• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

নাটোরের গুরুদাসপুরে গৃহবধূকে নৃশংস ভাবে হত্যা, স্বামীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২১, ১০:১৬ অপরাহ্ন / ১১৬
নাটোরের গুরুদাসপুরে গৃহবধূকে নৃশংস ভাবে হত্যা, স্বামীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

মনিরুজ্জামান অপূর্ব/ বেলাল দেওয়ান,ঢাকা :নাটোরের গুরুদাসপুরে বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিল হরিবাড়ী এলাকায় স্ত্রী সুর্বণা খাতুনকে (২১) হত্যা করে স্বামী মোঃ সাগর হোসেন (২৫) পিতা: মোঃ জামাল হোসেন, গ্রাম : বিল হরিবাড়ী (হরদমা), থানা : গুরুদাসপুর, নাটোর পালিয়ে যায়। জানা যায় যে, তিন বছর আগে আসামীর সাথে ভিকটিমের বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য ভিকটিম শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়ে আসছিলো। গত ১৩ জুলাই ২০২১ তারিখ রাতে আসামী ভিকটিমের মুখে কাপড় গুজে লাঠি দিয়ে নৃশংসভাবে মারধোর করে। মারধোরের এক পর্যায়ে ভিকটিম মৃত্যুবরণ করে। পরবর্তীতে ভিকটিম গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে চালানোর জন্য তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। এই ঘটনার পর সুর্বণার বাবা হাফিজুল সরদার বাদী হয়ে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১২/১৯৩, তারিখ : ১৫/০৭/২০২১, ধারা: ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ১১(ক)/৩০।

আজ সিআইডি সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্ত ধর বলেন, সাগর তার বাবার সাথে কৃষি কাজ করতো। সাগরের বাবা নৌকায় করে খর বিক্রি করে। সাগরের ৭ বছর বয়সের ছোট ভাই আছে। ঘটনার পরপর সাগরের মা সাবিনা বেগমকে গ্রেফতার কর হয়েছে।
ঘটনাটি একাধিক জাতীয় পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আলোচিত হত্যাকান্ড হিসেবে প্রকাশিত হলে সিআইডি ছায়া তদন্ত আরম্ভ করে। সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর এর প্রত্যক্ষ দিক-নির্দেশনায় এলআইসি’র একাধিক বিশেষ দল ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষন ও নিবিড় পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে আসামী’র আত্মগোপনে থাকার সম্ভাব্য সকল স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অবশেষে সিআইডি’র একটি চৌকস দল এই নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামী মোঃ সাগর হোসেনকে কুমিল্লার মিয়ার বাজার হতে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে। হত্যাকান্ডের পর আসামীর চির পলাতক হবার সম্ভাবনা ছিলো। অতি অল্প সময়ে ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও পলাতক আসামী গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।।