• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

জেলা পরিষদ নির্বাচন : ৩৬ প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে একমাত্র বিজয়ী নারী মনোয়ারা


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৭, ২০২২, ১১:২১ অপরাহ্ন / ১৪
জেলা পরিষদ নির্বাচন : ৩৬ প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে একমাত্র বিজয়ী নারী মনোয়ারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম: জেলা পরিষদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাফর আলী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ায় শুধু সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় দুপুর ২টায়। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদ ছাড়াও সাধারণ সদস্য পদে নারী প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সাধারণ সদস্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত ফুলবাড়ী উপজেলার প্রার্থী মোছা. মনোয়ারা বেগম। তিনি হাতি প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন।

মনোয়ারা বেগম ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকারের স্ত্রী। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে (ফুলবাড়ী) সাধারণ সদস্য পদে হাতি প্রতীক নিয়ে ৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন মনোয়ারা বেগম। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আশরাফুল আলম মণ্ডল তালা প্রতীকে পান ৩৪ ভোট। উপজেলায় ছয় ইউনিয়নে মোট ভোট সংখ্যা ছিল ৮১।

প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয় লাভ করার উচ্ছ্বসিত মনোয়ারা বেগম। তিনি তার অবস্থান থেকে গরিব মানুষের জন্য কাজ করতে চান। বিজয় লাভের পর নিজের অনুভূতি জানতে চাইলে মনোয়ারা বেগম বলেন, আমি অত্যন্ত খুশি। আমার বিজয়ের জন্য সম্মানিত ভোটার ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের জন্য কাজ করতে চাই।

নিজে জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরও স্ত্রীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার বলেন, এবার আমার স্ত্রী আমাকে বললেন, সারাজীবন কিছু চাইনি। আমি এবার নির্বাচন করতে চাই। প্রথমে রাজি না হলেও পরে রাজি হয়ে যাই।

নির্বাচনে স্ত্রীকে সহযোগিতা করেছেন কিনা, এমন প্রশ্নে গোলাম রব্বানী বলেন, আমি তাকে কী সহযোগিতা করবো। তিনিই তো আমাকে সারাজীবন সহযোগিতা করে আসছেন। আমার বাবা আমৃত্যু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি দুই মেয়াদে ইউপি চেয়ারম্যান ছিলাম এবং দুই মেয়াদের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। আমার স্ত্রী আমাদের বাবা-ছেলের জন্য কাজ করেছেন। আমার স্ত্রী এলাকার মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। আমার আর তার মধ্যে নির্বাচন হলে আমিই হেরে যাবো।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলার নয় উপজেলাকে ৯টি ওয়ার্ড ও তিনটি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। ৯ ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে (ফুলবাড়ী) মনোয়ারা বেগম এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডে (সদর) মোছা. জেসমিন আরা বেগম সাধারণ সদস্য পদে পুরুষদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিন ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ১০ প্রার্থী। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য পদে ৯ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে তিন জন নারী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাফর আলীকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। জাফর আলী এর আগের মেয়াদেও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।