• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

জেলা পরিষদ ভোটে যত কান্ড


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৯, ২০২২, ৪:২৭ অপরাহ্ন / ২০
জেলা পরিষদ ভোটে যত কান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করছে। সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে। ইভিএম ভোটে নানা কান্ডও ঘটেছে। জেলা পরিষদের সাধারণ সদস্য পদে হেরে গিয়ে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বলেছেন, ‘ইভিএম মানেই ১০০ পারসেন্ট ভুয়া যাকে মন চায় তাকেই জেতানো সম্ভব।’ অনেক প্রার্থী ইভিএমে শূন্য ভোট পেয়েছেন। প্রার্থীদের প্রশ্ন প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর ভোট গেল কই? এক প্রার্থী ইভিএম ভোটে হেরে ভোটারকে দেওয়া টাকা ফেরত নিয়েছেন। আবারও কেউ জাল টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার নির্বাচনে অনেক প্রার্থী সমান ভোট পাওয়ায় ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে লটারিতে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে সন্দ্বীপ কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) কারিগরি ত্রুটির কারণে অন্তত ২০ মিনিট ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। তবে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ভোট গ্রহণে পাঁচ থেকে সাত মিনিট দেরি হয়েছে। কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে লালমাই উপজেলায় ১০ মিনিট দেরিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সময় নির্ধারণ করা থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে পরাজিত হয়ে নিজের ফেসবুক পেজে ইভিএম নিয়ে মন্তব্য করেছেন এজেডএম সেকেন্দার আলী মন্ডল নামে এক প্রার্থী। তিনি পীরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। সোমবার ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণায় দেরি এবং ভোট গণনার সময় কক্ষে থাকতে না দেওয়ায় ইভিএম নিয়ে পরপর ফেসবুকে ছয়টি পোস্ট দেন এই প্রার্থী। সেকেন্দার আলী একটি পোস্টে বলেন, ‘পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় চোরটার নাম ইভিএম।’ অপর একটি পোস্টে বলেন, ‘ইভিএম মানেই ১০০ পারসেন্ট ভুয়া যাকে মন চায় তাকেই জেতানো সম্ভব।’ আরও একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘পীরগঞ্জে ইভিএমে ভোট শেষে যে প্রিন্ট আউট করা হয়, এজেন্টদের আড়াল করে সেটা করা হয়েছে। প্রিন্ট আউটের কাগজ এজেন্টদের দেখানো হয়নি। হাতে লেখা কাগজ দেখানো হয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেকান্দার আলী মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ করা এখন কঠিন। মনে হয় আমি আর আওয়ামী লীগ করব না। তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট গ্রহণের পর ফল প্রকাশেও দেরি করা হয়। এ সময় আমার এজেন্ট প্রতিবাদও করেছে। পাশাপাশি ভোটের রেজাল্ট শিট প্রিন্ট করা কপি না দিয়ে হাতে লেখা রেজাল্ট শিট দিয়েছে। আমরা প্রার্থীরা ভোট গণনার সময় থাকতে চাইলেও প্রিসাইডিং অফিসার থাকতে দেননি। ভোট না দেওয়ায় এক ইউপি সদস্যের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত নারী সদস্যপ্রার্থী মোসা. রুবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে স্থানীয় ওই ইউপি সদস্যের সঙ্গে টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বাগ্বিতন্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এদিকে নেত্রকোনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ছোট সতীনের কাছে হেরে গেছেন বড় সতীন। ওই ওয়ার্ডে সুরমি আক্তার সুমি অটোরিকশা প্রতীকে ৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন বড় সতীন আনোয়ারা বেগম। জাল টাকায় ভোট কিনে জিতলেন : সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ড সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় জাল টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার অভিযোগ উঠেছে সদস্য প্রার্থী সুমন সরকারের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও ছোট কোরআন শরিফ হাতের মধ্যে রেখে কৌশলে ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি টক অব দ্য জেলায় পরিণত হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচন শেষে জাল টাকা দিয়ে কৌশলে প্রতারণা করে ভোট ক্রয় করেছেন এমন অভিযোগ তুলেছেন সাত ইউপি সদস্য। অবশ্য নির্বাচনে প্রতারক প্রার্থী সুমন সরকারই জয়লাভ করেছেন। নির্বাচনের পর ইউপি সদস্যরা নকল টাকা চালাতে না পেরে ওই জাল টাকা নিয়ে প্রার্থীর কাছে গেলে তিনি উল্টো পুলিশের ভয় দেখিয়ে ভোটারদের তাড়িয়ে দেন। অভিযুক্ত প্রার্থী সুমন সরকার রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য পদে (বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগেও তিনি জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন।