শেখ শিবলী রাজশাহী ব্যুরোঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র জননেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ১৯৮১ সালের ১৭ই মে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ৬ বছরের বাধ্যতামুলক প্রবাস জীবন শেষে বঙ্গবন্ধুবিহীন এই বাংলাদেশে পা রেখেছিলেন। দেশে ফিরে আসার পথে বিমানে বাবা-মা, ছোট ভাই শেখ রাসেল ও বাংলাদেশের কথা চিন্তা করে বারবার কেঁদেছিলেন তিনি। সেদিন বিমানবন্দরে লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল। বিমানবন্দর থেকে মানিক মিয়া এভিনিউতে যেতে সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা। পথে পথে লাখ লাখ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বৃষ্টিতে সিক্ত হয়েও দাঁড়িয়ে ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখার জন্যে। তারা স্লোগান দিয়েছিল, শেখ হাসিনা ভয় নাই। আমরা আছি লক্ষ ভাই, শেখ হাসিনা ভয় নাই। রাজপথ ছাড়ি নাই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে মহানগরীর বাটার মোড়ে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জনসমাবেশে জননেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে না আসলে এতো উন্নত দেশ আমরা পেতাম না। তিনি না আসলে আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ হতে হতো। সেখান থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের বাঁচিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। আর তাঁরই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশ গড়ছেন। বাংলাদেশ এখন সুন্দর সমৃদ্ধ-উন্নত দেশ। উন্নয়নের শিখরে পৌছে গেছে বাংলাদেশ। আমরা আরো অনেক দূর যেতে চাই। যিনি আমাদের উন্নয়ন দিচ্ছেন, আমাদের তাঁর সাথেই থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
সমাবেশে রাসিক মেয়র বলেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনার এদেশে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা সুখকর ছিল না। নানা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তিনি গ্রামে গঞ্জে তৃণমূলে গেছেন, বঙ্গবন্ধুর পরে একমাত্র তিনিই জানেন তাঁর আওয়ামী লীগের কর্মীরা দেশের কোথায় কারা আছে। দেশকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনা এদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জননেতা খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, শেখ হাসিনার হাতেই দেশের মানুষ নিরাপদ। আওয়ামী লীগ সরকার কখনো ব্যর্থ হয়নি। খালেদা জিয়া ব্যর্থ হয়েছে বারবার। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে কয়েক বছর রাতে কারফিউ দিয়ে দেশকে অচল করেছিল।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের অবস্থা আমরা ভুলিনি। জিয়াউর রহমান মৌলবাদীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সেই ইতিহাস আমরা ভুলিনি। বাংলাদেশকে পাকিস্তানে পরিণত করতে যা যা করার দরকার সব করেছিলেন জিয়াউর রহমান। সেই ইতিহাস ভুললে চলবে না।
জনসমাবেশে বাটার মোড়ের চত্বরকে জয় বাংলা চত্বর হিসেবে ঘোষণা করেন রাসিক মেয়র মহোদয়।
জনসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা এসএম কামাল হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এসেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। শেখ হাসিনা এসেছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে জিয়াউর রহমান। জিয়ার অনুসারীরা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য বারবার চেষ্টা চালিয়েছে। আজকেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা জানে শেখ হাসিনা থাকলে বাংলাদেশ কোনদিন পাকিস্তান হবে না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশ ভালো থাকে। বিএনপির ব্যবসায়ীরাও বলে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে তারা ভালো থাকে। সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী মানুষও মনে করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে তারা ভালো থাকে।
এসএম কামাল হোসেন আরো বলেন, রাজশাহীতে প্রতিটি ওয়ার্ডে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আওয়ামী লীগের কমিটি করতে হবে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার করবে রাজশাহীতে জননেতা খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে পাড়ায় মহল্লায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ডাবলু সরকার। মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য বেগম আখতার জাহান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মনসুর রহমান ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আদিবা আঞ্জুম মিতা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাকিরুল ইসলাম সান্টু, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা, মহানগর যুবলীগ সভাপতি রমজান আলী, জেলা যুবলীগ সভাপতি আবু সালেহ, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মমিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রেন্টু, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম, রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু। জনসমাবেশে সঞ্চালনা করেন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আসলাম সরকার ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু।
আপনার মতামত লিখুন :