• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৩২ ইট ভাটায় জ্বলছে কাঠ : ধ্বংস হচ্ছে বন ও পরিবেশ


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৬, ২০২২, ৫:০৫ অপরাহ্ন / ১৮
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৩২ ইট ভাটায় জ্বলছে কাঠ : ধ্বংস হচ্ছে বন ও পরিবেশ

মোঃ রাসেল সরকার, টাংগাইল থেকে ফিরেঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইটভাটাগুলোতে প্রকাশ্যে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। আর এসব ইটভাটা সংরক্ষিত বন এলাকার পাশেই গড়ে উঠেছে। ওই সব ভাটার লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র কোনোটাই নেই। আইন অনুযায়ী কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই। এ কারণে বন ও পরিবেশ দুটোই ধ্বংস হচ্ছে।

ইটভাটা মালিক সমিতির দেওয়া তথ্য মতে ঘাটাইল উপজেলায় এ বছর চালুকৃত ভাটার সংখ্যা ৪৫টি। এর মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ১৩টির। বাকি ৩২টি ভাটার কোনো লাইসেন্স নেই।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ধলাপাড়া এলাকার সোনার বাংলা, বংশাই, ভাই ভাই ও আশিক ব্রিকস, রসুলপুর এলাকার সোনালী, সততা, আকাশ, তিতাস ও যমুনা ব্রিকস, দেউলাবাড়ি এলাকার এমএসএম ও আরএসএম, আনেহলা এলাকার মিশাল ও সিয়াম ব্রিকস, আন্দিপুর এলাকার কেআরবি, লোকেরপাড়ার কনক ও দেওপাড়া এলাকার এমআরটি ব্রিকস প্রকাশ্যে কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছে। এ সব ইটভাটা বন এলাকায় হওয়ায় অতি সহজেই জ্বালানি কাঠ মিলছে।

ভাটা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি মেট্রিকটন কয়লার দাম ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। অপরদিকে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায় এক মেট্রিক টন কাঠ।

ইটভাটা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রতি ভাটায় ইট পোড়াতে দিন-রাতে সাত থেকে প্রায় আট মেট্রিকটন কাঠের প্রয়োজন হয়। এসব কাঠের জোগান অধিকাংশই আসে বন থেকে। অথচ আইন অনুযায়ি জ্বালানি কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপরও অবাদে চলছে এ কাজ। ঘাটাইলে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ হাজার ৭১১ একর। পাহাড়িয়া এলাকার সামাজিক ও সংরক্ষিত বনের প্রচুর গাছ রয়েছে। পাহাড়ের স্থানীয় জনগণ জানায়, প্রতিরাতেই ট্রাক ভরে বনের কাঠ যায় ইটের ভাটায়। আর সেই কাঠ দিয়ে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ইট পোড়ানো হয়। রসুলপুর পেচারআটা এলাকার সোনালী ব্রিকসে গিয়ে দেখা যায়, কাঠ ভর্তি ট্রাক খালাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।

এলাকাবাসীর শঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই বন ধ্বংশ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো ভাটার মালিকগণ কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বনের কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান বলেন, বন ধ্বংস করে ইট পোড়ানো সমিতি সমর্থন করেনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরই মধ্যে ভাটার মালিকদের ডেকে কাঠ দিয়ে ইট না পোড়াতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নীতিমালায় স্পস্ট বলা আছে, ইট পোড়ানোর ক্ষেত্রে জ্বালানী কাঠের ব্যবহার বেআইনী। অতিদ্রুত প্রশাসন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিবেশ তার ভারসাম্য হারাবে।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, আইন অনুযায়ী ইট পোড়াতে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যে ভাটাগুলো এ কাজে জরিত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউএনও মুনিয়া চেীধুরী বলেন, ইট ভাটায় কাঠ না পোড়ানোর জন্য নির্দেশনা রয়েছে। তা স্বত্তেও যদি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে তার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।