মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ০৯:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ব্যবসায়িক হত্যার মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড রাজধানীর কমলাপুরে কালোবাজারের টিকিট বিক্রয়ের সময় ৫ জন আটক নরসিংদী ডিবি কর্তৃক ২০ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে দেড় লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী জাপায় এরশাদের পরে রওশনের স্থান: বিদিশা মুন্সীগঞ্জে পিটিয়ে একজনকে গুরুতর আহত চাঁপাইনবাবগঞ্জে কাউন্সিলর রাজুর অতিষ্ঠে ৩ নাম্বার ওয়ার্ড বাসি ভুক্তভোগীর থানায় অভিযোগ জাতীয় প্রেসক্লাব মাঠে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা সাবেক ছাত্রলীগ নেতার যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় ফেনসিডিলসহ দুজন আটক ঈদকে সামনে রেখে খুলে গেলো সিরাজগঞ্জের নলকা সেতু

চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১ জুন, ২০২২
  • ৩৬ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ রাজধানীর মিরপুরসহ মতিঝিল এলাকায় চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াত চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩।

র‍্যাব জানায়, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসহায় ও দুস্থ মানুষদেরকে হয়রানি ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল চক্রটি। যদিও তারা কোনো ব্যক্তিকে চাকরি দিতে সক্ষম হয় নাই। গত ৫ বছর যাবৎ এই চক্রটি ৫০ জন চাকরিপ্রার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে এভাবে প্রতারণা করে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রেফতার আসামিরা প্রত্যেকেই আর্থিক লাভের আশায় এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মে) র‍্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মূলহোতা মো. হেলাল উদ্দিন (৫১) ও তার সহযোগী, মো. মফিজুল ইসলাম ওরফে লেবু (৪৭), মো. খন্দকার মারুফ (৩৭) এবং মো. আব্দুল কাদের ওরফে রাজু (২৯) কে গ্রেফতার করে।

এসময় বিভিন্ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সিলমোহর ২৪ টি, ভুয়া নিয়োগপত্র ১১ পাতা, নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তিপত্র ৩ পাতা, মোবাইল ফোন ৮টি এবং নগদ ২১ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে র‍্যাব জানতে পারে, গ্রেফতার মো. হেলাল উদ্দিন প্রতারণা ও জালিয়াত চক্রের মূলহোতা। সে বিভিন্ন লোকের কাছে মোহাম্মদপুর থানার ওসি, কোথাও থানার এসআই হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে আসছে। সে ভুক্তভোগীদের সাথে অত্যন্ত চতুরতার আশ্রয় নিয়ে কথার জালে ফাঁসিয়ে, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত। জালিয়াত চক্রের প্রধান হিসেবে সে বিভিন্ন লোকের নিকট হতে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যা পরবর্তীতে প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের মাঝে ভাগাভাগি করে নিত। চাকরিপ্রার্থী ভুক্তভোগীদের আর্থিক অবস্থানভেদে সে প্রার্থী প্রতি পাঁচ লক্ষ থেকে নয় লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে আসছে।

বুধবার (১ জুন) দুপুর ১২টায় রাজধানীর টিকাটুলি র‍্যাব-৩ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, গ্রেফতার মো. মফিজুল ইসলাম লেবু এবং মো. আব্দুল কাদের রাজু দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে লালমনিরহাট, বগুড়া, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চাকুরিপ্রার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের মো. হেলাল উদ্দিনের কাছে নিয়ে আসতো। মূলহোতা হেলাল উদ্দিন বস সেজে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভুক্তভোগীদের ইন্টারভিউ নিত। পরবর্তীতে উবারের একটি গাড়ি ভাড়া করে, যা সে নিজের গাড়ি বলে দাবি করে সরকারি বিভিন্ন অফিসে সামনে নিয়ে সে গাড়ি থেকে নেমে অফিসের ভিতরে প্রবেশ ও বাহির হয়ে চাকরিপ্রার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করত অতঃপর বিভিন্ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সিলমোহর ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তার ভুয়া স্বাক্ষর সম্বলিত বিভিন্ন অফিস আদেশ এবং ভুয়া নিয়োগপত্র খামে বন্দি করে ভুক্তভোগীদের হাতে ধরিয়ে দিত। ভুক্তভোগীদের সামনে সঠিকভাবে উপস্থাপন ও বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য চাকুরির মেডিকেলের নামে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যেত। প্রথমে তারা প্রতিশ্রুতি দিত যে, চাকরি হওয়ার পর টাকা নেয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে চাকুরিপ্রার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নিকট হতে অগ্রীম টাকা গ্রহণ করত এবং ভুয়া নিয়োগ দেয়ার পূর্বের রাত্রে তারা বলত যে, আরো টাকা দিতে হবে, না হলে আগামীকাল চাকরি কনফার্ম করা যাবে না। ভুক্তভোগীরা চাকরি পাওয়ার আশায় তাদের চাহিদামত অগ্রীম টাকা প্রদান করতে বাধ্য হতো।

লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রেফতার খন্দকার মারুফ চক্রের মূলহোতা মো. হেলাল উদ্দিনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। চাকরিপ্রার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অধিক বিশ্বাস স্থাপনের জন্য মো. হেলাল উদ্দিন, খন্দকার মারুফ এর সহায়তা নিত। মারুফ কথা বলার মাঝেই অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং একটি বিশেষ অঞ্চলের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেকে জাহির করে আরও বিশ্বস্তৃতা অর্জনে মো. হেলাল উদ্দিনকে সহায়তা করতো।

আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মো. হেলাল উদ্দিন বগুড়ার একটি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করেছে। সে নিজেকে মোহাম্মদপুর থানার অবসর প্রাপ্ত ওসি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। গ্রেফতার মো. খন্দকার মারুফ এইচএসসি পাশ। সে অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং একটি বিশেষ অঞ্চলের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেকে জাহির করে আরও বিশ্বস্থতা অর্জনে মো. হেলাল উদ্দিনকে সহায়তা করতো। গ্রেফতার মো. মফিজুল ইসলাম ওরফে লেবু এসএসসি পাশ। সে কুড়িগ্রাম জেলার অলিপুর থানার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার। গ্রেফতার মো. আব্দুল কাদের ( রাজু একটি বেসরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা পাশ। মো. মফিজুল ইসলাম লেবু এবং মো. আব্দুল কাদের রাজু দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে লালমনিরহাট, বগুড়া, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চাকরি প্রার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের মো. হেলাল উদ্দিন এর কাছে নিয়ে আসত। গ্রেফতার আসামিদের বর্তমানে কোনো দৃশ্যমান পেশা নেই। প্রতারণা ও জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাৎই তাদের বর্তমান পেশা।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin