• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ ৩১ বছর ছদ্মবেশে থাকার পর হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পালাতক আসামী মো. কাওছারকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব


প্রকাশের সময় : জুন ২৩, ২০২২, ২:৪৫ অপরাহ্ন / ৭১
দীর্ঘ ৩১ বছর ছদ্মবেশে থাকার পর হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পালাতক আসামী মো. কাওছারকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

বিশেষ প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ ৩১ বছর ছদ্মবেশে থাকার পর মানিকগঞ্জের আজাহার হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পালাতক আসামী মো. কাওছারকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার (২০ জুন) সকাল ১২ টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক মো.মোজাম্মেল হক।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, মো. কাওছার ও আজাহার মানিকগঞ্জের চর হিজলী গ্রামের বাসিন্দা। একই সাথে ইরি ধানের ক্ষেতে পানি সেচের ব্যবসা করতো। ব্যবসার সুবাদে তাদের মধ্যকার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে আজাহারের বিবাহিত বোন অবলার সঙ্গে আসামী কাওছারের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে অবস্থানরত অবলা, অবলার তৎকালীন স্বামী ফালান, ওমর, রুহুল আমিন, আসমান এবং রফিজসহ আরো কয়েকজন মো. কাওছারের পক্ষ নিয়ে আজাহারকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। আজাহারের মাথায় লাঠি দিয়ে সজোড়ে আঘাত করে কাওছার। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আজাহারের ছোট ভাই মো. আলী হোসেন (বর্তমানে মৃত) বাদী হয়ে কাওছারসহ সর্বমোট ৭ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন, মামলার পর মো. কাওছারসহ এজাহারভুক্ত কয়েকজন গ্রেফতার হয়। কাওছার ২ মাস পর ১৯৯১ সালে জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। হত্যাকান্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে ১৯৯২ সালের শেষের দিকে মো. কাওছারকে মৃত্যুদন্ড, অপর আসামী ওমর, রুহুল আমিন, আসমান ও রফিজ প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন।

মো.মোজাম্মেল হক জানান, গত ৩১ বছর ধরে আসামি মো. কাওছার নাম পরিবর্তন করে ইমরান মাহামুদ নাম ব্যবহার করে আসছে। বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রথমে গাজীপুর, কালিয়াকৈর, পুবাইল, উত্তরা, টঙ্গীসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আসামী নিজের পরিচয় গোপন করার জন্য ক্রমাগতভাবে সে পেশা পরিবর্তন করে। প্রথমদিকে সে রাজমিস্ত্রী, ইলেক্ট্রিক, স্যানিটারী মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করে। পরবর্তীতে সে ড্রাইভিং শিখে সিএনজি চালায় এবং বর্তমানে সে প্রাইভেটকার চালাতেন।