• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন

চাঁদাবাজ ইজারারদার সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে নিউজ করায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ


প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৩, ৫:২৭ অপরাহ্ন / ১৪৫
চাঁদাবাজ ইজারারদার সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে নিউজ করায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নরসিংদীর করিমপুর বাজারে ইজারার টাকা আদায়ের নামে বর্তমান ইজারাদার সেলিম সরকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি এই সংবাদটি প্রকাশিত হলে ইজারাদার সেলিম সরকার তার চাঁদাবাজির দোসর মামলাবাজ, ছিঁচকে চোর ও জুয়াড়ি মাঈনউদ্দিন সরকারের যোগসাজশে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করেছে।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় সেলিম সরকারের চাঁদাবাজির দোসর মাঈনউদ্দিন ইতিপূর্বে ও খোরশেদ মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দেয় যার নং ৮১৮। সেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব ছিলেন পিবিআই। অবশেষে পিবিআইয়ের তদন্ত শেষে উক্ত মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হলে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মিথ্যা মামলার দায়ে মামলাবাজ মাঈনউদ্দিন নিজে জেল খাটে। তাছাড়া ইতোপূর্বে করিমপুর বাজারে চুরির ও জুয়ার আসর বসানোর অপরাধে বহুবার তার বিরুদ্ধে সালিশ হয়েছে। তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগে চাঁদাবাজ ইজারাদার সেলিম সরকার উল্লেখ করেন যে নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ও সদস্য মকবুল হোসেন ওরফে মকবুল কমিশনার তার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পত্রিকায় কোন সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে দুই লাখ টাকা দাবি করেছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

অভিযোগের বিষয়ে সেলিম সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন তাকে দূরে ডেকে নিয়ে সাংবাদিকরা দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। তবে চাঁদা দাবি সংক্রান্ত বিষয়ে তার কাছে কোন প্রমাণ নেই বলে ও জানান তিনি । গত বুধবার (৩ মে) তাদের চাঁদাবাজির বিষয়ে করিমপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তাদের ইজারা বাতিল করে নতুন করে ইজারা দেওয়ার দাবি জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে করিমপুর বাজারে যান নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, সমন্বয়ক মকবুল হোসেন ও সঙ্গীয় সাংবাদিক টিম। সেদিন করিমপুর বাজারে ওই সাংবাদিকগণ সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহে গেলে তার সাথে কথা বলাতো দূরের কথা দেখাই পায়নি কেউ। পরে মোবাইল ফোনে তার বক্তব‍্য নেয়া হয়।

সাংবাদিক টিম করিমপুর বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে দৈনিক অধিকারসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে। এসকল সংবাদ নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়ার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই করে ইজারাদার সেলিম সরকার গং, বাজারের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির সদস্যদেরকে গত ৮ মে একটি লিখিত চিঠি পাঠিয়ে ১০ মে উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে শুনানিতে অংশ গ্রহণ করতে বলেন। যার ফলশ্রুতিতে সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকার এক সময়ের ছেঁচড়া চোর মাঈনউদ্দিনের যোগসাজশে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করে।

(মাঈনউদ্দিনের ছেঁচড়া চুরিসহ বিভিন্ন কার্যকলাপের অনেক আলামত নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন‍্যান‍্যদের কাছে সংরক্ষিত আছে)
উল্লেখ্য গত ৮ তারিখের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১০ মে) দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে ইজারাদার সেলিম সরকার গং, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীবৃন্দ, বাজার কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে শুনানী শেষে সেলিম সরকার গংদের চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হয়। সেখানে তারা নিজেরাই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এককালীন টাকা চাওয়ার কথা স্বীকার করে।

তাছাড়া তিনটি শিডিউল কিনে চালাকি করে একটি শিডিউল ড্রপ করে ইজারা বাগিয়ে নেয়ার বিষয়টিও প্রমাণিত হলে পরবর্তী কার্যদিবসের মধ্যে এমপি সাহেবের সাথে আলোচনা করে তাদের ইজারা বাতিল সংক্রান্ত আদেশ লিখিতভাবে জানানো হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া