• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

ফরিদপুরে ইজিবাইক চোর চক্রের ১২ সদস্য আটক


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ন / ৫১
ফরিদপুরে ইজিবাইক চোর চক্রের ১২ সদস্য আটক

সাজ্জাদ হোসেন সাজু, ফরিদপুরঃ ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোর চক্রের মূল সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ সংক্রান্তে বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জানানো হয়, ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন ইজিবাইক পার্কিং এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ইজিবাইক চুরির ঘটনা ঘটে আসছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়। এরপর পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে অভিযান চালায়।

পুলিশ জানায়, আটককৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ইজিবাইক চুরি করতেন। চুরি করা ইজিবাইকগুলো শনাক্ত এড়াতে তারা যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা করতেন, রং পরিবর্তন করতেন, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বিকৃত করতেন এবং অবৈধ গ্যারেজে নতুনভাবে সংযোজন করে বিক্রি করতেন। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তারা অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের ধারণা।

অভিযান চলাকালে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মধুখালী ও কোতোয়ালি থানা এলাকা ছাড়াও শরীয়তপুর ও মাগুরার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১৮টি চোরাইকৃত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৩টি সচল এবং ৫টি অচল অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ ও কাটার মেশিন জব্দ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন-মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল, মিলন খান, মোঃ আশরাফ, শহীদ শিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সবাই পেশাদার ইজিবাইক চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ আরও জানায়, ইজিবাইক চুরির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো হবে। ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চুরি প্রতিরোধে পার্কিং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে এই সফল অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে বলে তারা আশ্বস্ত করেন।