শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন



প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ২১ ঘরের ১৫টিতেই ফাটল : জানুয়ারি মাসে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
  • ৭৮ Time View

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গোসাইরহাটে দেওয়া উপহারের ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে ছয় মাস না যেতেই শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেওয়া উপহারের ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের মহিষখালী মৌজায় ২১টি পরিবারের জন্য নির্মিত ঘরগুলোর ১৫টিতেই ফাটল দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে ১১টি ঘর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ঘরগুলোর মেঝে, দেয়াল ও পিলার ও রান্নাঘরে ফাটল ধরেছে। এর মধ্যে দুটি ঘরের পিলার ধসে গেছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলো থেকে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের পর ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে উপকারভোগীদের মাঝে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বর্ষা মৌসুম শেষে ধ্বসে যাওয়া ঘরগুলো মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপকারভোগীরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-২) ‘ক’ তালিকার গৃহহীন ও ভূমিহীন অসহায় পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গত অর্থবছরে ইদিলপুর ইউনিয়নের মহিষখালী মৌজায় ৬৭ শতাংশ জমির ওপর ২১ পরিবারকে সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘর তৈরিতে বরাদ্দ ছিল এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে নির্মিত এসব ঘর গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়। সেমিপাকা দুই কক্ষ বিশিষ্ট এসব ঘরে একটি রান্নাঘর ও টয়লেট রয়েছে। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই ঘরগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলে চাল দিয়ে পানি পড়ছে। ঘর তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও টাকা লুটপাটের অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।

এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হুসাইন। কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাহমিনা আক্তার চৌধুরী।

উপকারভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর দেওয়ায় আমরা খুশি। কিন্তু ঘরে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন ঠিকাদাররা। বৃষ্টি শুরু হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে। অধিকাংশ ঘরের মেঝে ও পিলার ফেটে গেছে। এসব ঘর বেশি দিন টিকবে না।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা শিরিনা আক্তার ও ফাতেমা আক্তার জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি। তার জন্য দোয়া করি। কিন্তু আমাদের ঘরগুলো নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আমাদের ঘরের সামনের তিনটা পিলার ফেটে গেছে। কখন ভেঙে পড়ে, চিন্তায় আছি। খুব আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি আমরা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা সৈয়দন নেসা বলেন, ঘরের মেঝেতে ফাটল ধরেছে। চাল দিয়ে পানি পড়ে। এখানের প্রায় সবগুলো ঘরের একই অবস্থা। কোনওটির পিলার ফেটে গেছে, কোনওটির চাল দিয়ে পানি পড়ে, কোনওটির মেঝে ফেটেছে আবার কোনওটির দেয়ালে ফাটল ধরেছে। আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার না করলে দুর্ঘটনা ঘটবে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা লুৎফা বেগম বলেন, আমার ঘরের রান্নাঘর ও টয়লেট ভেঙে গেছে। থাকার কোনও অবস্থা নেই। চেয়ারম্যান ও পিআইওকে বলার পর এসে দেখে গেছেন। সেই সঙ্গে বলে গেছেন অন্য ঘরে থাকতে। পরে ঘর মেরামত করে দেবেন বলেছেন তারা। তিনি বলেন, প্রায় সব ঘরের একই অবস্থা। কম সিমেন্ট দিয়ে ঘর তৈরি করা হয়েছে। এজন্য সব ঘরে ফাটল ধরেছে। ছয় মাসও গেলো না। ঘরগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে।

এসব ঘরে ফাটল ধরাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে গোসাইরহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাহমিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ওই জায়গা সিলেকশন ভুল ছিল। এবার অতি বর্ষণের কারণে প্রকল্পের ঘরগুলোতে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এরপরও আশ্রয়ণ প্রকল্পটি টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। বর্ষা মৌসুম শেষে ওসব ঘর মেরামত করে দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানভির আল নাসিফ বলেন, আমি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেবো এবং ঘরগুলো পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। এরপর তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।



Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category



© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin