• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ০৬:১৫ অপরাহ্ন

পটুয়াখালীর দুমকিতে পাসপোর্ট ও পাওনা টাকা না দিয়ে উল্টো মামলা, ভুক্তভোগীকে গ্রেফতার অভিযোগ!


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২১, ২০২৩, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন / ১০
পটুয়াখালীর দুমকিতে পাসপোর্ট ও পাওনা টাকা না দিয়ে উল্টো মামলা, ভুক্তভোগীকে গ্রেফতার অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক,পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর দুমকিতে পাসপোর্ট ও পাওনা টাকা না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর নামে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করার অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জলিশা গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪২) ও চরগরবদী গ্রামের কাওসার আমিন হাওলাদার(৩২) সম্পর্কে মামা শ্বশুর ও ভাগ্নি জামাই। কাওসার আমিন হাওলাদার মাল্টার প্রবাসী হওয়ায় তার মাধ্যমে মামা শ্বশুর শফিকুল ওই দেশে যাওয়ার জন্য ১৪ লক্ষ টাকা দেয়। কিন্তু সেখানে গেলে শফিকুলকে কোন কাজকর্ম দেয় না বরং দেশে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে মারধরসহ হুমকি-ধমকি দেয়। একপর্যায়ে, অভিযুক্ত কাওসার আমিন হাওলাদার আদম ব্যবসার কথা বলে মাল্টায় ১০ জন লোক নিবে এ কথা বলে ১০টি পাসপোর্ট ও জনপ্রতি ২ লক্ষ করে ভুক্তভোগী শফিকুলের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা নেয়। এ টাকা ও পাসপোর্ট নেয়ার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত প্রবাসী কাওসার আমিন হাওলাদার লোকও নেয় না এবং পাসপোর্টও ফেরত দেয় না।

সম্প্রতি কাউসার আমিন হাওলাদার বাংলাদেশে চলে এলে এ বিষয়ে সুরাহার জন্য ভুক্তভোগীও শফিকুলও বাংলাদেশে আসেন এবং বিষয়টি সমঝোতার জন্য আত্মীয় স্বজনদের বিষয়টি অবহিত করেন। সে মোতাবেক কাওসার আমিন হাওলাদার সমাধানের কথা বলে ১৬ জানুয়ারি তার শশুর বাড়ি পটুয়াখালী জেলার লোহালিয়া ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগী শফিকুলকে বিভিন্ন ধরনের গালমন্দ, হুমকি-ধামকি দেন ও তার গায়ে হাত তোলেন। কোন উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী শফিকুল আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য তাৎক্ষণিক দুমকি থানায় গেলে পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম ও তার এক বছরের কন্যা সন্তানসহ স্ত্রীকে সারারাত থানায় বসিয়ে রাখে এবং তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।

পরেরদিন ১৭ জানুয়ারি সকালে শফিকুল এর একটি সাধারন ডায়েরি করেন এবং পুলিশ প্রশাসন মুরাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার এর জিম্মায় তাদেরকে দিয়ে দেন। এর পরে ১৮ জানুয়ারি অভিযুক্ত কাউসার আমিন হাওলাদারও দুমকি থানায় এসে ভুক্তভোগী শফিকুলের নামে একটি মিথ্যে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ভুক্তভোগী শফিকুলকে আটক করে কোর্ট এ প্ররোন করেন।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী উর্মী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, থানায় উভয়ের অভিযোগ পেলেও তদন্ত না করেই কাউসার আমিন হাওলাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে আমার স্বামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে মুরাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, শফিকুলকে আমার জিম্মায় নিয়ে আসি। শফিকুল যাতে বাহিরে ঝামেলা না করতে পারে এই অযুহাত দেখিয়ে তাকে সারারাত থানায় বসিয়ে রাখা হয়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওই চেয়ারম্যান বলেন, কাওসার মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনাস্থলে আমি ও ওসি গিয়েছিলাম সেখানে কাওসারের বাসার আলমারি ভাঙ্গা দেখেছি কিন্তু স্থানীয় লোকজন বলেন, এখানে কোনো মারামারি বা ভাংচুর এর ঘটনা ঘটেনি।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিদেশে নেওয়ার নাম করে শফিকুলসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কাওসার টাকা নিয়েছে বলে শুনেছি।

ঘটনা সত্যতা অস্বীকার করে মোঃ কাউসার আমিন বলেন, আমি শফিকুলসহ দু’জনকে প্রবাসে নিয়েছি কিন্তু এছাড়া কাউকে বিদেশ নেওয়ার কথা বলে কোন টাকা পয়সা নেই নি।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, লোহালিয়ায় মারামারির বিষয় পটুয়াখালী সদর থানার। শফিকুল ডায়েরি করেছে কিন্তু কাওসার আমিন অভিযোগ করেছে। তাতে মামলার উপাদান ছিল বিধায় মামলা হয়ে আসামী চালান হয়েছে।