• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:৪৮ অপরাহ্ন

চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ালো বিআরটিসি


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২০, ২০২৩, ৯:১৫ অপরাহ্ন / ৮৬
চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ালো বিআরটিসি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত করতে নিরলস ভাবে কাজ করছেন সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম। বিআরটিসিতে যোগ দেবার পর তার নানা পদক্ষেপে বর্তমানে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সংস্থাটি। হাজার কোটি টাকা ঋণের ভারে ন্যুব্জ প্রতিষ্ঠানটি এখন লাভের মুখ দেখেছে। করছে ধারাবাহিক মুনাফা । গত তিন বছরে বহরে নতুন বাস ও ট্রাক যোগ না হলেও আয় আড়াই গুণ বেড়েছে। এক সময় ৮ মাস বকেয়া পড়লেও ৮৭৩ জন নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের পরও টানা আড়াই বছর নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন বিআরটিসির কর্মীরা। অপরাধের শাস্তিও পেতে হচ্ছে। এমন সব সফলতার কারণে ২০২১-২২ অর্থবছরে জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারও পেয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম।

২০২১ সালে ৭ই ফেব্রুয়ারী মাসে সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর তাজুল ইসলামের আন্তরিকতা, সততা ও সাহসী ভূমিকায় এবং তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিআরটিসি। ফলে মাত্র দুই বছরে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপ নেয় বিআরটিসি। স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ, গাড়ি চালক ও কারিগরদের প্রশিক্ষণ, বিনোদন ছুটি, সঞ্জীবনী প্রশিক্ষন এমন সব উদ্দ্যেগ রুগ্ন এই সংস্থাটিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। বিআরটিসির প্রধান কার্যালয় ও ডিপোগুলোর কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা সংস্থার আয় থেকে মাসের প্রথম দিনে পরিশোধ করা বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের অন্যতম সফলতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া তিন মাস অন্তর অন্তর গ্রাচুইটি (সিপিএফ) ও ছুটি নগদায়নের টাকা অনলাইনে পরিশোধের ব্যবস্থা করেছেন।

এ সকল বিষয়ে জানতে চাইলে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আমি বিআরটিসিতে আসার পর প্রথমেই দেখেছি কেন প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। ঘুরে না দাঁড়ানোর কারণ গুলো খুঁজে বের করেছি। তারপর কিছু কারণ ধরে কাজ করেছি। আমার চিন্তা ছিল আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় সংকোচ করতে হবে। এই নীতি কাজে লাগিয়েছি। তাতে কাজ হয়েছে। সেবার মান বাড়িয়ে আয় বাড়িয়েছি, ব্যয় কমিয়েছি। এতেই বিআরটিসি একটা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতি মাসের ১ তারিখে আমরা একযোগে সারা দেশের সব কর্মচারীর বেতন দিয়েছি, যা বিআরটিসির ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথমবারের মতো সংস্থাটির প্রধান হিসেবে যোগ দেবার পূর্বে সংস্থাটির কর্মকর্তা কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রাচুইটি বাবদ ১৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা, সিপিএফ বাবদ ১২ কোটি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সেই সাথে ছুটি নগদায়ন বাবদ এক কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। আবাসিক অনাবাসিক সব কর্মকর্তা কর্মচারীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেবার ব্যবস্থা সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়িয়েছে। বিআরটিসির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের নির্দেশনায় আর্টিকুলেটেড বাসে রাবার বিলোস প্রস্তুত করে গাড়িবহরে আর্টিকুলেটেড বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বর্তমানে ৯৬ শতাংশ বাস নিয়মিত সড়কে চলছে।

বর্তমানে বিআরটিসি যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন করে আয় করছে। এর পাশাপাশি ড্রাইভারদের ট্রেনিং দিয়েও আয় করছে সংস্থাটি । তবে ট্রেনিং দেয়ার জায়গাটিকে উচ্চ মাত্রায় নিয়ে যাবার পরিকল্পনা হাতে নেন তাজুল ইসলাম । বিআরটিসিতে চালানোর অনুপযোগী গাড়িগুলো বিক্রি করেও আয় বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান আসার পর বিআরটিসিতে ৯০০ গাড়ি ছিলো পর্যায়ক্রমে তা ১ হাজার ৩০০ গাড়িতে উন্নীত হয়েছে।

বিআরটিসি শীর্ষক রোকন উদ্দিন আহমেদের গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে যেখানে মোট যাত্রী পরিবহনের ৫৪ শতাংশ হতো, সড়ক পথে ১৯৯৭ সালে সেটি ৭২ শতাংশে এসে দাঁড়ায়। ২০১৪ সালে দাঁড়ায় ৯৫ শতাংশে। বিআরটিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন করে আগামী জানুয়ারিতে ৩৪০ বাস বহরে যুক্ত হবে। ফলে নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক পরিবহন সুবিধা বাড়বে। সরকারি বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের মতো লোকসানে ধুঁকতে থাকা সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ আশার সঞ্চার করেছে অন্যান্য সংস্থায়ও।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশের পরিবহন অবকাঠামো প্রায় পুরোটাই বিপর্যস্ত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পর সড়কপথে পরিবহন ব্যবস্থা সচল করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারত থেকে ২০টি ট্রাক ও ২০টি বাস আনার নির্দেশ দেন। এই সময়ই ইপিআরটিসির নাম বদলে রাখা হয় বিআরটিসি (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন)। তবে বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) কার্যক্রম শুরু করে আরো পরে। ১৯৮৮ সালে। ১৯৯১ সালে সড়ক নেটওয়ার্ক দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৭১ হাজার কিলোমিটারে। ১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু তৈরি হলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হয়।