• ঢাকা
  • শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন

প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে চাঁদাবাজি,অবৈধ বালু উত্তোলন ইউএনও-এসি ল্যান্ডের অভিযান অব্যাহত


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৪, ২০২৩, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন / ৫১
প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে চাঁদাবাজি,অবৈধ বালু উত্তোলন ইউএনও-এসি ল্যান্ডের অভিযান অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে দিনে ও রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে চলছে বালু-মাটি উত্তোলন। এমনকি অভিযোগ রয়েছে,এসব বালু-মাটি উত্তোলনে তোলা হয় প্রশাসনের নামের চাঁদা। প্রশাসনকে ম্যানেজ করার নামে প্রতিদিন নেয়া হয় ২৮ হাজার করে টাকা। এসব অবৈধ বালু-মাটি উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)।

তবে আজ অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়েছে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনকারীরা। এসময় বালু-মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে প্রশাসন। সোমবার (০৩ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদী রক্ষা ০৬ নম্বর বাঁধ,০৭ নম্বর বাঁধ ও ০৮ নম্বর বাঁধ এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে,দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদী রক্ষা ০৬ নম্বর বাঁধ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে ০৭ নম্বর বাঁধের পাশে পদ্মা নদীতে উত্তোলনে নেতৃত্ব দেন,জাফরুল,শাহিন ও স্বপন । এছাড়াও ০৮ নম্বর বাঁধ এলাকায় বালু-মাটি উত্তোলন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন লুটু। জানা যায়,জাফরুল নামের ব্যক্তি দৈনিক ২৮ হাজার টাকা করে প্রশাসনকে ম্যানেজ করার নামে টাকা উঠায় পরে খোজ নিয়ে জানাযায় নিজের পকেটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ০৭ নম্বর বাঁধে বালু-মাটি উত্তোলন চক্রের এক অংশীদার বলেন,কয়েকজন অংশীদার মিলে আমরা রাতের অন্ধকারে বালু-মাটি কাটছি। আমাদের এখানে অন্যতম একজন ভাগিদার হলো জাফরুল। এমপি,ডিসি,ইউএনও এসি ল্যান্ডের নাম করে সে প্রতিদিন এখান থেকে ২৮ হাজার করে টাকা নেয়। তাই প্রশাসনও কোন অভিযান করে না।

এদিকে,ইউএনও-এসি ল্যান্ডের অভিযানের সময় ০৬ নম্বর বাঁধে অবৈধভাবে ট্রাক্টরে চাঁদাবাজির জন্য তৈরি করা একটি ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। এবিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রওশন আলী বলেন,অবৈধভাবে পদ্মায় বালু-মাটি খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যায় অবৈধ বালু-মাটি উত্তোলনকারীরা। তাই কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আগামীতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সাংবাদিকদের।

এদিকে,প্রশাসনের নামে চাঁদাবাজির বিষয়ে জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন বলেন,অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে কোন ছাড় নেই। প্রশাসনের নামে টাকা তুলে ছাড় পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। প্রশাসনের নামে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে,শনিবার (০১ এপ্রিল) ০৮ নম্বর বাঁধ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হলেও সংঘর্ষ বা কেউ হতাহত হয়নি। সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের নবাব জায়গীর পদ্মা নদীর ৮ নম্বর রক্ষা বাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে জনগণের সূএে সরজমিনে গিয়ে জানা যায় অবৈধ বালু মাটি উত্তোলনের গডফাদার জাফরুল য়ার মোবাইল নাম্বার ০১৭১০২৩৩০৬৬ অবৈধ বালু মাটি উত্তোলনের সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা ৬,৭,৮,নাম্বার বাদের ব্লকের নিকটবর্তী মাটির বালু উত্তোলন করে প্রতিনিয়ত শহর গ্রাম গঞ্জের হুমকির মধ্যে রয়েছে,অবিলম্বে এই গডফাদারের সাথে সঙ্ঘবদ্ধ চক্রকে মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে নবাব জায়গীর, চন্দ্রনারায়নপুর শিবিরহাট,চরবাগডাংগা এসব এলাকাগুলো পদ্মা নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।