• ঢাকা
  • শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:২৬ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনায় টুঙ্গিপাড়ায় পতিত জমিতে মেগা মৎস্য চাষ প্রকল্প


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৮, ২০২৪, ৯:১৫ অপরাহ্ন / ৩৩
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনায় টুঙ্গিপাড়ায় পতিত জমিতে মেগা মৎস্য চাষ প্রকল্প

মাহবুবুর রহমান মুরাদঃ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। শাক,সবজি, চাল-ডাল, আটা থেকে শুরু করে মাছ-মাংসের দামও এখন আকাশচুম্বী। এই মন্দা দূর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবাদযোগ্য পতিত জমিতে চাষ করতে বলেছেন। দেশের সব আবাদি জমিতে চাষ হলে সংকট কেটে যাবে। তাই দেশের প্রতি ইঞ্চি পতিত জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের সব আবাদি জমি যদি চাষের আওতায় আনা যায়, তা হলে দেশে আর কোনো সংকট থাকবে না। খাদ্যের অপচয় নয়, সকলের প্রচেষ্টায় এটা করা সম্ভব যার যেখানে যতটুকু জমি আছে তা চাষের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনায় এবার তারই নিজ এলাকা টুঙ্গিপাড়ায় শুরু হয়েছে একটি মেগা মৎস চাষ প্রকল্প। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা মৌজার বড় সিঙ্গারপাড় ( গিমাডাঙ্গা বিল) এর প্রায় ৩০০০ বিঘা অনাবাদি জমিতে মাছ চাষের উদ্যোগ নিযয়েছে স্থানীয় তরুণ দুই মৎস উদ্যোক্তা সাবেক ইউপি সদস্য শেখ আসলাম ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক কামরুল ইসলাম বিশ্বাস। গোপালগঞ্জে এই প্রথম এত বড় মৎস চাষ প্রকল্প হাতে নেওয়া স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই তরুণ দুই মৎস উদ্যোক্তা। মৎস চাষের জন্য বড় সিঙ্গারপাড় বিলের প্রায় ৩০০০ বিঘা জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে প্রায় আনুমানিক ২০ কোটি টাকা ব্যায়ে এই মৎস চাষের প্রায় ৫০০ শত পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের মধ্যে শেখ আসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন দেশের সব অনাবাদি জমি যদি চাষের আওতায় আনা যায়, তা হলে দেশে আর কোনো সংকট থাকবে না। তাই দেশের প্রতি ইঞ্চি পতিত জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা সেই ঘোষণা কে বাস্তবায়ন করতেই টুঙ্গিপাড়ায় এমন মেগা মৎস চাষের উদ্যোগ নিয়েছি।

উদ্যোক্তা কামরুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, আমাদের এই মৎস চাষ একদিকে যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবে তেমনি করে প্রায় ৫০০ শত পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ফলে স্থানীয় বেকারত্ব অনেকাংশে কমে যাবে। তিনি বলেন এই প্রকল্পে যাদের জমি রয়েছে তাদের প্রত্যেককে বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা করে দিয়ে এই জমি গুলো মাছ চাষের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। আশা করছি ভালো কিছু করতে পারবো

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাম বলেন, টুঙ্গিপাড়ায় এমন একটি মহৎ উদ্যোগ কে সাধুবাদ জানাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন তারা সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা বাংলাদেশ মৎস অধিদপ্তর এর পক্ষ থেকে যে ধরণের সহায়তা প্রযয়োজন সেটা করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রাকিবুল ইসলাম জানান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় বর্তমানে ৪২৫ হেক্টর চাষ যোগ্য অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা হয়েছে যেখানে ইতিমধ্যে চাষ শুরু হয়েছে। এবং প্রায় ১৭৩০ হেক্টর চাষ যোগ্য অনাবাদি জমি রয়েছে। তার ভিতর থেকে স্থানীয় দুই উদ্যোক্তা যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটা প্রশংসনীয়। এই প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এখানে এখানে শুধু মৎস্য চাষ নয় বরং সকল ধরনের ফসল ফলানো সম্ভব। এবং স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈনুল হক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা যতটুকু জমি আছে তা চাষের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে । সেই মোতাবেক এই তরুণ দুই মৎস উদ্যোক্তা যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সেটা পরিপূর্ণ হলে দেশের মৎস চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এসময় তিনি উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তরুণ এই মৎস্য উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।