• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১২:০২ অপরাহ্ন

দেশের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নতুন তালিকায় ৯৩ নাম অধিকাংশই দলীয় কর্মী


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৩, ২০২৩, ৫:৫১ অপরাহ্ন / ৭০
দেশের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নতুন তালিকায় ৯৩ নাম অধিকাংশই দলীয় কর্মী

মোঃ রাসেল সরকার,ঢাকাঃ সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা ৯৩ ইয়াবা কারবারির নতুন খসড়া তালিকা করেছে। এ তালিকায় চার জন পৌরসভার কাউন্সিলর রয়েছেন, আছেন দুই সাংবাদিক। চার কাউন্সিলরের মধ্যে দুজন আওয়ামী লীগের, দুজন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া ৯৩ জনের মধ্যে ৪৮ জন বিএনপি ও ১১ জন আওয়ামী লীগ এবং একজন জামায়াতে ইসলামের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তালিকাটি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তালিকায় এক নম্বরে যার নাম হয়েছে তিনি হলেন, কক্সবাজারের দক্ষিণ রুমালিয়াছিড়ার শাহানবাড়ির মো. নুরু। নুরুর একাধিক ট্রলার আছে। তার ইয়াবা বিক্রির প্রধান এলাকা কুমিল্লা। তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তালিকার দুই নম্বরে স্থান পেয়েছেন কক্সবাজার সদর থানা রোডের মোহাম্মদ আলী। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এক সময় দরিদ্র ছিলেন, এখন কোটিপতি। তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। তালিকার তিন নম্বরে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে তিনি হলেন কক্সবাজার সদর খাদ্যগুদামের পাশে বসবাসকারী শফিউল্লাহ্য শফি। তিনি স্থানীয় একটি দৈনিকের সংবাদকর্মী। তার ব্যাপারে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে পুলিশ যেসব ইয়াবার চালান আটক করে সেখান থেকে কম টাকায় শফি ইয়াবা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। তবে তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই।

তালিকার চার নম্বরে থাকা দক্ষিণ রুমালিয়ার বাসিন্দা মিজান এক সময় কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মিজানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তার একাধিক ট্রলার রয়েছে, এই ট্রলারের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে তিনি সাগরপথে ইয়াবা আনেন। তালিকার এক নম্বরে থাকা মো. নুরু তার আপন ভাই। তালিকার পাঁচ নম্বরে নাম রয়েছে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ওমর ফারুক সোহাগের নাম। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার সম্পর্কে বলা হয়েছে, সোহাগের কাছে একটি নাইন এমএম ক্যালিবারের পিস্তল রয়েছে; যা অতি দ্রুত উদ্ধার করতে হবে। তালিকার ছয় নম্বরে স্থান পেয়েছে উত্তর রুমালিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক এনাম ওরফে বৈদ্য এনামের নাম। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তালিকার সাত নম্বরে স্থান পেয়েছে সুলতান আহমেদ ওরফে রোহিঙ্গা সুলতানের নাম। তিনি ২০০৮ সালে স্থানীয় এক পৌর কাউন্সিলরের সহায়তায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রতিবেদনে তার সম্পর্কে বলা হয়েছে, তার বড় ছেলে ফয়সাল এবং মেয়ের জামাই রকি ও আমান উল্যাহর কাছে অস্ত্র রয়েছে। রকির বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রয়েছে। এই দুই জনের নাম তালিকার আট ও ৯ নম্বরে রয়েছে।

তালিকায় আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন: টেকপাড়ার সংবাদকর্মী ইমরুল কায়েস চৌধুরী, কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আক্তার কামাল, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদার, ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামসেদ আলী, চকরিয়ার শিকলঘাট এলাকার রেজাউল করিম সেলিম, চকরিয়ার কোনাখালীর দিদারুল হক শিকদার, চকরিয়ার জিয়াবুল হক কমিশনার, চকরিয়ার রেজাউল করিম, কক্সবাজারের ছনখোলা গ্রামের আইয়ুব, কক্সবাজার সদর থানার লাহারপাড়ার আবুল কালাম ও আবু সৈয়দ, কক্সবাজারের বাংলাবাজারের আবছার, খুরুশকূল তেতৈয়া এলাকার জিয়াউর রহমান, চকরিয়ার সবুজবাগ এলাকার আজিজুল ইসলাম সোহেল, কক্সবাজারের মহেশখালীর জসীম উদ্দিন নাহিদ, মহেশখালীর ডেইলপাড়ার উসমান গনি, মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা এলাকার সালাহ উদ্দিন, আলহাজ মকসুদ মিয়া ও মাহবুব ওরফে গিইট্টে মাবু, কুতুবদিয়ার সিকদারপাড়ার হারুনুর রশিদ, টেকনাফের গেদারবিল এলাকার আবু সৈয়দ, আবু সৈয়দ মেম্বার, কেফায়েত উল্লাহ, টেকনাফের উত্তর লেঙ্গুর বিল এলাকার জাফর আহমদ, টেকনাফের ডেইল পাড়ার সাদ্দাম হোসেন, টেকনাফের সিকদার পাড়ার মো. রাসেল, টেকনাফের উত্তর লম্বরী গ্রামের আব্দুল কাদের, টেকনাফের ডেইল পাড়ার শফিক, টেকনাফের গোদারবিল এলাকার আবু কাশেম, জাহাঙ্গীর আলম ও মনির উল্লাহ, কুলালপাড়ার হায়দার আলী, দেলোয়ার হোসেন টিটু, জালাল ও সোহেল, টেকনাফের আলিয়াবাদ এলাকার নুর হোসেন, নুরুল আলম ওরফে ছোট ও আব্দুর রহিম, কেকে পাড়ার রফিক, ধোপারবিল এলাকার শহীদুল ইসলাম, পুরান পল্লান পাড়ার শাহ আলম, মধ্যম জালিয়া পাড়ার আব্দুল্লাহ, আব্দুল জব্বার, গুরাপুতু, আব্দুল গফুর ও ওসমান, উত্তর জালিয়া পাড়ার নূর মোহাম্মদ লাস্টিপ ও সালমান, দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার রেজাউর রহমান রেজা, বড় হাবির পাড়ার আব্দুর রশিদ, ডেইলপাড়ার আব্দুল গফুর, আলীর ডেইল পাড়ার সৈয়দ আহমদ, মিঠাপানির ছড়া এলাকার সামসুল আলম, হাতিয়ার ঘোনা এলাকার দালাল হামিদুর রহমান, পূর্ব গেদার বিল এলাকার মৌলভি মো. রফিক, বাহারছড়ার শামলাপুরের শহিদ উল্লাহ, লেঙ্গুর বিলের শাহজাহান, শামলাপুরের পুরান পাড়ার মৌলভি আজিজ, সাবরাংয়ের মৌলভীপাড়ার আবদুর রহমান ও একরাম, রামু থানাধীন গুইন্যাপাড়ার রমজান, পূর্ব রাজঘাটের জাহানারা বেগম, ঈদগড়ের আব্দুর রহিম, মাঝিরকাটা গ্রামের কলিমুল্লাহ, গর্জনিয়াপাড়ার সিরাজুল হক, রেজাউল করিম, কাজরবিল গ্রামের নুরুল আফসার, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফকিরকাটা পাড়ার আব্দুর রহমান, কক্সবাজারের উখিয়ার মমতাজ বেগম, রামু থানাধীন কাউয়ার ক্ষোপ এলাকার আব্দুর রাজ্জাক, ফরিদুল ইসলাম, ওবাইদুল হক জনি, পশ্চিম মনিরঝিল দরগাপাড়ার জাহাঙ্গীর আলম, লট উখিয়ার ঘোনা গ্রামের মো. শফি, চরপাড়ার ইকবাল হোসেন মামুন, ফতেখারুল গ্রামের জসিম উদ্দিন, রাখাল চন্দ্র দে, সৈয়দ শাহীন ওরফে আনসার শাহীন, শ্রীধনগাড়া গ্রামের নিককন বড়ুয়া, মন্ডল পাড়ার সিরাজ, উখিয়া থানাধীন কড়ই বুনিয়া গ্রামের ইকবাল, নুরুল আমিন ভূঁইয়া ও নলবনিয়া গ্রামের আলী আহমদ।

পাঁচ,জনপ্রতিনিধির নাম তালিকায়: কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আক্তার কামালের নাম রয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায়। প্রতিবেদনে তাকে বিএনপির নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাত্রদলের সাবেক নেতা বর্তমানে জেলা কৃষক দলের সভাপতি জামসেদ আলীর নামও রয়েছে এই তালিকায়। জামসেদ আলী বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। বিএনপির এই দুই নেতা ও জনপ্রতিনিধির নামে মাদক সংক্রান্ত মামলার কোনো তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা।

কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সাহাব উদ্দিন সিকদার কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, তিনিও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের দুজনের নামই আছে ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলার কোনো তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা।

কক্সবাজারের কোনাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দিদারুল হক শিকদারের নামও আছে ইয়াবা পাচারের তালিকায়। তবে তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা নেই।

এছাড়া টেকনাফ সদরের গোদারবিলের আবু সৈয়দ মেম্বারের ছেলে আব্দুল্লাহর বয়স মাত্র ৩২। এর মধ্যে কয়েক শ’ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ইয়াবার ব্যবসা করে। তাকে টেকনাফে ইয়াবার বড় গডফাদার বলা হয়ে থাকে। তার নামে অজ্ঞাত কারণে মাদকের কোনো মামলা নেই। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাশে সমুদ্রসৈকতে গড়ে ওঠা অবৈধ বেশ কিছু ঝুপড়িঘরে আব্দুল্লাহর ইয়াবা ব্যবসা চলে।