• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শাহানারার তথ্য প্রতারণা করে চাকুরী!


প্রকাশের সময় : মার্চ ১৭, ২০২৩, ১২:২০ পূর্বাহ্ন / ১১০
পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শাহানারার তথ্য প্রতারণা করে চাকুরী!

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার ও ইউপি চেয়ারম্যানের জাল সনদপত্র প্রদান সহ বেশ কিছু তথ্য প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে মাগুরা জেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোছা: শাহানারা খাতুনের বিরুদ্ধে। তবুও ঊর্ধ্বতন একটি সিন্ডিকেটের আশ্রয় প্রশ্রয়ে তথ্য প্রতারণার বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে প্রায় আট বছর ধরে চাকরিতে বহাল রয়েছেন। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

তথ্য গোপন, জালিয়াতি ও তথ্য বিকৃত করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। চাকরির শুরুতেই যারা অসততার আশ্রয় নেয়, তাদের অপরাধপ্রবণতা পরবর্তী সময়ে চাকরি ক্ষেত্রে দেখা দেয়াটাই স্বাভাবিক। আমরা মনে করি, সরকারি চাকরিতে ঢোকার জন্য যারা তথ্য গোপন বা বিকৃত করেছেন, যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এটা শুধু চাকরিবিধির প্রশ্ন নয়, বিষয়টি নৈতিকতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। প্রতারণা করে চাকরি নেয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বেতন ফেরত নেয়ারও উদাহরণ রয়েছে। সম্প্রতি কয়েক বছরে তথ্য গোপন করায় অসংখ্য পুলিশ সদস্যের চাকরিচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটছে অথচ শাহানার খাতুন এমন গুরুতর তথ্য প্রতারণা করেও দীর্ঘ আট বছর চাকরিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

দুর্নীতি দমন দুদুকে দায়েরকৃত অভিযোগসূত্রে জানা যায়, মাগুরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোছা: শাহানারা খাতুন এর প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা পিতা মো: মোজাম্মেল হোসেন, গ্রাম+ইউনিয়ন +ডাকঘর: হাজিপুর, উপজেলা: মাগুরা সদর, জেলা: মাগুরা। এই ঠিকানা গোপন করে যশোর জেলার ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা গ্রাম+ডাকঘর: হাকিমপুর, উপজেলা: চৌগাছা, জেলা: যশোর দেখিয়ে ২০১৪ সালে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদে চাকুরি নিয়েছে। তার নিয়োগ আদেশ নং- পপঅ/প্রশা-১/ নিয়োগ-১৮৩/ ২০১১ (অংশ-২)/২৫৯৮ (২৩৮) তারিখ: ২০ নভেম্বর ২০১৪ খ্রি। ওই নিয়োগ আদেশের ১৬ নম্বর তালিকায় রয়েছে মোছাঃ শাহানারা খাতুনের নাম। তিনি পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন।

তথ্য ও প্রতারণাকারী শাহানারা খাতুন মাগুরা সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মো: দারুল আলম এর আপন ছোট শ্যালিকা । আর, দারুল আলম-ই মোছা: শাহানারা খাতুনকে ভুয়া ঠিকানার কাগজপত্র তৈরি করে চাকুরি পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহানারা খাতুন চাকুরি পাওয়ার পর মাগুরা সদর ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো: ফয়সাল হাসান এর সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে শাহানারা খাতুন তার স্বামী ফয়সালের বিরুদ্ধে কোর্টে যৌতুকের মামলা করে এবং মামলা নিষ্পত্তির পর উভয়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। উক্ত মামলার নথিপত্রেও শাহানারা খাতুনের স্থায়ী ঠিকানা মাগুরা উল্লেখ আছে। প্রমাণ হিসাবে তার কাবিননামাই যথেষ্ট।

এছাড়াও, শাহানারা খাতুনরে অপর ভগ্নিপতি মো: আমিনুর রহমান, এলডিএ, ওজোপাডিকো লি:, মাগুরা এবং জনাব মো: মন্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, সভাপতি, হাজিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, মাগুরা সদর এর কাছে জানলে এবং সরেজমিনে তদন্ত করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে। শাহানারা খাতুন যশোর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা না তার প্রমাণের জন্য একাধিক তথ্য রয়েছে বলেও ওই অভিযোগে উল্লেখ করেছেন অভিযোগেকারী।

যশোর চৌগাচা উপজেলার হাকিমপুর ইনিয়নের চেয়ারম্যান এবং উক্ত ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার এই মর্মে লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছেন যে, যশোর জেলা চৌগাছা উপজেলাধীন ৮নং হাকিমপুর ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড হাকিমপুর আমে মোছা: শাহানারা বেগম, পিতা- মোঃ মোজাম্মেল হোসেন নামে কোন ব্যক্তি ইতপূর্বে ছিল না এবং বর্তমানেও নেই।

ভুয়া প্রত্যয়ন/সনদ যোগাড় প্রসঙ্গেঃ শাহানারা খাতুনের ভুয়া ঠিকানায় চাকুরি নেওয়ার ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে তার আপন ভগ্নিপতি মোঃ দারুল আলম ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, মাগুরা সদর, মাগুরা (যিনি ভুয়া ঠিকানার কাগজপত্র তৈরি করেন। শাহানারা খাতুনকে চাকুরি পাইয়ে দিয়েছেন তিনি) যশোর চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের নাগরিক সনদ এবং ২০১৪ সালে চাকুরি নেওয়ার সময় শাহানারা খাতুনের বাড়ি হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে ছিল বলে প্রত্যয়ন যোগাড় করেছে। প্রকৃতই যদি এমন সনদ/প্রত্যয়ন যোগাড় করে থাকে, তবে এই সনদ/প্রত্যয়ন কতটুকু সত্য ? যেখানে চেয়ারম্যান ও মেম্বার লিখিতভাবে জানিয়েছেন শাহানারা বেগম, পিতা মো: মোজাম্মেল হোসেন নামে কোন ব্যক্তি হাকিমপুর গ্রামে ইতপূর্বে ছিল না এবং বর্তমানেও নেই সেখানে দারুল আলম যে প্রত্যয়ন/সনদ যোগাড় করেছে সেটা কতটুকু সত্য ? ধারণা করা হচ্ছে, দারুল আলম যেভাবে ভুয়া ঠিকানার কাগজপত্র তৈরি করে ইতি পূর্বে তার শ্যালিকাকে চাকুরি পাইয়ে দিয়ে ছিলেন ঠিক তেমনভাবেই এসব কাগজপত্র তৈনি করেছেন। যাইহোক, তদন্তে এইসব কাগজপত্র দিলে/ দেখালে যশোর হাকিমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জনাব মো: মাসুদুল হাসান এবং উক্ত ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার জনাব মো: আক্তারুজ্জামান মিলনের কাছ থেকে এর সত্যতা যাচাই করা হলেই জানা যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহানারা খাতুনকে চাকরি বিধিমালার শাস্তিযোগ্য অপরাধ তথ্য গোপন করার পরেও তার দুলাভাই দারুল আলম এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মান্নানের অলৌকিক ক্ষমতায় এখনো কোন প্রকার শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়নি।

এ সম্পর্কে শাহানারা খাতুনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।