• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ Jul ২০২৪, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটক বাড়ছে : তৈরী হয়েছে আরো চারটি নুতন পর্যটন কেন্দ্র


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩, ৭:০৫ অপরাহ্ন / ২৩২
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটক বাড়ছে : তৈরী হয়েছে আরো চারটি নুতন পর্যটন কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাটঃ প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশ্ব ঐতিহ্য পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ হিসেবে সুখ্যাত সুন্দরবনের প্রতি মানুষের আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। প্রতি বছরই বনের সৌন্দর্য উপভোগে পর্যটকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভরা এই পর্যটক মৌসুমে সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হচ্ছেন পর্যটকরা। বছর জুড়ে সুন্দরবনে পর্যটকদের আসা-যাওয়া থাকলেও এই মুহূর্তে পর্যটকদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

বন বিভাগ বলছে, সুন্দরবন সব সময়ই পর্যটক আকর্ষণ করে। বছরে প্রায় দুই লাখ পর্যটক ভ্রমণ করে, যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শীত মৌসুমে বেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে যায়। বনের একই স্থানে পর্যটকের চাপ কমাতে এবার বাড়ানো হচ্ছে পর্যটন কেন্দ্র। সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতকে জাগিয়ে তুলতে পারলেই অর্থনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী হবে। উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এ খাতে আমাদের গুরুত্ব বা নজর দিতে হবে। আর বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারলে এ খাতে রাজস্ব অনেক বাড়বে।

সুন্দরবনের কিছু মনোমুগ্ধকর স্থান রয়েছে। যেখানে না গেলে আপনার সুন্দরবন যাওয়া সার্থক হবে না। যেমন হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, শরণখোলা, ছালকাটা, টাইগার পয়েন্ট টাওয়ার, টাইগার পয়েন্ট সি বিচ, জামতলা সি বিচ, সাত নদীর মুখ, কালীরচর উল্লেখযোগ্য। করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলার চর, হিরণ পয়েন্ট (নীল কমল), কলাগাছী, কাগা দোবেকীতে ৮টি পর্যটন কেন্দ্রর পাশাপাশি সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের আওতাধীন খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কালাবগী, পূর্ব বন বিভাগের আওতাধীন শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্ধা এবং চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিকে এ বছর থেকে চালু হচ্ছে আরো নতুন ৪টি পর্যটন কেন্দ্র।

বন বিভাগ বলছে, ২০২১ সালে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে নতুন ৪টি পর্যটন কেন্দ্রের কাজ শুরু হয়, যা এখনো চলমান। এ বছর পর্যটন মৌসুমের শুরু থেকে কালাবগী ও আন্ধারমানিক কেন্দ্র দুটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। অন্য দুটির কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।

খুলনা অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, পর্যটক বাড়ায় এবং বনের জীববৈচিত্র্য ও সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কালাবগী, শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্ধা ও চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিকে নতুন ৪টি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যটন কেন্দ্রের কাজ শেষ হয়ে যাবে। যদিও কাজ শেষ হওয়ার আগেই দুটি কেন্দ্রে পর্যটক যাওয়া শুরু করেছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই হয়তো শেখেরটেক ও আলীবান্ধা কেন্দ্র দুটি উন্মুক্ত করে দেয়া যাবে। নতুন পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয় হবে। এতে পর্যটকরা এক জায়গায় ভিড় না করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সুন্দরবন দেখার সুযোগ পাবে।

বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় সুন্দরবন থেকে বিভিন্ন ধরনের কাঠ, মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধুসহ ১২ ধরনের খাত থেকে রাজস্ব আহরণ করা হতো। ১৯৮৯ সালে আইন করে গেওয়া, গরান ছাড়া সব ধরনের গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। ২০০৭ সালে উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালে আইলার পর গেওয়া ও গরান আহরণও বন্ধ করে দেয় বন বিভাগ। বর্তমানে শুধু মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধু ও পর্যটন থেকে রাজস্ব আহরণ করা হচ্ছে।