• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:০৮ অপরাহ্ন

চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত আদিতমারী উপজেলাবসী এক তৌফিকের অত্যাচারে কোন ডাক্তারই থাকেন না লালমনিরহাটের আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২২, ৩:৫৬ অপরাহ্ন / ১০৩
চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত আদিতমারী উপজেলাবসী এক তৌফিকের অত্যাচারে কোন ডাক্তারই থাকেন না লালমনিরহাটের আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ একজন তৌফিকের অত্যাচারের কারনেই কোন ডাক্তার থাকতে চান না আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে। এ কারনেই দীর্ঘ দিন থেকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে গোটা আদিতমারী উপজেলাবসাী। এমনই অভিযোগ পাওয়া গেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তৌফিক আহমেদের বিরুদ্ধে।

ডাঃ তৌফিক আহমেদের সীমাহীন দূর্নীতির কারনে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, রোগীর আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় সচেতন মহলসহ প্রায় শতাধিক সাধারণ মানুষের গণ সাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে।

শুক্রবার (২২ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন (সিএস) ডাঃ নির্মলেন্দু রায় গণ পিটিশনসহ একটি অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, খুব তারাতারি একটি তদন্ত টিম গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করা তদন্ত রিপোর্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হবে।

এর আগে গত রবিবার (১৭ জুলাই) চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, রোগীর আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় সচেতন মহলসহ প্রায় শতাধিক সাধারণ মানুষের গণ সাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,জেলার আদিতমারী উপজেলা’র স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌফিক আহমেদ, কোড নং-১৩৩৩১২। কর্মহীন দুর্নীতি ও কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার গালাগালি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ এমন এক পর্যায় এসে দাড়িয়েছে যে, যেকোন সময় আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশৃঙ্খলার সৃস্টি হতে পারে। তার দূর্নীতি এবং অশোভন আচরণের কারণে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ডাক্তারই থাকতে চান না। চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গোটা আদিতমারী উপজেলাবসাী। এ কারনেই এলাকাবাসী, সাধারন জনগন ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও নিয়মানুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর অফিস শনিবার হতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খোলা থাকলেও তা মানেন না এই কর্মকর্তা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেখে প্রতি শনিবার অফিস বন্ধ রাখেন বলেও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

সূত্রমতে, সিবিএইচসি হতে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৭ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা পিট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ প্রদান করে স্থানীয় কোটেশনের মাধ্যমে নির্মাণের আদেশ প্রদান করেন। তবে আদেশ না মেনে তিনি বিনা কোটেশনে তার বন্ধু রংপুর গংগাচড়ার মাধ্যমে নামমাত্র কোটেশনে পিট নির্মাণের কাজ করেন এবং কাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই টাকা উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে নেন। যেটি তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

এছাড়া করোনা টিকা প্রদানে টিকাদান কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদের ভাতায় কোন ধরনের ভ্যাট ট্যাক্স না থাকলেও তিনি ১৫% টাকা কর্তন করে আত্মসাত, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সপ্তাহে ভ্যাট ট্যাক্সের কথা বলে ১৫% টাকা কর্তন করে আত্মসাত,জাতীর পুষ্টি সপ্তাহের সরকারের একটি নির্দিষ্ট সময় দিয়ে সারা বাংলাদেশে তা একযোগে পালন করার নির্দেশ থাকলেও নামমাত্র রেজুলেশন করে পুষ্টি সপ্তাহের অর্থ উত্তোলন করে সাত দিনের কার্যক্রম একদিনে শেষ করণ, যানবাহন গ্যারেজ নির্মানের কথা বলে, আদিতমারী হাসপাতালের ৩০টি মেহগনী পাছ বন বিভাগের অনুমতি ব্যতিরেকে কর্তনসহ নানা অনিয়মের কথা অভিযোগে উল্লেখ করেন অভিযোগকারীরা।তাছাড়া তার জন্য বরাদ্দ সরকারি গাড়িটি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত কাজ,ভ্রমণ ও আত্মীয়-স্বজনের কাজে ব্যবহারসহ মেরামত করার নাম করে অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ করছে তারা।

আদিতমারী উপজেলা থানা কমপ্লেক্সের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তাই তার কথাতেই চলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। একমাত্র তার কারনেই এখানে নতুন কোন ডাক্তার বেশিদিন থাকেন না। যে কারনে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গোটা আদিতমারী উপজেলাবসাী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে তিনি আমাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।

লিখিত অভিযোগে সাক্ষরকারী হোসাইন মোঃ নদিমুল আলম,আশরাফুল,মোঃ মাহফুজার, আলামিন মুন্না, ইব্রাহিম মিয়া,আব্দুস সামাদ,এবিএম রেজাউল করিম, লাভলু মিয়া,হাবিবুর রহমান, আবুল কালাম, মোফাজ্জল হোসেন, আবু সাঈদ নয়ন,সাইদুল হক এবং সেবা প্রত্যাশী রোগী,রোগীর আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক সাধারন মানুষের দাবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসপাতালের উন্নয়নের কথা বলে উল্লেখিত অভিযোগহ নানাভাবে দূর্নীতি করছে। তাই বিষয়গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।

তবে আদিতমারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তৌফিক আহমেদের নিকট জানতে চাওয়া হলে কোনো মন্তব্য করতে পারবো না বলে সাফ জানিয়ে দেন। তাছাড়া এ ধরনের গণ পিটিশনের কপি আমি পাইনি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন, ডাঃ নির্মলেন্দু জানান,ডাঃ তৌফিক আহমেদের বিরুদ্ধে গণ পিটিশনসহ একটি অভিযোগের কপি পেয়েছি। খুব তারাতারি তদন্ত টিম গঠন করে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।