতন-বোনাস নিয়ে শিল্পে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় দায়িত্ব মালিকদেরকেই নিতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারি-কর্মকর্তারা এক মাসের বেতনের সমান ঈদ বোনাস পায় কিন্তু দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি যে শ্রমিক তাঁদের এক’ই হারে বোনাস দেয়া হয় না। অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকদের নাম মাত্র বোনাস দেয়া হয়। এক দেশে দুই নিয়ম চলতে পারে না। ২০ রমজানের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকসহ অপরাপর সকল শ্রমিকদের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ ঈদ বোনাস ও সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ ঈদের আগে এপ্রিল মাসের বেতন প্রদান করতে হবে। সিদ্ধিরগঞ্জের মুনলাক্স এ্যাপারেলস শ্রমিকদের দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না।

ঈদ বোনাস দেয়ার নাম নেই। মালিক বে-আইনি ভাবে কারখানা বন্ধ করে রেখেছে কিন্তু শ্রমিকদের আইনগত পাওনা প্রদানের কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। এস এস ক্রিয়েটিভ স্টিজ গার্মেন্টসের মালিক শ্রমিকদের ৩ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদিকে শ্রমিকদের না খেয়ে মরার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ্যাপোলো ইস্পাত কারখানার শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। এসব কারখানার শ্রমিকদের সংকট নিরসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে শ্রমিকদের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। ঈদের আগে সংকট সমাধান না করা হলে পরিণতি ভালো হবে না।

তাঁরা আরও বলেন, নিত্যপণ্যের দাম,, ঘরভাড়া ও পরিবহণ ভাড়া বেড়েছে ফলে জনজীবনের ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ কিন্তু শ্রমিকের মজুরি এক টাকাও বাড়েনি। ফলে শ্রমিকরা চরম সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায়। পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে শ্রমজীবি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে। তা-না হলে ঈদের পর বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে দাবি আদায় করার হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাষাড়া সলিমুল্লাহ রোডে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর অবরুদ্ধ করে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছে। আন্দোলনের চাপে কলকারখানা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মালিককে চাপ দিলে মুনলাক্স শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন বিকাস একাউন্টে প্রদান করেন।

এ সময়য় নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তদন্ত কর্মকর্তা ও শিল্প পুলিশ সহ সকল গোয়েন্দা অফিসাররা কলকারখানার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে পর্যায়ক্রমে সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা বাড়ি যায়।