• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০২৪, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

দুদকের জালে স্ত্রীসহ কর পরিদর্শক আবু হাসান সাড়ে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ


প্রকাশের সময় : মে ১, ২০২৩, ২:০৯ পূর্বাহ্ন / ৮৫
দুদকের জালে স্ত্রীসহ কর পরিদর্শক আবু হাসান সাড়ে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

এম রাসেল সরকারঃ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজধানীর উত্তরার কর পরিদর্শক আবু হাসান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী লাকী রেজওয়ানার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ দম্পতির বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।

রোববার দুদকের গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারাসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকার উত্তরায় কর অঞ্চল-৯ এর কর পরিদর্শক আবু হাসান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কমিশনে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। যেখানে তিনি মাত্র ২৮ লাখ ২৮ হাজার ২৭৭ টাকার অস্থাবর সম্পদের হিসাব জমা দেন। তবে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় তার নামে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১৫ শতাংশ জমির ওপর ডুপ্লেক্স বাড়ির সন্ধান পায় দুদক। যার দালিলিক মূল্য পাওয়া যায় ১ কোটি ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৪৫ টাকা, যা তিনি গোপন করার চেষ্টা করেছেন।

এছাড়া খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩২ লাখ ১ হাজার ৮৯৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে মামলায় তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে নতুন টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) খুলে আয়কর নথিতে প্রতারণার আশ্রয়ে ভুয়াভাবে প্রদর্শন করে বৈধ করার অপচেষ্টা চালানোর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কর পরিদর্শকের স্ত্রী লাকী রেজওয়ানার ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ৪১ লাখ ১৭ হাজার ৬৭১ টাকা সম্পদের তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রকৃতপক্ষে তিনি স্বামীর দুর্নীতির মাধ্যমে আয়ের অবৈধ উৎস আড়াল করতে সহযোগিতা করেছেন। খাইরুল ইসলাম তার আয়ের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও অবস্থান গোপন করতে স্ত্রী লাকী রেজওয়ানাকে ব্যবহার করে ওই গোপন করা সম্পদসহ মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৭৭ টাকার অবৈধ সম্পদ গড়েছেন।