• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০২৪, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

দুই হাজার পুকুরের ঢাকায় আছে ২৯টি


প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৩, ১:২৫ অপরাহ্ন / ৫৯
দুই হাজার পুকুরের ঢাকায় আছে ২৯টি

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ এখন থেকে ৩৮ বছর আগেও রাজধানী ঢাকায় পুকুরের সংখ্যা ছিল ২ হাজার। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত মৎস্য বিভাগের এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে আসে। এরপর পানির অন্যতম এই উৎসের সংখ্যা কমতে কমতে বর্তমানে মাত্র ২৯টিতে ঠেকেছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালেও রাজধানী ঢাকায় শতাধিক পুকুর ছিল। গত পাঁচ বছরে পুকুরের সংখ্যা কমেছে ৭১টি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী নগর সংলাপে বলেন, ঢাকায় জলাশয় কমে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, পুকুর, জলাশয় ভরাট হয়ে যাচ্ছে,তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এরই মধ্যে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল উদ্ধারের কাজ শুরু করা হয়েছে। মান্ডা, জিরানিসহ বেশ কয়েকটি খাল উন্নয়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জলাশয় রক্ষা ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করতে ডিএসসিসি কাজ করছে।

সম্প্রতি রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থাপনা ও মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর তা নির্বাপণে পর্যাপ্ত পানি আশপাশে না পাওয়ায় ঢাকার পুকুর ও পানির উৎস নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দখলদারি ও আবাসন চাহিদার কারণে যে ১৯শ সরকারি-বেসরকারি পুকুর ও জলাধার ভরাট হয়ে গেছে, তার জমির পরিমাণ ৭০ হাজার হেক্টর। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়, ১৯৮৫ থেকে এ পর্যন্ত ঢাকার ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জলাভূমি, খাল ও নিম্নাঞ্চল হারিয়ে গেছে। এটা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সাল নাগাদ ঢাকায় জলাশয় ও নিম্নভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের ১০ শতাংশের নিচে নেমে যাবে।

জানা গেছে, শাহবাগে বড় দুটি পুকুর ছিল, যার একটি আজিজ সুপার মার্কেট ও অন্যটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল ও জিয়া হল করা হয়েছে। আজিজ সুপার মার্কেটের পশ্চিম পাশেও একটি পুকুর ছিল, যেখানে পাওয়ার হাউস করা হয়েছে। শহরের শান্তিনগরের পীর সাহেবের গলিতে বড় একটি পুকুর ছিল। চারদিক থেকে ভরাট করার কারণে এটি এখন ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে। জিগাতলা, রায়েরবাজার এলাকায় প্রচুর ডোবা ছিল। এখন ওইসব ডোবার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বহুতল ভবন। নির্বিচারে দখল ও ভরাটের পরও নগরীর বুকে অবশিষ্ট পুকুরগুলোর মধ্যে রমনা পার্কের পুকুরটি দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যাবে যে কারও। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুকুরে পুণ্যার্থীরা স্নান করতে আসেন নিয়মিত। কদমতলা-রাজারবাগের কালীমাতা মন্দিরে রয়েছে গঙ্গাসাগর দীঘি। এ দীঘিটি দৈর্ঘ্য-প্রস্থে বিশাল। সবুজবাগের বৌদ্ধবিহারের পুকুরও উন্মুক্ত রয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী-ইসলামপুরের নবাববাড়ির পুকুরে নামতে খরচ করতে হবে পাঁচ টাকা। তবে এ পুকুরে গোসলের সময় কোনো ধরনের সাবান ব্যবহার করা যায় না।

পুরান ঢাকার বংশাল পুকুরে রয়েছে সিঁড়িসহ দুটি ঘাট। আহসান মঞ্জিল পরিবারের নওয়াব আবদুল বারীর খনন করা বিশাল পুকুরের নামও তার নামেই রাখা হয়েছে। নওয়াব আবদুল বারী পুকুর। এটি খনন করা হয় ১৮৩৮ সালে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, একটি শহরের মোট আয়তনের কমপক্ষে ১৫ ভাগ প্রাকৃতিক জলাধার থাকা দরকার। সেটি আবার হতে হবে এলাকাভিত্তিক; কিন্তু ঢাকা শহরের খাল ও পুকুর যেভাবে দখল হয়ে গেছে, তাতে এখন পাঁচ ভাগও আছে কি না সন্দেহ। আর যে কয়েকটি খাল আছে তাও বক্স কালভার্টের নামে আটকে দেওয়া হয়েছে।