• ঢাকা
  • শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

পৌষ পার্বনে মেতে উঠেছৈ আবহমান গ্রাম বাংলা


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৪, ২০২৩, ৪:৩৬ অপরাহ্ন / ৫১
পৌষ পার্বনে মেতে উঠেছৈ আবহমান গ্রাম বাংলা

মোজাম্মেল হক,চারঘাট,রাজশাহীঃ পৌষ মাস, গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে নবান্ন আর পিঠাপুলির উৎসব। ষড় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ, বর্ষ পরিক্রমায় প্রতি বছর ঘুরে আসে পৌষ মাস। আবহমান গ্রাম বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্যে লালিত নবান্ন আর পিঠাপুলি উৎসবের মাস হলো পৌষ মাস। ঋতু চক্রের আবর্তে শিশির স্নাত শরত ও হেমন্তকে বিদায় দিয়ে প্রকৃতির রাজ্যে চাদর মুড়ি দিয়ে আসে শীত ঋতু।

পৌষ ও মাঘ এই দুই মাসের স্থায়িত্ব নিয়ে আসা এই ঋতু বাংলাদেশের কৃষক কুলের অতি কাংখিত ও প্রত্যাশিত। বর্ষা ও শরতে কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শ্যামল প্রান্তরে যে সবুজ ধানের চাষ করে, এই শীত ঋতুতে তার কাংখিত সুফল ভোগ করে। হেমন্তের সোনাঝরা রোদে কৃষকরা মাঠ থেকে তুলে আনে সোনালী ফসল ধান। সোনালী রংয়ের পাকা আমন ধানে ভরা মাঠের পর মাঠ দেখে যেন মনে হয় প্রকৃতি বিমল হাসিতে উপচে পড়ছে।

ধান কেটে বাড়িতে এনে বাড়ির আঙ্গিনায় মাড়াই করার কাজে কৃষকের পাশাপাশি কৃষানীরাও সহযোগিতা করে থাকে। মাঠ থেকে গাঁয়ের পথ বেয়ে পাকা ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে কৃষকের বাড়ি ফেরার দৃশ্য দেথে মুগ্ধ হয়ে যায় প্রকৃতি প্রেমিরা। কৃষকের ঘরে নতুন আমন ধান আর সুগন্ধি মজাদার খেজুরের রস ও গুড়ে বাংলার পল্লী প্রান্তর মেতে উঠে নবান্ন আর পিঠা পুলির উৎসবে। ক্ষনিকের জন্য হলেও ব্যস্ত শহরবাসি ছুটে যায় ছায়া সুনিবিড় পল্লী মায়ের প্রান্তরে। ”কবি বেগম সুফিয়া কামালের সেই কবিতা “বহুদিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লী মায়ের কোল, ঝাঁউ শাখে সেথা বনলতা বাঁধি হরষে খেয়েছি দোল। এই কবিতাটি মনে হলেই ইচ্ছে করে শহর থেকে পল্লী গাঁয়ে ছুটে যেতে।

পৌষ পার্বন যেন প্রতিটি বাঙ্গালীর অতৃপ্ত বাসনা। নবান্নের ধুম শেষ না হতেই পৌষ পার্বনের পিঠা খাওয়ায় মেতে উঠে পল্লী গাঁয়ের গৃহবধু থেকে শুরু করে কিশোর কিশোরী আবার বৃদ্ধ সবাই।

শনিবার বাংলার ঘরে ঘরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পৌষ পার্বন। ইতি মধ্যেই বাড়ি বাড়ি জামাই মেয়ের আনন্দের ধুম পড়ে গেছে। পৌষ পার্বনের দিন ভোর বেলা পল্লী গাঁয়ের দামাল ছেলেরা গরু, ছাগল নিয়ে হো হো শব্দ করে মাঠে দৌড়া দৌড়ি করবে আর মাঠের ফসল খাওয়াবে। এক সময় এটাকে আনন্দ উৎসব বলে কৃষকদের ক্ষতি হলেও মেনে নিত কিন্তু এখন কৃষকরা ভোরে জমি পাহারা দেয়। সব কিছু হারিয়ে গেলেও এখনো গ্রাম বাংলায় পৌষ পার্বনের প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখেছে গাঁয়ের মানুষগুলো।