• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

বেঁচে থাকার স্বপ্নপূরনে ফ্রি অক্সিজেন ও ৫টাকায় হাজার টাকার খাদ্য সহায়তায় স্বপ্নপূরণ


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২১, ৯:০৩ অপরাহ্ন / ১১৫
বেঁচে থাকার স্বপ্নপূরনে ফ্রি অক্সিজেন ও ৫টাকায় হাজার টাকার খাদ্য সহায়তায় স্বপ্নপূরণ

ইমাম বিমান,ঝালকাঠিঃ ঝালকাঠিতে বেঁচে থাকার স্বপ্নপূরনে কোভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অথবা করোনা ভাইরাস উপস্বর্গ নিয়ে শ্বাষ কষ্টে ভুগছেন এমন রোগীদের ফ্রি অক্সিজেন সেবা এবং বিভিন্ন পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার দিয়ে মানুষের স্বপ্নপূরনে এগিয়ে চলছে জেলার অন্যতব মানবিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ”স্বপ্নপূরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থা”।

দেশে চলমান কঠোর লকডাউনেও মধ্যরাতে মধ্যবিত্ত পরিবারের দড়জার সামনে গোপনে খাদ্য সামগ্রী উপহার ও কর্মহীন খেটে খাওয়াা মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়া সহ মানুষকে সেবা করার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র ৫ টাকায় হাজার টাকার বাজার স্বপ্নের বাজার দিয়ে মানুষের স্বপ্নপূরণে কাজ করে যাচ্ছে জেলার অন্যতব মানবিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ”স্বপ্নপূরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থা” । ঝালকাঠি জেলা শহরের বাস ষ্ট্যান্ড সংলগ্ন ৩ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নপূরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থা’ । করোনা মহামারী শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৫ টাকায় মানবিক কেনাকাটা নামে স্বপ্নের বাজারের মাধ্যমে সংগঠনটি এ পর্যন্ত ১ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। ৫ টাকায় মানবিক এ স্বপ্নের বাজার থেকে চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ, লবন, সাবান, মাস্ক ও শিশু খাদ্যসহ হাজার টাকার পণ্য দিয়ে যাচ্ছে “স্বপ্নপূরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থা” নেতৃবৃন্দ।

২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনার প্রভাবে সরকার ঘোষিত লগডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে যায় দৈনিক খেটে খাওয়া মানুষেরা। ওই সময় থেকেই অসহায়দের জন্য মানবিক বাজার খুলে বসেন এ সংগঠনটি। আজ পর্যন্ত তারা মানবিক বাজার চালু রেখেছে। “পাঁচ টাকায় হাজার টাকার বাজার এতো স্বপ্নের বাজার” এমন মন্তব্য করেছেন সুবিধাভোগী রিক্সাচালক চুন্নু মিয়া। তিনি বলেন, লগডাউনে হাঙ্গাদিন রিসকা চালাইয়া পাই ২শ টাহা, বাজার হরমু কি দিয়া। এই ক্লাবের রিয়াজ মোরে ৫ টাহায় অনেক সদায় দেছে।

আরেক সুবিধাভোগী কামাল হোসেন বলেন, “কাইল ঈদ এই সময় ৫ টাহায় এতো বাজার পামু ভাবতেও পারিনাই।  ফাতেমা বেগম বলেন, রোজায়ও ৫ টাহায় এফতার নিছি এই স্বপ্নপূরণ কেলাব দিয়া। আইজগো আবার ৫ টাহায় যা কিনছি হেতে মাইয়া পোয়া লইয়া ১৫ দিন খাওয়ন যাইবো।

এ বিষয় সংগঠনটির সভাপতি রিয়াজ খান অশ্রু বলেন, “মধ্যবিত্ত যারা ত্রানের লাইনে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে মূলত তাদের জন্যই আমাদের এই মানবিক বাজার। আমরা সাহায্য দেইনা, আমরা বিক্রি করি। হোক সেটা ৫ টাকায়, টাকার বিনিময়ে আমাদের কাছ থেকে খাদ্য সামগ্রী কিনে নেয় অসহায় মধ্যবিত্ত পরিবার এবং নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা। করোনা মহামারী যতদিনে শেষ না হবে ততদিন এই মানবিক বাজার কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও
সম্প্রতি ঝালকাঠিতে করোনা সংক্রমণ এর দিক দিয়ে প্রতিদিন সংক্রামনের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এজন্যই ধীরে ধীরে বেড়েই মৃত্যুর সংখ্যা, সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম অক্সিজেন সংকট এমন সময় আমরা স্বপ্নপূরণ সমাজকল্যাণ সংস্থা র পক্ষ থেকে স্বপ্নপূরণ ফ্রি অক্সিজেন জোন চালু সিদ্ধান্ত নেই। এসময় সংগঠনের দাতা সদস্য ছবির হোসেন, জানে আলম জনি ও রাজিবুর রহমান ভাই অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে সহযোগীতা সহ এলাকার বড়-ছোট ও প্রবাসী ভাইয়েরা আর্থিকভাবে আমাদেরকে সহযোগীতা করেছেন।
বিষয়টি উপদেষ্টা মন্ডলীদেরকে অবগত করলে তারা আমাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর মাধ্যমে উপদেস্টা জনাব সুলতান হোসেন খান, লিটন তালুকদার, ছবির হোসেন, আলআমিন বাকলাই, এড. নাসির উদ্দিন কবির ও ঝালকাঠি সরকারী কলেজ এর শিক্ষক বিশিষ্ট কবি জনাব বজলুর রশীদ সবুজ সহ বিভিন্ন মানবিক ব্যাক্তিদের সহায়তায় ৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে সেবা কার্যক্রম শুরু করি যা এখনও চলমান রয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্রি অক্সিজেন সেবা দিচ্ছে এই সংগঠনের সদস্যরা।” আমাকে এই মানবিক কাজে যারা সহযোযোগীতা করেছেন আমি আমার সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি একই সাথে আমাদের এ কাজ চলমান রাখতে সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।

ঝালকাঠি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর মো: আল আমীন জানান, “স্বপ্নপূরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থা মানুষের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই মহামারি করোনাকালে রোগীদের অক্রিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছে যা অত্যন্ত একটি কঠিন কাজ। এছাড়াও বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস বাংলাদেশে শুরু থেকে অদ্যবদী খাবার, সুরক্ষা উপকরণ কিংবা মসজিদের ওজু খানায় সাবান বিরামহীন ভাবে সরবারহ করে চলেছে। তাদের এ মহতি কাজকে আমি সাধুবাদ জানাই। সবাইকে আল্লাহ এ কাজে কবুল করেন না। যাদের কবুল করেছেন তারা নি:সন্দেহে অত্যন্ত ভাগ্যবান লোক। এ সংগঠনটির সকল সেবামূলক কাজে আমি সম্ভবপর সহযোগিতা করব ইনশাল্লাহ। ইতিপূর্বে গোপনে এ সংগঠনের সেবামূলক কাজে আমি সহযোগিতা করেছি। সাথে সাথে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সহ যারা সংগঠনে জড়িত রয়েছেন সকলকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই এবং তাদের কল্যাণ কামনা করছি।