• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ০১:৩১ অপরাহ্ন

নানা নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়েও রেহাই পায়নি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতা সোহাগ দেওয়ান


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৬, ২০২১, ৩:৩৯ পূর্বাহ্ন / ২২২
নানা নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়েও রেহাই পায়নি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতা সোহাগ দেওয়ান

সিনিয়র রিপোর্টারঃ নিখোঁজ শিশু সন্তানকে খুঁজে দেয়ার নামে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতা  সোহাগ দেওয়ান  (৩৭) কে আটক করেছে সি আই ডি।  নানা নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়েও রেহাই পায়নি সোহাগ দেওয়ান।  বৃহস্পতিবার ভোরে যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে সিআইডির একটি বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। আসামি দেওয়ানের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার সবুজবাগ এলাকায়। ওই নারীর বাড়িও একই এলাকায়।
এ সম্পর্কে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষন ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আসামীর সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার সকল স্থানে অভিযান চালানো হয়। পরে সিআইডির একটি চৌকস দল আসামীর অবস্থান সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। মামলা হলেও আসামী দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
সম্প্রতি বেসরকারি টিভি চ্যানেল আর টিভি ও একুশে টিভিতে কথিত সাংবাদিক সোহাগ দেওয়ানের কুকর্মের তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে। জানা যায়, সন্তান জন্ম নেওয়ার দুই মাসের মধ্যেই ভুক্তভোগী ফরিদা ইয়াসমিন মনি’র স্বামী তার সন্তান মৌসুম হাসান নীল’কে নিয়ে পালিয়ে যায়। সন্তানকে ফিরে পেতে খুলনা প্রেস ক্লাবে  সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।  লিখিত বক্তব্যে মনি’র মোবাইল নম্বর পেয়ে সোহাগ দেওয়ান যোগাযোগ করেন এবং সন্তানকে উদ্ধারের আশ্বাস প্রদান করেন। উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নাম ব্যাবহার করে সন্তানকে উদ্ধার করে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেয় কয়েক লক্ষ টাকা। সন্তান উদ্ধারের কাজে ব্যার্থ হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়ায়, কৌশলে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে শরবতের সঙ্গে চেতনানাশক পিল খাইয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন সোহাগ দেওয়ান ও এডভোকেট মেহেদী হাসান। ধর্ষণকালীন ভিডিও ধারন করে একাধিকবার ধর্ষণ চেষ্ট করে তারা।পরবর্তীতে টাকা চাইলে ভিডিও ফাস করে দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে সোহাগ। ভয়ে ঢাকা পালিয়ে আত্মগোপন করে থাকেন ভুক্তভোগী মনি। তাতেও রেহাই পাননি তিনি। সংবাদ পেয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে  ঢাকায় গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে সোহাগ।
কোনো উপায় না পেয়ে এক পর্যায়ে আইনের আশ্রয় নেয় মনি এবং এই ঘটনায় ঢাকার মুগদা থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী  ২০০৩) এর ৯(৩)/১০/৩০ ধারায় মামলা করেন।
পরবর্তীতে সি আই ডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত আরম্ভ করে। বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর’র তত্ত্বাবধানে  ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আসামি সোহাগ দেওয়ানের সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকবার সকল স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অতঃপর সি আই ডি’র একটি টিম  অবস্থান শনাক্তের মাধ্যমে আটক করে সোহাগ দেওয়ানকে। মামলার অন্য আসামী এডভোকেট মেহেদী হাসান পলাতক থাকলেও মূল আসামী সোহাগ দেওয়ানকে আটক করায় সি আই ডি’র শ্রেষ্ট অর্জন বলে জানান পুলিশের এই স্পেশাল টিম।