• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০২৪, ০২:২৫ অপরাহ্ন

নথি গায়েবেই কোটিপতি মজিবুর


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৩, ৯:৫৯ পূর্বাহ্ন / ৯০
নথি গায়েবেই কোটিপতি মজিবুর

বিশেষ প্রতিনিধি,ঢাকাঃ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে লুটপাট হরিলুটের বেপরোয়া মচ্ছবে নিজের আখের গুছিয়ে ফোকলা করে খিলখিলিয়ে হেসেই শত কোটি টাকা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। তিনি হলেন, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের হিসাব রক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান। এই হিসাব রক্ষক ঢাকার শেরে বাংলা নগর, আগারগাঁওয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে কর্মরত। এই মুজিবুর সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হরিলুটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়িয়ে ফেলেই ক্ষ্যান্ত থাকেন না, তিনি খোদ মেডিকেল কলেজটিতে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নেপথ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন। কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে যে কোনো তৎপরতা শুরু হলেই নড়েচড়ে বসেন মুজিবুর। কোনো এক অজ্ঞাত ভূতের ইশারায় তিনি নিয়মিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ঘুষ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট তৈরি করেও ফোকলা করছে খোদ মেডিকেল কলেজ । দূর্নীতির স্বর্গরাজ্যে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক হিসাব রক্ষক আফজাল হোসেন এর অন্যতম সহযোগী বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক সূত্র। কেউ কেউ বলছে তিনি এখনও নিয়মিত আফজাল হোসেন এর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজটি তারই সিন্ডিকেটের কজ্বায়। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মুজিবুরের খুঁটির জোর কোথায়?

সম্প্রতি এই লুটেরা মুজিবুরের বিরুদ্ধে দুদকে একটি অভিযোগ তোলা হয় ; অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুজিবুর ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদের পাহাড়ের তথ্য : এরমধ্যে, রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকার সেনপাড়া পর্বত (বিআরটিএ অফিসের পিছনে) বাসা নং- ৪৩০, ফ্ল্যাট নং- ৪/এ ও ৬/এ বিল্ডিংটিতে তার ২টি ফ্ল্যাট ; ২টির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। পূর্ব শেওড়াপাড়ায় বাসা নং- ১১৪২ (ফ্ল্যাট নং- সি/৩), রোড নং-০৫, পাকার মাথায় ১৪০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের নামে যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের বাসা নং- ৫৭ (ফ্ল্যাট নং- এইচ /৩), রোড নং- ০৮, থানা- মোহাম্মদপুর, ঢাকা- ১২০৭ স্ত্রী ফরিদা আক্তার এর নামে বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকার ফ্ল্যাট। ঢাকা উত্তরার ১০নং সেক্টরের বাসা নং- ১৮, রোড নং- ০১, সেক্টর নং- ১০, থানা- উত্তরা পশ্চিম, ঢাকায় তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের নামে বাড়াটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। নারায়নগঞ্জ জেলা শহরে তার নিজের একটি ৬ষ্ঠ তলা বিশিষ্ট বাড়ী যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। কুমিল্লা জেলা শহরে নানুরা দিঘির উত্তর পাড়ে তার একটি ৮ম তলা বিশিষ্ট ভবন রয়েছে। নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জালকুড়ি মৌজায় সিএস দাগ নং- ২০২, এস এ দাগ নং- ১৮, আর এস দাগ নং- ০৬ সহ উক্ত মৌজায় তার নিজ নামে ৩০ বিঘা জমি রয়েছে। তার স্ত্রীর ১২০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলব থানায় তার ও তার স্ত্রীর নামে ২২০ বিঘা জমি রয়েছে।

এছাড়াও মুজিবুর ও তার স্ত্রীসহ ছেলে সন্তানদের নামে কয়েকটি ব্যাংকে অর্ধশত কোটি টাকা এফডিআর রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমান প্রিন্সিপালের এলাকায় তার বাড়ি হওয়ায় নানান অপকর্মের নেপথ্যেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে। এছাড়াও তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশ থেকে পলায়ন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক হিসাব রক্ষক আফজাল হোসেনের অস্ট্রেলিয়ার বাড়ীতে আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রস্তুতির চেষ্ট করছেন বলে সূত্রটি জানায়।

এ ব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও অভিযুক্ত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের হিসাব রক্ষক মোঃ মজিবুর রহমানকে পাওয়া যায় নি।