• ঢাকা
  • শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:১০ অপরাহ্ন

দিন দিন বরেণ্য অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ, সংরক্ষণের প্রয়োজন


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ১:৩২ পূর্বাহ্ন / ১৩
দিন দিন বরেণ্য অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ, সংরক্ষণের প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহীঃ বরেণ্য অঞ্চলে শীতের সকালে রসের হাঁড়ি নিয়ে গাছিরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। আজ আর সেই দৃশ্য তেমন চোখে পড়ে না। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও এক হাঁড়ি রস মেলে না। বিকেলে চোখে পড়ে না খেজুর গাছ কাটার সেই দৃশ্য। একসময় এ অঞ্চলের খেজুর গাছ পোড়ানো হতো ইটভাটায় । এর ফলে দিন দিন খেজুর গাছের সংখ্যা শুধুই কমেছে, নতুন করে খেজুর গাছের চারা রোপণে নেওয়া হয়নি এমন কোনো উদ্যোগ। প্রেক্ষিতে প্রায় বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ। আর রস সংগ্রহ রা গাছিরাও পরিবর্তন করেছে তাঁদের পেশা। এখন খেজুর রসের স্বাদ সবার ভাগ্যে জোটে না। গাছিরা তাদের শীতকালের এই পেশা ছেড়ে নেমে গেছে অন্য কাজে। বর্তমান কয়েক গ্রাম ঘুরেও একজন গাছি পাওয়া যায় না। বয়োবৃদ্ধ রশিদুল ইসলাম আজিম জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুর গাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। যে হারে খেজুরগাছ নিধন হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ করা হয় না। শীত মৌসুমে সকালে খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে শেষ করা যাবে না। আর খেজুর রসের পিঠা এবং পায়েস তো খুবই মজাদার। এ কারণে শীত মৌসুমের গ্রামাঞ্চলে রসের ক্ষীর, পায়েস ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। শুধু খেজুরের রসই নয়, এর থেকে তৈরি হয় গুড় ও প্রাকৃতিক ভিনেগার। রস আর গুড় ছাড়া আমাদের শীতকালীন উৎসব ভাবাই যায় না। গাছি জহিরুল ইসলাম জানান, খেজুরের গাছ কমে যাওয়ায় তাদের চাহিদাও কমে গেছে। আগে এই কাজ করে ভালোভাবেই সংসার চালাতেন। এমনকি আগে যে আয় রোজগার হতো তাতে সঞ্চয়ও থাকতো, যা দিয়ে বছরের আরো কয়েক মাস সংসারের খরচ চলতো।গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এখন গাছ যেমন কমে গেছে, তেমনি কমে গেছে গাছির সংখ্যাও। ফলে প্রকৃতিগত সুস্বাদু সে রস এখন আর তেমন নেই। তবুও কয়েকটা গাছের পরিচর্যা করে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। রহনপুর পৌর এলাকার আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আগের মত এলাকায় খেজুর গাছ নেই। আর খেজুর গাছ কেটে এখন পেট চলে না। বয়স হয়েছে, তাই আমি ওই পেশা ছেড়ে দিয়েছি। তবে আশার আলো, বরেন্দ্র ভূমির চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে মরুভূমির সুস্বাদু ফল খেজুর চাষ করে স্বপ্ন বুনেছেন বৃদ্ধ মোকশেদ আলী ও তার ছেলে ওবাইদুল ইসলাম রুবেল। তাদের বাবা-ছেলের কখনই সৌদি আরব যাওয়ার সুযোগ হয়নি। লোক মুখে আর টেলিভিশনে সৌদি খেজুর চাষের কথা শুনে ইচ্ছে জাগে বাংলাদেশে সৌদি খেজুর চাষ করবেন। দুবছর পূর্বে বপণের পর তাদের সাধনা বাস্তবায়িত হয়। উল্লেখ্য, বরেন্দ্র ভূমির নাচোল উপজেলার ভেরেন্ডি এলাকায় ৯০ শতাংশ জমিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে গড়ে তোলেন সৌদিয়ান খেজুর বাগান। তাদের বাগানে মরিয়ম, আজোয়া, ক্ষীর, সুলতান, খালাসসহ এগারো জাতের খেজুর রয়েছে। প্রায় দুথবছর চাষাবাদ করে খেজুরও পেয়েছেন তিনি বাগান থেকে। সৌদি আরবের সব চেয়ে দামি খেজুর আজোয়া। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খেজুর গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।