• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে গোমতী- কুমিল্লা দেবিদ্বারে পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবার


প্রকাশের সময় : জুন ২২, ২০২২, ১:৪৪ পূর্বাহ্ন / ৭৭
বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে গোমতী- কুমিল্লা দেবিদ্বারে পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবার

মোঃ রাসেল সরকারঃ অব্যাহত বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বেড়ে বিপদ সীমা ছুঁই ছুঁই করছে। ইতোমধ্যে কুমিল্লার দেবিদ্বারে গোমতীর পানিতে ডুবে গেছে চরের সবজি ও ফসলের মাঠ। উপজেলার পৌর এলাকা এবং চারটি ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করায় বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন অনেকেই।

মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের রঘুরামপুর, গঙ্গানগর, পৌর এলাকার বড় আলমপুর, শিবনগর. বিনাইপাড়, ভিংলাবাড়ি এবং ফতেহাবাদ ও সুবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সড়কসহ আশ-পাশের এলাকা ডুবে গেছে। অনেকের ভিটায় পানি উঠে যাওয়ায় ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

উপজেলার শিবনগর, খলিলপুর, মাছুয়াবাদ এলাকার বেড়িবাঁধে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বালির বস্তা ফেলে তা বন্ধ করতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রঘুরামপুর ৩০৫ টি, পৌরসভার বড় আলমপুর এবং শিবনগর এলাকার ১৪২ টি ও গঙ্গানগর ৪৭টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে গেছে।

তবে ফতেহাবাদ ও সুবিল ইউনিয়নের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। গোমতীর বাধের ভিতরে আটকে পড়া মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে ৪টি টিম কাজ করছে। এদের মধ্যে জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের রঘুরামপুর ও গঙ্গানগর এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বয়ে তিনটি টিম এবং বড় আলমপুরে পৌরসভার একটি টিমসহ চারটি টিম কাজ করছে।

এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে একটি টিম পুরো এলাকার কোথাও বেঁড়িবাধের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করছে।

পানি উন্নয়ন বোডের্র উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দেবিদ্বার এলাকায় গোমতীর পানি ৭.৭ সেমি. উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। গড়ে প্রতিঘণ্টায় ২.৩ সেমি. পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ এলাকায় বিপদসীমা ৮.৫ সেমি.।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিক উন নবী তালুকদার জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। আমাদের কাছে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা আছে। যদিও এখনো কোন সংকট দেখা দেয়নি।

আমরা শিবনগর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রঘুরামপুর মাদ্রাসা ভবন ও জাফরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রেখেছি।