বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
এক মাসে ৩টি সম্মাননা পেলেন সুলতানা রোজ নিপা নড়াইলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সর্ম্পক উন্নয়ন শীর্ষক সেমিনার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নড়াইলে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৪ সদস্য আটক, ৮টি মোটর সাইকেল উদ্ধার মধ্যনগরে ঈদের আমেজ হারিয়ে গেছে দুর্যোগের কবলে কাপড় দোকানে বেচাকেনায় মন্দা ক্রেতার উপস্থিতি কম গোপালগঞ্জের বোড়াশী ইউনিয়নে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের মধ্যে জমবে নির্বাচনী লড়াই আয় কমার ভয়ে মহাসড়কে বাইক বন্ধ করিয়েছেন বাস মালিকরা রাজধানী খিলগাঁওয়ে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ রাজধানী রমনায় হেরোইনসহ একজন গ্রেফতার ব্যবসায়িক হত্যার মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড রাজধানীর কমলাপুরে কালোবাজারের টিকিট বিক্রয়ের সময় ৫ জন আটক

বগুড়ায় দুদকের মামলার আসামীকে স্কুল কমিটির সভাপতি করার পায়তারা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২২ মে, ২০২২
  • ৪৩৪ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কতৃক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হওয়া সত্ত্বেও অবৈধভাবে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্ট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করা হচ্ছে মাঝিহট্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. এস্কেন্দার আলী সাহানাকে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিনের যোগসাজশে দুদকের মামলার বিষয়টি গোপন রেখে এস্কেন্দার আলী সাহানাকে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক সদস্যদের।

অভিভাবক সদস্যদের মধ্যে আব্দুল মান্নান, তাইজুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম সহ অন্যান্যরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন- ‘‘প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিনের সহযোগিতায় চেয়ারম্যান এস্কেন্দার আলী বিদ্যালয়ের ২জন অভিভাবক সদস্যকে অর্থলোভ দেখিয়ে এবং আমাদের ৩জনকে না জানিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। অথচ তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও দুদকের মামলা রয়েছে। ফলে তার সভাপতি পদে বহাল হওয়া নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ। আমরা ইতিমধ্যেই তদন্তের মাধ্যমে এস্কেন্দার আলী সাহানার মতো দুর্নীতিবাজ লোককে বাদ দিয়ে উপযুক্ত যে কাউকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড(রাজশাহী), উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত দরখাস্ত করেছি। মূলত বিদ্যালয়ের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতেই তার মতো একজন অসৎ লোককে সভাপতি নির্বাচিত করার পায়তারা চলছে। আমাদের একটাই দাবি- আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার পরিবেশ যেনো কোনো দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। আমরা চাই একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি সভাপতি হয়ে আসুক, যাতে করে আমরা ছেলে মেয়েদের শিক্ষা জীবন নিয়ে শঙ্কায় না থাকি।’’

এদিকে মাঝিহট্ট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিনের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, এস্কেন্দার আলী সাহানাকে সভাপতি করে তার নিয়োগ বৈধ করা এবং বেতন চালু করার চেষ্টা করছে। তার এই অভেদ্য নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে বগুড়া জজ কোর্টে একটি মামলাও রয়েছে।

জানা গেছে, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ দামপাড়া এলাকার মৃত. তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে বর্তমানে মাঝিহট্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. এস্কেন্দার আলী সাহানা। এর আগে টানা ৬ বছর সে শিবগঞ্জ এর দামগাড়া স্কুলের সভাপতি ছিল। এছাড়া সে বর্তমানে জামতলা হাই স্কুল, দামগাড়া সৈয়দ মিনা উচ্চ বিদ্যালয় সহ আরও বেশ কয়েকটি স্কুলের সভাপতি। প্রতিটি স্কুলেই তার মাধ্যমে ৮ থেকে ১০টি নিয়োগ রয়েছে। এছাড়া দামগাড়া স্কুলে ৬০ লাখ টাকার হিসাব গড়মিল করেছেন এস্কেন্দার আলী সাহানা। সব মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্যকে সফল করতেই তার একের পর এক স্কুলের সভাপতি হওয়ার পায়তারা।

তার ছেলে মাঝিহট্ট ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্ককৃত সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো. গোলাম হাফিজ সোহাগ মহামারী করোনাকালীন সময়ে দরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ত্রাণের ৩শ’ ৩০ কেজি চাল দরিদ্রদের না দিয়ে নিজের ঘরে মজুত রেখে আত্মসাৎ করে। শিবগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছানোয়ার হোসেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল বিকেলে চেয়ারম্যান সোহাগের বসত বাড়ির দু’তলার ঘর থেকে সরকারি ত্রাণের ৩শ’৩০ কেজি চাল উদ্ধার করে এবং তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে। সেই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) সোহাগের বিরুদ্ধে চার্জশীট গঠন করে। ফলে চেয়ারম্যান মো. গোলাম হাফিজ সোহাগকে তখন সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার এসকেন্দার আলী তার সময়ে একই দাতা-গ্রহিতার ৪টি দলিল করে দুই কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন। ২০১৫ সালে কোন্ডা মৌজায় ১৭৪৭৭ ও ১৭৪৭৮নং দলিলে ৫১৩.২৫শতাংশ জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ‘টাট্টি’ শ্রেণি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করে প্রায় ২ কোটি টাকা সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছেন। আর তিনি ও দলিল লেখক মিলে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। অথচ জমিটির প্রকৃত শ্রেণি ‘নাল’। টাট্টি নামে ওই মৌজায় কোনো শ্রেণিই নেই। সাব-রেজিস্ট্রার এসকেন্দার আলী নিজের পকেট ভারী করতেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জমিটি রেজিস্ট্রি করেছেন বলে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়েছে।

অবৈধভাবে সম্পদ ভোগ দখলে রাখার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তিতে ২০২১ সালে সেই মামলায় তার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু হলেও স্থানীয় থানা পুলিশকে ঘুষ দিয়ে ওয়ারেন্ট আটকে রেখে দেদারছে চলাফেরা করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি- এস্কেন্দার আলীর মতো দুর্নীতিবাজ লোক কিভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদে থাকে এবং একইসাথে সে কিভাবে একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে রাখা হয়! এমন অসৎ লোককে এসব পদ পদবিতে রেখে সমাজ ধ্বংস করার বদলে তাকে আইনের আশ্রয়ে নিয়ে দ্রুত যথাযথ শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা উচিত।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin