• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

নেতাকর্মীরা কোনো লাঠি বহন করবে না, তারা প্লাকার্ড বহন করবে


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২০, ২০২২, ১০:৪৩ অপরাহ্ন / ১৭
নেতাকর্মীরা কোনো লাঠি বহন করবে না, তারা প্লাকার্ড বহন করবে

মোস্তাইন বীন ইদ্রিস (চঞ্চল),খুলনা: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে ২২ অক্টোবরের গণসমাবেশ অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে। নেতাকর্মীরা যতই আঘাতপ্রাপ্ত হোক, জন উৎসাহ কোনোক্রমেই ঠেকানো যাবে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পাঁচ সহকর্মী হত্যার বিচার আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন বিভাগীয় গণসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

দুদু অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্থ করতেই দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। নগরীর বিভিন্নস্থানে প্রচার মাইকে হামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৬টি মাইক ভাঙচুর করা হয়েছে। দুটি মাইক লুটে নেওয়া হয়েছে। প্রচারণার কাজে অংশ নেওয়া কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরিবহন বন্ধ করা হচ্ছে। নদী পথে ট্রলার বন্ধ করে জনসমাগম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্ত কোনো বাধাই বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ রুদ্ধ করতে পারবে না। তিনি বলেন, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ কর্মসূচি দুই মাসের। সরকারের ব্যর্থতায় নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যমূল্য অস্বাভাবিক বেড়েছে। দেশবাসী নিরাপত্তাহীন। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই স্বাধীনতা আজ নেই বললেই চলে। গণতন্ত্র নির্বাসিত। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে সমাবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা দুদু বলেন, এই বাহিনী বাংলাদেশের। কোনো দলের না। নিজের স্বার্থে, দলের স্বার্থে তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতীতে কোনো আইজিপি অবসরে যাওয়ার পর পুলিশ সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হয়নি। আমেরিকা মানবাধিকার প্রশ্নে সাত জনকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিএনপি স্বৈরতন্ত্রকে বিদায় জানিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম করছে। যারা স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান করছেন তাদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই দিনই শেষ দিন না। আরও দিন আছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কর্মসূচি সফল করতে আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি। নেতাকর্মীরা কোনো লাঠি বহন করবে না, তবে তারা প্লাকার্ড বহন করবে।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা বলেন, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের কর্মসূচির সফলতা দেখে শাসক দল ও প্রশাসন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়িতে বাড়িতে হামলা ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। তারা খুলনার কর্মসূচি বাধাগ্রস্থ করতে চায়। ইতোমধ্যে সমস্ত পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। খেয়াঘাট বন্ধ করে দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।

সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন বলেন, বিভাগীয় কর্মসূচি বানচাল করতে পুলিশ সাড়াশি অভিযান শুরু করেছে। মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাবির আলী, ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা বুলবুল মোল্লার বাড়িতে পুলিশ গত রাতে অভিযান চালিয়েছে। সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেল বহর নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। বিএনপি কোনো ধরনের সহিংসতা চায় না। কিন্ত এসব অপতৎপরতা চালিয়ে গণসুনামিকে রুদ্ধ করা যাবে না।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক রকিবুল ইসলাম বকুল, বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, মহানগর আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন প্রমুখ।