• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন

নব্য আন্ডারওয়ার্ল্ড রূপসী রুপা মনি সাংবাদিকদের ভীতি- প্রশাসনের মাসি! পর্ব-৪


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩১, ২০২১, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন / ৫২২
নব্য আন্ডারওয়ার্ল্ড রূপসী রুপা মনি সাংবাদিকদের ভীতি- প্রশাসনের মাসি! পর্ব-৪

আতাউর রহমান, মেহেরপুরঃ ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে মেহেরপুর জেলার নিলুফার ইয়াসমিন রুপা ওরফে রুপা মনি হয়েছেন অঢেল অর্থ-সম্পদের মালিক। তার রূপ ও সৌন্দর্য কে পুঁজি করে জেলার রাজনীতিবিদ প্রশাসনকে বশ করে অপরাধের সাম্রাজ্য ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলছে রূপসী আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন।

রুপা মনির বিষয়ে বেশকিছু সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রচার হওয়ার পরেও প্রশাসনের টনক নড়ছে না উল্টো দিকে বাঁচানোর জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন রকমের কৌশল দেখা যাচ্ছে। সংবাদ প্রকাশের পর সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একের পর এক সাংবাদিককে মামলা এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আজকের বাংলাদেশ টুয়েন্টিফোর ডটকম সহ যেসব সংবাদপত্র গণমাধ্যমকর্মীরা তার অপরাধের অনুসন্ধান ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করেছে প্রতিনিয়তঃ তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদর্শন করে চলেছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এবং সকলের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজনীতিবিদ ও প্রশাসন তার আঁচলে বাঁধা সবাইকে দেখে নিবেন তিনি। সকলকে উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে দেখিয়ে দিবেন। তার হাত কত শক্তিশালী।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় রুপা মনি নব্য আন্ডারওয়ার্ল্ড রূপসী হিসেবে সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছেন। অস্ত্র রূপ কে কাজে লাগিয়ে তদবির বাণিজ্য বড় বড় ঠিকাদারি বাগিয়ে নেয়ার সহ নানা রকম অনৈতিক ব্যাবসা সাথে তিনি জড়িত বলে জানা গেছে। রুপা মনির সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর মেহেরপুরে টক অফ দা টাউনে রূপ লাভ করেছে।

মেহেরপুরের সেই আলোচিত আন্ডারওয়ার্ল্ড রূপসীকে সামাজিকভাবে পরিচিত করার জন্য মেহেরপুরের বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ ঢাকার কয়েকজন সামাজিক সংগঠনের প্রধান কারিগর রয়েছেন বলেও জানা গেছে। বহুমুখী অপরাধের আন্ডারওয়ার্ল্ড রূপসী রুপা মনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-নেত্রী পরিচয় দিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন।

মেহেরপুরের বিশেষ ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেহেরপুরের জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম শাহিন বলেন, সাংবাদিকদের কাজ হলো সত্য অনুসন্ধান করা। সত্য ঘটনা তুলে ধরা এবং দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করানো। রুপা মনির বিষয়টি সঠিক হলে অবশ্যই বিষয়টি আইনের আওতায় আনতে হবে। এখানে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে মেহেরপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক আরিফুল এনাম বকুল বলেন, এই ধরনের অনৈতিক কাজের সাথে ব্যক্তি সে যেই হোক, তাদের আইনের আওতায় অবশ্যই আনতে হবে। এটাই আমি আশা রাখি।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরজাহান বলেন, রুপা যে কাজ করছে বা করেছে এটা আমাদের নারী সমাজের জন্য খুবই লজ্জার বিষয়। এটি অবশ্যই প্রশাসনের দেখা দরকার।

এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা শিল্পকলার সাধারণ সম্পাদক এম সাইদুর রহমান বলেন, মেয়েটির শিল্পকলার শিল্পী হিসেবে নেই। শিল্পী কিনা তা আমার জানা নেই। রুপা বলে কথা নয় এই ধরনের কাজ যেই করবে তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

রুপা মনি কর্ম জীবনে যে কয় বছর আমঝুপি মউক এনজিওতে কাজ করেছিল প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক আসাদুজ্জামান সেলিম বলেন, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। আমার স্টাফদের কাছ থেকে শুনেছি সে বর্তমানে প্রচুর অর্থ সম্পদ গাড়ি-বাড়ির মালিক। বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়, এতো অল্প সময়ে এটা কি ভাবে সম্ভব ?।

এ ব্যাপারে মেহেরপুর বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খোকন বলেন, এটি মেহেরপুরের মানুষের জন্য একটি কলঙ্ক এবং ক্ষতিকর দিক।

মেহেরপুর আওয়ামী যুবলীগের সদর উপজেলার যুগ্ন আহবায়ক মিজানুর রহমান অপু বলেন, কেবল রূপা নয় বাংলাদেশে নারী সন্ত্রাসের উত্থান হয় ওয়ান-ইলেভেন যখন জামাত-শিবির বিভিন্ন মামলা-হামলায় গোপনে ছিল তখন তারা তাদের কৌশল পাল্টিয়ে লোভী উচ্চবিলাসী কিছু নারীদের ব্যবহার করে। সেই সব নারীরা লেবাস পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নসহ সমাজকে কলুষিত করে চলেছে। অবশ্যই সব ঘটনা দ্রুত বিচার ও আইনী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুপা মনির অত্যন্ত কাছের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী বলেন, সে আমার সুখের সংসার ভেঙ্গে দিয়েছে। এরকম অনেকের সংসারে সে আগুন জ্বালিয়েছে। সে একজন কলঙ্কিত নারী, সে অনেক অপরাধের সাথে জড়িত আমি এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, রুপাকে পুলিশী রিমান্ডে নিলে সব বেরিয়ে আসবে। আমি চাই তার যেন উপযুক্ত বিচার হয় যেন। রুপা মনি বিএনপির গোপন মিশনের আই পি হিসেবে কাজ করছে। সে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার ফলোয়ার, নিজেকে সেভাবেই প্রেজেন্ট করেন বলেও জানা যায়।

বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে রূপমূল এর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে সংবাদ প্রচারিত হলে তাকে বাঁচানোর জন্য স্থানীয় শীর্ষ কয়েকজন রাজনীতিবিদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উঠেপড়ে লেগেছে। সংবাদ প্রচার করা সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত হওয়া রানী করার জন্য মামলা করার সহায়তা সহ বিভিন্ন রকম পরামর্শদাতা হিসেবে যাদের চারপাশে ঘুরঘুর করছে তারা।
মেহেরপুরের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে দ্রুতই এমন নব্য রূপা মনিদের এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

(আরও থাকবে বিস্তারিত আগামী পর্বে, চলবে)