বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শ্রীমঙ্গল এ র‍্যাব ৯ এর অভিযান এ ৬৭০ পিস ইয়াবা সহ আটক ১ মৌলভীবাজার এর তরুণ আইটি উদ্যোক্তা তারেক আহমদের গল্প দোয়ারা বাজারে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন যশোরের শার্শায় কিশোরকে খুন করে ইজিবাইক ছিনতাই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের অভিনন্দন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাদকসহ ভ্যান চালক আটক লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় শিশু ধর্ষন চেষ্টার আসামী গ্রেফতার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের শ্রদ্ধা কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে পূরবী বাসের চাপায় সিএনজি চালকসহ নিহত ৪ নড়াইলের কালিয়ায় ইজারা বহির্ভূত স্থানে বালু উত্তোলন করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা



টাকা ছাড়া ঘোরে না চাকা : রোড পারমিট,ফিটনেসবিহীন, লক্কর-ঝক্কর পরিবহন চলাচল করছে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৩১ Time View

ঢাকা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমড়াইল মোড় এলাকায় রোড পারমিট ছাড়া, ফিটনেসবিহীন, লক্কর-ঝক্কর পরিবহন চলাচল করছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফিটনেস না থাকলেও হাইওয়ে পুলিশকে প্রতিমাসে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে পরিবহনগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মহাসড়ক। পরিবহন মালিক ও চালকদের দাবি, টাকা না দিলে ঘোরে না তাদের পরিবহনের চাকা। এসকল গাড়িতে প্রতিনিয়ত নানা অপকর্মও চলছে। সম্প্রতি যুব কল্যাণ পরিবহন নামের একটি গাড়িতে নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় নগরীজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ ধর্ষককে আটক করা হয়।

মহাসড়কে চলাচল করা ফিটনেসবিহীন পরিবহনগুলোর মালিক, চালক ও হেলপাদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার মূল প্রবেশপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, শিমড়াইল মোড়, কাঁচপুরের দেড়শতাধিক পরিবহনের কাউন্টার থেকে প্রতিমাসে পাঁচ থেকে দশ হাজার করে প্রায় দশ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। রোড পারমিট ছাড়া চলাচলকারী দূরন্ত পরিবহন থেকে প্রতি মাসে দশ হাজার টাকা, যুব কল্যাণ সংস্থা পরিবহন থেকে পনের হাজার টাকা, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিবহন থেকে পনের হাজার টাকা, নাফ পরিবহন থেকে বিশ হাজার টাকা তোলা হয়। লাল সবুজ পরিবহন থেকে পনের হাজার টাকা, রজনী গন্ধা থেকে বিশ হাজার, বন্ধু পরিবহন থেকে বিশ হাজার, মনজিল পরিবহন থেকে বিশ হাজার, ঢাকা টু আদমজী চলাচলরত পরিবহন থেকে মাসিক পনের হাজার টাকাসহ পূর্বাঞ্চলের একুশ জেলায় চলাচলরত কয়েক হাজার পরিবহন থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হয় ট্রাফিক পুলিশের নামে। এছাড়া মহাসড়কে নিষিদ্ধ লেগুনা, সিএনজি, অটোরিকশা, নসিমন, করিমন, মহাসড়কে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিমড়াইল মোড় ও কাঁচপুর এলাকায় অবৈধ লেগুনা ও ভটভটি থেকে মাসিক হারে উত্তোলন করা হচ্ছে চাঁদা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক জানান, শিমড়াইল ও সাইনবোর্ড এলাকায় হাইওয়ে পুলিশকে মাসিক হারে চাঁদা না দিলে আমাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হয়। মাসিক টাকা দিতে বিলম্ব হলেও আমাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। টিআই মশিউর রহমান ও কাঁচপুর হাইওয়ের পুলিশের টিআই ওমর ফারুকে প্রতিমাসে মাশোয়ারা না দিলে রেকার দিয়ে গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠিয়ে দেন। তাই বাধ্য হয়ে আমরা তাদের নির্ধারিত পরিমাণ টাকা প্রতিমাসে পরিশোধ করতে হয়।

শিমড়াইল মোড় এলাকায় এক কাউন্টার ব্যবসায়ী জানান, আমরা হাইওয়ে পুলিশের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করতে হলে তাদেরকে মাসিক হারে পাঁচ থেকে পনেরো হাজার পর্যন্ত টাকা দিতে হয়। হাইওয়ে পুলিশকে মাসিক ও দৈনিক হারে চাঁদা না দিলে তাদের গাড়ি চলে না।

পরিবহন ব্যবসায়ী আলমাছ আলী জানান, আমাদের ব্যবসা হউক আর না হউক হাইওয়ে পুলিশকে মাস শেষে টাকা দিতেই হবে। না হলে আমাদের চালক হেলপাকে জিম্মি করে রেকার দিয়ে পুলিশ বক্সের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখে। তাই ভাবছি এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো ব্যবসা শুরু করবো।

শিমড়াইল মোড়ে বাস কাউন্টার মালিক সমিতির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, আমরা এই ব্যবসায় জড়িত হয়ে খুব বিপদের মধ্যে আছি। হাইওয়ে পুলিশের অত্যাচারে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। মাসিক টাকা নেওয়ার পরেও বিভিন্ন রকম হয়রানীর মুখে পড়তে হয় আমাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ করিম খাঁন জানান, বিভিন্ন পরিবহন থেকে মাসিক হারে কোনোরকম চাঁদা উত্তোলন করা হয় না। রোড পারমিট ছাড়া কীভাবে বিভিন্ন পরিবহন চলাচল করছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা মোতাবেক ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত কোনো পরিবহন মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া যাবে না। সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে আপাদত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। তবে খুব শিগগিরই এ সকল পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর রিজিওয়েন পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খাঁন জানান, পরিবহন থেকে কোনো হাইওয়ে পুলিশ চাঁদা নেওয়ার সাথে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।



Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category



© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin