• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন

ঢাকা রাজধানীর থেকে বের হওয়ার রাস্তাই ভাঙাচোরা : ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ 


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০২২, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন / ৩১৬
ঢাকা রাজধানীর থেকে বের হওয়ার রাস্তাই ভাঙাচোরা : ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ 

মোঃ রাসেল সরকার,ঢাকাঃ রাজধানী ঢাকা থেকে বের হওয়ার সড়কগুলো কমবেশি ভাঙাচোরা হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের কোথাও না কোথাও মেরামতের কাজও চলছে। আবার কোথাও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব কারণে ঢাকা থেকে বের হওয়ার রাস্তাগুলোয় প্রায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আটকা পড়ছে সব ধরনের গাড়ি। বিআরটি প্রকল্পের আওতায় সড়ক উন্নয়ন কাজ চলায় উত্তরা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা ও বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা টঙ্গী এলাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন। নবীনগর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সংস্কার কাজ চলছে।

সেতু মেরামতের কারণে সড়ক সরু হয়ে দুই লেনে পরিণত হয়েছে। এসব কারণে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের যাত্রীরা তীব্র যানজটের শিকার হচ্ছেন। অপরদিকে সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ী-কুতুবখালী পর্যন্ত ভাঙাচোরা সড়কে গতিতে গাড়ি চলতে পারছে না। গাড়ির চাপ বাড়লে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

পরিবহণসংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদযাত্রা শুরু না হলেও ঢাকা থেকে বের হতেই পথে পথে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ঈদের বাড়তি গাড়ি রাস্তায় নামলে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। তারা বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় পুলিশের তৎপরতা বাড়াতে হবে। ঈদের আগে সড়ক নির্মাণ শেষ করার দাবি জানান।

রাজধানী থেকে বের হওয়ার অন্যতম পথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী-কুতুবখালী অংশ সড়কের করুণ দশা। খানাখন্দে ভরা এ রাস্তায় যান চলাচল ও যাত্রীদের ভোগান্তি এখন চরমে।সরেজমিন দেখা যায়, ওপরে ঝকঝকে ফ্লাইওভার আর নিচে রাস্তাজুড়ে গর্ত। শুকনা মাটি, ময়লা-আবর্জনা আর ধুলাবালি ওই এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ব্যস্ততম এ রাস্তায় দিনরাত সব সময়ই যেন কুয়াশার মতো ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। এ কারণে আশপাশের এলাকার বাসিন্দা এবং এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও যাত্রীরা ভুগছেন শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ী-কুতুবখালী ভাঙা রাস্তার কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন রিকশা,বাইসাইকেল, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের আরোহীরা।
সরেজমিন আরও দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পুলিশের জব্দ করা বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রাখায় সড়কটি সরু হয়ে গেছে। যাত্রাবাড়ী জাতীয় শ্রমিক লীগের অফিসের সামনে সড়ক দখল করে রয়েছে পিকআপ স্ট্যান্ড।

যাত্রাবাড়ী সড়কের দুই পাশের আড়তের সামনে সড়কের অর্ধেকের চেয়েও বেশি স্থান দখল করে বসে মাছ, সবজি ও ফলসহ হরেক রকমের দোকান। এ কারণেও সড়ক সরু হয়ে পড়েছে। এতে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ী আড়তের সামনে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে রিকশা-ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন পারাপারে উলটাপথে এসব গাড়ি এসে সড়কে যানজট সৃষ্টি করছে।
কুমিল্লা অভিমুখী বাসের চালক আবুল কালাম বলেন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রাবাড়ী ও কুতুবখালী অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বেহাল। সড়কে অসংখ্য গর্ত রয়েছে। বাস নিয়ে ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় বাস হেলেদুলে চলে। তখন ভয় হয় বাস উলটে যায় কি না। ট্রাকচালক মনির হোসেন বলেন, যাত্রাবাড়ী আসার পর আমার গাড়ি গর্তে পড়ে যন্ত্রাংশ ভেঙে আটকে পড়ে থাকে।

সড়কে ভাঙাচোরা থাকায় গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন ওয়ারী বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার, (ট্রাফিক এসি) তরিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে কুতুবখালী পর্যন্ত সড়কে অসংখ্য গর্ত। খানাখন্দ সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।
অপরদিকে রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কের অবস্থাও নাজুক। বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলায় এ সড়ক সংস্কার করছে না সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। অপরদিকে প্রকল্প থেকেও সড়ক সংস্কারের তেমন উদ্যোগ নেই। সরেজমিন দেখা যায়, বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের মাঝপথে বড় আকৃতির ব্লক পড়ে আছে। কোথাও কোথাও বড় ধরনের ভাঙাচোরাও রয়েছে। টঙ্গী ব্রিজ থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্তও সড়কের ওপর পড়ে আছে নির্মাণসামগ্রী। কোথাও সড়কে নতুন করে পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও পিচ ঢালাই নেই।

অনাবিল পরিবহণের চালক রাসেল বলেন, বছরের পর বছর এ রোডে ভোগান্তিতে আছি। সড়ক মেরামত চলছে ধীরগতিতে। রাস্তার দুই পাশের কিছু অংশে পিচ ঢালাই থাকলেও মাঝ বরাবর কোনো আইল্যান্ড নেই। ফলে গাড়ির একটু চাপ বাড়লেই এক গাড়ি আরেক গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে যানজট তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাসের যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেশি।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে নবীনগর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও ডিভাইডার বসানোর কাজ চলছে। আমিনবাজারের পরপরই একটি সেতুর সংস্কার কাজ চলছে। এ মহাসড়কে দ্রুতগতির সঙ্গে ধীরগতির গাড়িও চলছে একই সঙ্গে। রাস্তায় হাটবাজার ও গাড়ির স্ট্যান্ডও রয়েছে। এ রাস্তায় প্রায় থেমে থেমে যানজট হচ্ছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক কারখানা ছুটি হলে যানজটের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে সড়ক সংস্কার ও যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, সার্ভিস লেন দখল করে হকার্সদের ব্যবসা করাও যানজটের কারণ।

ঢাকা-ধামরাই রুটের বাসচালক নুরুল ইসলাম বলেন, সড়কের কাজ শুরু করেছে দুই বছরের বেশি হবে, এখনো শেষ হয়নি। সড়কে নির্মাণসামগ্রী রেখে সংস্কারকাজ করছে। এছাড়া সড়কের দুই পাশে হকারদের দখলের কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় যানজট সৃষ্টি হয়। ট্রাকচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বেশ কয়েকটি স্থানেই রাস্তার কাজ চলছে। কিন্তু সাভার বাসস্ট্যান্ডে যেমন মানুষের চাপ বেশি, তেমনই রাস্তার কাজে বিশৃঙ্খলাও বেশি।